প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভালো নেই হেলমেট বাহিনীর হাতে আহত সাংবাদিকরা

ডেস্ক রিপোর্ট: নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের নিউজ কভারেজ করতে হেলমেট বাহিনীর কাছে হামলার শিকার হওয়া সাংবাদিকদের কেউ কেউ পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠলেও বেশ কয়েকজনকে এখনো চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। চিকিৎসকের পরামর্শে তারা নিয়মিত পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধ সেবন করছেন। গত ৪ ও ৫ই আগস্ট সাংবাদিকদের ওপর হামলা হয়। আহত সাংবাদিকরা দাবি করছেন, হামলাকারীরা ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী।

এদিকে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনার পরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় বেশকিছু হামলাকারীদের ছবি প্রকাশ হলে এবং সাংবাদিক সমাজ তাদের গ্রেফতার করতে সরকারকে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিলেও হামলার ১৫দিনর মাথায় এখনো কোনো হামলাকারীকে চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনা হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।

গত ৫ আগস্ট হামলার শিকার প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক আহমেদ দীপ্ত বলেন, আমার শরীরে এখনও অনেক ব্যথা আছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন দুই থেকে আড়াই মাস এই ব্যথা থাকবে। গতকালও আমি স্কয়ার হাসপাতালে গিয়েছিলাম। চিকিৎসকরা আমার শরীর থেকে চারটি সেলাই কেটেছেন। তাদের পরামর্শে ব্যথানাশক ওষুধসহ অন্যান্য ওষুধ নিয়মিত খাচ্ছি। তবে পুরোপুরি সেরে উঠতে আরো সময় লাগবে।

ওইদিন কয়েকজন মিলে রড, লাঠি দিয়ে তাকে মারধর করে বলেন জানান। তিনি বলেন, আমার হাত, পা, পিঠে, নিতম্বে আরো অনেক স্থানে আঘাত পেয়েছি। রডের আঘাতগুলো অনেক স্থানে ধেবে গিয়ে কালো হয়ে গেছে।

ঘাড় ও কোমরের ব্যথায় এখনও কাতরাচ্ছেন কালের কণ্ঠের ফটো সাংবাদিক তারেক আজিজ নিশক। তিনি বাম কাত হয়ে শুতে পারেন না। চিকিৎসকরা তাকে আরো দুই সপ্তাহ বিশ্রামে থাকার কথা বলেছেন। পাশাপাশি নিয়ম করে ওষুধ সেবন করতে হবে। হাত-পা, পিঠসহ শরীরের অনেক স্থানে এখনো কালো দাগ আছে। বিশেষ করে কোমর ও ঘাড়ের ব্যথা খুবই কষ্ট দিচ্ছে।

নিশক বলেন, ঘটনার দিন আমি বিজিবি সদর দপ্তরের ফটকের পাশের ফুটপাথে অবস্থান করছিলাম। শিক্ষার্থী ও ছাত্রলীগ কর্মীদের মধ্যে তখন ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলছিল। আমি মোবাইল ফোনে কয়েকটা ছবি তোলার চেষ্টা করছিলাম। এই দৃশ্য দেখেই তারা আমাকে মারধর শুরু করে। আমি আমার নিজের পরিচয় দিলে তারা আরো বেশি ক্ষেপে যায়। তারা এত পরিমাণ আঘাত করছিল আমাকে যদি মাথায় হেলমেট না থাকত তবে হয়তো আরো বড় ধরনের কিছু হতে পারত।

অ্যাসোসিয়েট প্রেস (এপি) ফটো সাংবাদিক এএম আহাদের পুরো শরীরে এখনো ব্যথা। মারধরের সময় তার মাথায় জখম হয়। চিকিৎসকরা সেখানে বেশ কয়েকটি সেলাই করেন। সেই সেলাইগুলো কাটা হয়েছে। তবে তার দুই হাতে এখনও ব্যান্ডেজ রয়েছে। বর্তমানে এপির এই ফটো সাংবাদিক দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। যোগাযোগ করা হলে তিনি মানবজমিনকে বলেন, ব্যথা নিয়েই চলছি। তবে ধীরে ধীরে সেরে উঠছি।

প্রতি রাতে ব্যথায় কাতরান নয়া দিগন্তের ফটো সাংবাদিক শরীফ হোসেন। হামলাকারীদের লাঠির আঘাতে তার দুই হাত ও পিঠে মারাত্মক আঘাত লাগে। সেই ব্যথা এখনও সারে নি। কিছুদিন অ্যান্টিবায়োটিক চলার পর এখন শুধু ব্যথানাশক ওষুধ চলছে। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন পুরোপুরি ব্যথা সারতে আরো কিছুদিন সময় লাগবে। শরীফ হোসেন বলেন, সেদিন শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার সময় আমার অবস্থান ছিল সায়েন্সল্যাব এলাকার ব্রিজের উপর। ফ্রিলেন্স একজন ফটো সাংবাদিককে হামলাকারীরা বেধড়ক পেটাচ্ছিল। সেই ছবি নিতে গেলে আমাদের গণহারে ধাওয়া করে হামলাকারীরা। তখন সেই ধাওয়ার মধ্যেই আমি পড়ে যাই।

কোমরে ও পায়ের ব্যথা অনেকটা সেরে গেছে বণিকবার্তার ফটো সাংবাদিক পলাশ রহমানের। ল্যাবএইডে প্রাথমিক চিকিৎসা নেয়ার পর বাসায় থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়েই আছেন। পলাশ মানবজমিনকে বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর যখন হামলা চলে তখন ব্রিজের ওপর আমিসহ আরো কয়েকজন ফটোসাংবাদিক অবস্থান করছিলাম। আমাদেরকে ছবি তুলতে বাধা দেয়া হয়। তখন আমরা ব্রিজের উপর থেকে নামছিলাম। ঠিক তখনই হামলার শিকার হই। আমার সঙ্গের অনেকেই মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিল। তবে আমি নিজেকে রক্ষা করতে পেরেছিলাম। হামলাকারীরা লাঠি দিয়ে আমাকে কয়েকটা আঘাত করে। এখন অবস্থা অনেকটা ভালো। ব্যথানাশক মলম ও ওষুধ চলছে। দাগগুলোও শুকিয়ে যাচ্ছে।

এ ছাড়াও আন্দোলন চলাকালীন হামলায় আহত হয়েছিলেন- মাবজমিন এর প্রধান ফটো সাংবাদিক শাহীন কাওসার, অনলাইন নিউজ পোর্টাল সারা বাংলার বিশেষ প্রতিনিধি গোলাম সামদানি, নাগরিক টিভির স্টাফ রিপোর্টার আব্দুল্লাহ শাফি, আমেরিকাভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম জুমা প্রেসের রিমন, প্রথম আলোর সাজিদ হোসেন, নাগরিক টিভির কামরুল হাসান, অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিডি মর্নিংয়ের আবু সুফিয়ান জুয়েল, জনকণ্ঠের ইবনুল আসাদ জাওয়াদ, ফ্রিলেন্স ফটো সাংবাদিক রাহাত করিম, এনামুল হাসান, মারজুক হাসান, হাসান জুবায়ের ও এন কায়ের হাসিন। সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় এ পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

-মানবজমিন থেকে সংগ্রহীত।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ