প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সারাবিশ্বে উৎসবের আড়ালে যেসব কারণে ঘটে ভয়ঙ্কর সড়ক দুর্ঘটনা

রাশিদ রিয়াজ: ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উৎসবে বাংলাদেশ ছাড়াও বিভিন্ন দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনা আনন্দকে অনেকটা ম্লান করে দেয়। সড়ক অব্যবস্থপনা, বেপরোয়া গাড়ি চালনা,ফিটনেসবিহনীন যানবাহন, ঘরমুখো মানুষের বিশৃঙ্খল যাতায়াত ছাড়াও উপচে পড়া মানুষের চাপে একদিকে যেমন ভঙ্গুর সড়ক চাপ সইতে পারে না তেমনি পশ্চিমা বিশ্বে আনন্দে উত্তাল হয়ে মদপান করে গাড়ি চালানোও এধরনের দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আবার আবহাওয়াগত কারণে প্রবল বৃষ্টিতে সড়ক তলিয়ে যাওয়া বা প্রচণ্ড  ঝড়ে লঞ্চ ডুবে প্রাণহানির ঘটনাতো আছেই। এশিয়ায় বাংলাদেশ ও থাইল্যান্ডে উৎসবে শতাধিক মানুষের দুর্ঘটনায় প্রাণহানি যেন বিধি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সারাবিশ্বে উৎসবে দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ১৩ শতাংশ কারণ হচ্ছে মাদক গ্রহণ। ১৯৯৯ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে কানাডার এক গবেষণা এ তথ্য দিচ্ছে। বিশেষ করে পশ্চিমা সঙ্গীত উৎসবের সময়ে উম্মাতাল তরুণ তরুণীর গাড়ি চালনা ছাড়াও অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর ঘটনাও উল্লেখযোগ্য। গত এপ্রিলে থাইল্যান্ডে ‘সংক্রান’ নামে ৬ দিনের জলউৎসবে সড়ক দুর্ঘটনায় ৩৭৮ জনের মৃত্যু ছাড়াও সাড়ে ৩ হাজার আহত হয়। বাংলাদেশের ঈদে ঘর অভিমুখো মানুষের সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর মত থাইল্যান্ডে ‘সংক্রান’ উৎসবে এধরনের মৃত্যুর মিছিল ফিবছরের। মাদক গ্রহণ, কানে মোবা্ইল ফোন কিংবা অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালনাই এ মূল কারণ।

পশ্চিমা দেশগুলোতে হ্যাপি নিউইয়ার উৎসবে একই কারণে সড়ক দুর্ঘটনার কারণ বৃদ্ধি পায়। অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটে মোটরসাইকেল দ্রুত গতিতে চালাতে গিয়ে। হ্যাপি নিউইয়ার উৎসব এলেই সড়কে ট্রাাফিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ‘সেভেন ডেঞ্জারাস ডে’ সামনে রেখে দায়িত্ব ও কর্তব্য পালনে বিশেষভাবে সতর্ক হয়ে ওঠে। অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে বিকেল থেকে রাতের মধ্যে। অনেক দুর্ঘটনার খবর মিডিয়া পর্যন্ত আসে না। সড়ক দুর্ঘটনার পাশাপাশি পদদলিত হয়ে মৃত্যু বা হাতাহাতিতেও আনন্দ বিষাদের মত ঘটে মৃত্যুর ঘটনা। কানাডার পেমবার্টন এলাকার রয়াল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশ অফিসার স্টাফ সার্জেন্ট স্টিভ লিক্লেয়ার বলেন, উৎসবের সময় বিশেষ আয়োজন থাকলেও ৫’শ মানুষের নজরদারী যখন একজন পুলিশ করে তখন অনেক ক্ষেত্রে আদতে কিছু করার থাকে না।

এমনিতেও সারাবিশ্বে বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ১২ লাখ মানুষের মৃত্যু ও আহতের সংখ্যা ৫ কোটি। উন্নয়নশীল দেশগুলোতে সড়ক দুর্ঘটনায় বেঁচে গেলেও ৩০ থেকে ৭০ ভাগ আহত মানুষ বিছানায় অচল হয়ে পড়ে। এবং  হতাহতের এ হার বজায় থাকলে ২০২০সাল নাগাদ সড়ক দুর্ঘটনাই বিশ্বে মৃত্যুর তৃতীয় কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত