প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দেশ-বিদেশের সকলকে ঈদের শুভেচ্ছা

মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী : কান্না-হাসির পরস্পর সহাবস্থানের বাস্তবতা মেনে নিয়ে চলছে ঈদ উৎসবের প্রস্তুতি। কেনাকাটা, সাজসজ্জা, ঘরে ফেরার তাগিদ। রেলওয়ে ও বিআরটিসি বাসের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরু হয়েছে। তিন-চার দিনের ছুটি কাটাতে গ্রামের দিকে হন্যে হয়ে ছুটছে মানুষ। জনবহুল ঢাকা এখন ফাঁকা। ট্রাফিক জ্যাম নেই, হকার রিক্সাওয়ালার হাঁকডাক নেই। এমন ঢাকা চিরস্থায়ী হোক- এ আকাঙ্খা দানা বাঁধতে না বাঁধতেই আবার কোলাহল, আবার যানজট, উর্ধশ্বাস ছুটে চলা। এই দৃশ্য আর দৃশ্য বদলে একটা বিষয় পরিষ্কার- ঢাকার মোট জনসংখ্যার কমপক্ষে আশি ভাগ খেটে খাওয়া মানুষ ঢাকায় বাস করে অনিচ্ছায়। শুধু বেঁচে থাকার প্রয়োজনে। এ প্রয়োজন যদি তারা নিজের গাঁয়ে বা পাশের শহরে মেটাতে পারতো তাহলে ঢাকা শহরে পা বাড়াতো না। তাদের মানসিক প্রশান্তির জায়গা নিজ গ্রাম, যেখানে রয়েছে বুড়ো মা-বাবা আর ছোট ভাই-বোনেরা। তাদের সাধ্য নেই এদের ঢাকায় এনে একসঙ্গে বাস করার।

মনটা তাই স্বাভাবিকভাবে পড়ে থাকে আপনজনের কাছে। উচ্চ ও মধ্যবিত্তের বিরক্তি যতই বাড়ুক ঢাকা শহরে এদের উপস্থিতি অস্বীকার করার বাস্তবতা নেই। কারণ শহরটি শুরু থেকেই গড়ে উঠেছে অপরিকল্পিতভাবে। শহর ছেড়ে ঈদের আগে রাস্তায় পা বাড়ানোও এক বিড়ম্বনা। ঈদের অন্য আনুষঙ্গিকতার সঙ্গে যোগ হয়েছে রাস্তা মেরামতের মহাযজ্ঞ। এখন মানুষ মোটামুটি অভ্যস্ত হয়ে গেছে যে, ঈদের আগে রাস্তা মেরামতের দক্ষযজ্ঞ চলবে আর যোগাযোগমন্ত্রী প্রতিদিন রাস্তায় নেমে তা তদারক করবেন। এও এখন ঈদ প্যাকেজের অংশ।  এক লাখের বেশি মানুষ কেনাকাটার জন্য ভারত, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড বা পছন্দসই অন্য দেশে ছোটেন। এদের গড় খরচ পঞ্চাশ হাজার করে ধরলেও মোট খরচ পঞ্চাশ কোটিতে দাঁড়ায়। দেশের বাজারের এক লাখ টাকা দামের শাড়ি কিংবা দুই লাখ টাকা দামের ল্যাহেঙ্গা কেনার ‘গর্বিত’ রেকর্ড এরাই করতে পারেন।

এদিকে আমার দীর্ঘকালের কর্মস্থল আমরিকাতে বাংলাদেশ কমিউনিটি সম্প্রসারিত হচ্ছে, ততই বাঙালি সংখ্যা বাড়ছে। কমিউনিটি বাড়ছে, সেখানে দলাদলিও বাড়ছে, । কমিউনিটির দরকার আছে কিন্তু ওখানে এমনভাবে ব্যাঙের ছাতার মতো ছড়িয়ে গেছে এবং কেউ কাউকে মানছে না।  কারণ, আইনি বাধ্যবাধকতা না থাকার কারণে যে ব্যক্তি সংগঠন করার সুযোগ ছিলো না, এখন ঐ ব্যক্তিও ওখানে সভাপতি হওয়ার জন্য স্বপ্ন দেখে। যেহেতু এ পদটা সে চালাতে পারবে না, তবুও ইচ্ছা একটু সভাপতি হয়ে একটা পদবি পাওয়া। সেহেতু একটা সংগঠন ভেঙে আবার নতুন একটা পরিচয় পাওয়ার জন্য কাজ করে। অথচ সে ব্যক্তি যখন ঢাকা এয়ারপোর্টে আসেন, তখন তিনি বুঝতে পারেন, তার জায়গাটা যে কতটা নড়বড়ে। কারণ, ’৯১ এর পরে আমাদের সোসাইটি আয়োজিত বিভিন্ন প্রোগ্রামে অনেক লোক গেছেন। এর ভিতরে যারা শিক্ষা-দিক্ষায় ভাল আছেন, তাদের এক ধরনের স্ট্যাটাস। আর যারা লেখা পড়া জানেন না, তারা লটারি পেয়ে হয়তো গিয়েছে, তাদেরও একটা স্ট্যাটাস।  সেখানে ৯১এ কল দিলেই  তখন পুলিশ আসে, আইন কিন্তু সবার জন্যে সমান। তো এই আইনের সুবিধা নিয়ে সংগঠন করার মতো ক্যাপাসিটি অনেকেই নেয়। তদুপরি আমি বলব, ঈদের শিক্ষা ভ্রাতৃত্ববোধকে কাজে লাগিয়ে দেশে বিদেশে থাকা আমাদের সকলের মধ্যে একটি ভালবাসার সম্পর্ক গড়ে উঠুক, আসন্ন ঈদ উপলক্ষে এটাই আমার প্রত্যাশা।

পরিচিতি : সাবেক সভাপতি, নর্থ আমেরিকা কুমিল্লা সোসাইটি/মতামত গ্রহণ: নৌশিন আহাম্মেদ মনিরা/সম্পাদনা: মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত