প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির সঙ্গে বাড়ছে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা: জাতিসংঘ

লিহান লিমা: বিশ্বব্যাপি কৃষিখাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে জলবায়ু পরিবর্তন, উষ্ণতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা। গতকাল মঙ্গলবার জাতিসংঘের প্রকাশিত ‘বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তা এবং পুষ্টি বিষয়ক’ ২০১৮-র এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে আসে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০১৭ সালে বিশ্বজুড়ে ৮২ কোটি ১০ লাখ মানুষের ৯ জনের মধ্যে ১ জন অপুষ্টির শিকার। ২০১৬ সালে এই সংখ্যা ছিল ৮১ কোটি ৫ লাখ, যা ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘের বিশ্বব্যাপী খাদ্য সংকট হ্রাস করার লক্ষ্যমাত্রাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

প্রতিবেদনে আরো উঠে আসে, ২০১৭ সালে অপুষ্টি সংক্রান্ত খাতে খুব কমই উন্নতি হয়েছে। শিশুদের বৃদ্ধি ব্যাহত, প্রাপ্তবয়স্কদের স্থুলতাবৃদ্ধিসহ শত কোটি মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকির মুখে পড়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক সংস্থা এক বিবৃতিতে জানায়, ‘গত ৩ বছরে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে, এই সংকট এক দশক আগের অবস্থানে ফিরে গিয়েছে। যদি ২০৩০ সালের মধ্যে স্থিতিশীল উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন করতে হয় তবে অতিসত্ত্বর পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

জাতিসংঘ জানায়, দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকার অনেক অঞ্চলে পরিস্থিতি অনেক ভয়াবহ। সাব সাহারা আফ্রিকাতে ২০১০ সালে অপুষ্টির হার ১৮ কোটি ১ লাখ থেকে ২০১৬ সালে ২২ কোটি ২ লাখে বৃদ্ধি পেয়েছে। ৬ বছরে এই বৃদ্ধির হার ২২.৬ ভাগ। ২০১৭ সালে এই সংখ্যা ২৩ কোটি ৬ লাখে পৌঁছেছে।
জাতিসংঘ জানায়, জলবায়ুর পরিবর্তন কৃষিজাত পণ্য উৎপাদনের সময়ে প্রভাব ফেলছে। খরা এবং বন্যার মত পরিবেশ বিপর্যয়ের ফলে খাদ্য সংকটের সৃষ্টি হচ্ছে, সংঘর্ষ বাড়ছে এবং আর্থিক প্রবৃদ্ধি হ্রাস পাচ্ছে।

প্রতিবেদনে উঠে আসে, ২০১৭ সালে অপুষ্টিজনিত কারণে ১৫ কোটি ১ লাখের কাছাকাছি শিশু তাদের বয়সের তুলনায় বেটে হচ্ছে। ২০১২ সালে এই সংখ্যা ছিল ১৬ কোটি ৫ লাখ। আফ্রিকাতে ৩৯ ভাগ ও এশিয়াতে ৫৫ ভাগ শিশুই বয়সের তুলনায় বাড়ছে না। ২০১৭ সালের জরিপে দেখা যায়, ৫ বছরের নিচে ৫ কোটি ৫ লাখ শিশু কম ওজনে ভুগছে। পশ্চিম আফ্রিকায় ৯ ভাগ, দক্ষিণ আফ্রিকায় ৬.৩ ভাগ ও দক্ষিণ এশিয়ায় ১৫.৯ ভাগ শিশু এর শিকার। সিএনএন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ