প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ডেঙ্গু: আতঙ্কিত না হবার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

অদিত রায়হান: ঢাকা শহরে গাণিতিক হারে বাড়ছে, ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্তের সংখ্যা। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে একধরণের আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। দিনে ৮ জনেরও বেশি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের তথ্যানুযায়ী জানা যাচ্ছে- চলতি মাসের ২০ তারিখ পর্যন্ত বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন, ২১ হাজার ৭০ জন। পাশাপশি এই রোগে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের।

এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী বলেন- জনগণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রধান কাজ করছেন- বিভিন্ন মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিক। তাঁরাই বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রকাশ এবং প্রচার করছেন। এতে সাধারণ মানুষ জানতে পারছেন। ফলে জনগণের মধ্যে বৃদ্ধি পাচ্ছে সচেতনতা। এই রেগের প্রকোপ কমানোর মূল বিষয়ই কিন্তু সতর্ক থাকা। এরপর আসে অন্য পক্ষের কাজ।

ভিন্ন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন- স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের চেয়েও বেশি দায়িত্ব হচ্ছে, সেই সমস্ত কর্তৃপক্ষের, যারা মশা নিধনের সঙ্গে জড়িত। অর্থ্যাৎ, এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দায়িত্ব পালন করতে হবে- সিটি কর্পোরেশনকে। তারপর আসে সরকারের দায়িত্বের কথা। কিন্তু এ নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই। সমন্বিতভাবে, সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করলে, এই সমস্যা বেশি দিন থাকবে না।

অন্যদিকে, এ বিষয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক এবিএম আবদুল্লাহ বলেন- ডেঙ্গু হওয়ার মূল কারণ, জমে থাকা পানি। বিশেষ করে, অভিজাত এলাকায় এই রোগের প্রকোপ বেশি। কারণ, ঘরে বা ছাদে জমে থাকা পানি, ফুলের টবে বহুদিনের অতিরিক্ত পানি থাকাই এই জ্বরের মূল কারণ এবং এই মশা শুধু দিনে কামড়ায়।

তিনি আরও বলেন- জমে থাকা পানিতে মশার প্রজনন বৃদ্ধি পায়। সতর্ক থাকতে হবে- ঘরের কোথাও যেন পানি জমতে না পারে। যতদিন আবহাওয়ার পরিবর্তন না হচ্ছে, ততদিন, এই বৃষ্টির সময়টা সতর্ক থাকতে হবে। এই প্রজাতির মশাকে বস্তি বা গ্রামে-গঞ্জে দেখা মেলা ভার। ফলে শহরবাসীকে বেশি সচেতন হতে হবে।
এ বিষয়ে অভিন্ন মন্তব্য করেছেন- বাংলাদেশ মেডিক্যাল এসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। তিনি বলেন- আমরা এ বিষয়ে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করবো। এ বিষয়ে শনিবার সন্ধ্যায় বিএমএ অফিসে জরুরি বৈঠক রয়েছে। সেখানেই আমরা কর্মপরিকল্পনা ঠিক করবো।

এবার ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ বেশি। এটা পিরিয়ডিক্যালি বেড়ে যায়। গতবছর এর প্রকোপ কম ছিল। এ বছর বেশি। আগামী বছর আবার কম হবে। বললেন- বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি ডা. মো: শহীদুল্লাহ সিকদার। তিনি আরও বলেন- হিমোরেজিক ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগিকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করা হচ্ছে। এটা ভাইরাল ফিভার। সচেতন থাকলে এ বিষয়ে আতঙ্কিত হবার কিছু নেই।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত