প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সাভারের চামড়া শিল্পের বর্জ্য শোধনাগারের সক্ষমতা নিয়ে শঙ্কা

সাজিয়া আক্তার : সাভারের চামড়া শিল্প নগরীতে বর্জ্য শোধনাগারের সক্ষমতা নিয়ে শঙ্কা। চলতি মৌসুমে বাড়তি বর্জ্য নিয়ে বিপাকে মালিকরা। দক্ষতা ও দূরদর্শিতার অভাব বলছেন পরিবেশবিদরা

পুরোদমে চালু হওয়ার এক বছর না যেতেই বর্জ্য পরিশোধন সক্ষমতার বেশি চাপ পড়ছে চামড়া শিল্প নগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার, সিইটিপিতে। এই অবস্থায় চলতি মৌসুমে দ্বিগুণ হবে চামড়া পরিপাক করা বর্জ্যের পরিমাণ। বাড়তি তরল বর্জ্য পরিশোধনে সিইটিপির কার্যকারিতা নিয়ে আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট বুয়েট প্রকৌশলী। আর স্বল্প সক্ষমতার সিইটিপি প্ল্যান্ট স্থাপন করাকে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের দক্ষতা ও দূরদর্শিতার অভাব বলে মনে করছেন পরিবেশবিদরা।

নানা জটিলতা কাটিয়ে চালু হয় সাভারের চামড়া শিল্প নগরীর কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার, সিইটিপি। চারটির মধ্যে প্রথমত দুটি মডিউল চালু হয় ২০১৬ সালের শুরুতে। পরের বছর আগস্টে বাকি দুটি মডিউল চালু করলেও দিনের অর্ধ সময়ই বন্ধ রাখা হতো এর কার্যক্রম। বর্তমানে চারটি মডিউল ২৪ ঘণ্টাই চালু রয়েছে, প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা এমনটাই জানালেও ট্যানারি মালিকরা বলছেন, ভিন্ন কথা।

বাংলাদেশ ট্যানার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মো. শাহীন আহমদে বলেন, চারটি মডিউল ২৪ ঘণ্টায় চালু রাখতে হবে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, ১২ ঘণ্টা সিইটিপি চালু রাখছে, আবার ১২ ঘণ্টায় বন্ধ রাখছে।

চামড়া শিল্প নগরীতে জায়গা পাওয়া ট্যানারিগুলোর মধ্যে উৎপাদনে গেছে ৯৫টি। বাকি এক তৃতীয়াংশ প্রতিষ্ঠান চালু হলে কয়েকগুণ চাপ বাড়বে সিইটিপিতে। কিন্তু এখানে নির্মিত সিইটিপির সর্বোচ্চ সক্ষমতা প্রতিদিন ২৫ হাজার কিউবিক মিটার। যদিও মৌসুম ছাড়াই এখনই বর্জ্য শোধনে চাপ পড়ছে ২২ থেকে ২৬ হাজার কিউবিক মিটার। এতে চলতি মৌসুমে বাড়তি চামড়ার বর্জ্য পরিশোধন নিয়ে আশঙ্কার কথা জানান সিইটিপি পরামর্শক।

সিইটিপির পরামর্শ বুয়েট-এর অধ্যাপক অধ্যাপক দেলোয়ার হোসেন, ২৪ ঘণ্টা চালু রাখলে সিইটিপির ২৫ হাজার ফ্লো বেড়ে যাবে। এতে ট্যানারিগুলোকে বিসিকের দরকার প্রত্যেকে ট্যানারি তার উৎপাদনগত এবং পানির কোয়ান্টিটি কত, সেটা যাচাই করা। এবং সেভাবে বাধ্য করা এর বেশি পানি তুমি ছাড়তে পারবে না।

একটি শিল্প নগরী, নদী-খাল ও আশপাশ এলাকার পরিবেশ রক্ষায় এবং একটি স্থাপনা থেকে দীর্ঘমেয়াদী সেবা পেতে প্রয়োজন সুদুরপ্রসারী কাজের বাস্তবায়ন। কিন্তু এই সিইটিপি বিপরীতমুখী হওয়ায় প্রকল্প কর্তৃপক্ষের দক্ষতার অভাবকে দায়ী করছেন পরিবেশবিদরা।

পরিবেশ আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক আবদুস সোবহান বলেন, এই জায়গাটাতেও প্রকল্প পরিদর্শকের ব্যর্থতা রয়েছে। কারণ তারা ফোরসিএ করে নাই। কেননা আমার এ রকম একটা প্রকল্প করতে গেলে কি রকম কর্মযজ্ঞ হবে, সেই অনুযায়ী তাদের সক্ষমতা কি পরিমাণ লাগবে সেটা দেখা হয়নি। আর সিইটিপির পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব হল পরিবেশ অধিদপ্তরের।

দীর্ঘদিন পরিশোধন কার্যক্রম পরিচালনার আশঙ্কা এবং মেশিনারীজ ও যন্ত্রাংশের দুর্বলতার কারণে শীঘ্রই নতুন আরেকটি সিইটিপি নির্মাণ অত্যাবশ্যক হবে বলেও মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

সূত্র : সময় টেলিভিশন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত