প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ঈদ জামাতে জায়নামাজ ছাড়া অন্য কিছু সঙ্গে নয়: আইজিপি

সুজন কৈরী : পবিত্র ঈদুল আযহার দিন ঈদগাহে অনুষ্ঠেয় প্রধান জামাতে জায়নামাজ ছাড়া অন্য কিছু সঙ্গে না নেওয়ার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। তবে বৃষ্টি হলে মুসল্লিরা ছাতা নিয়ে যেতে পারবেন।

রোববার বিকেলে জাতীয় ঈদগাহের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি।

আইজিপি বলেন, ঈদগাহের বাইরে ও ভেতরে ৩-৪ স্তরের নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ঈদগাহের বাইরে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি), ডিএমপির সদস্য এবং অন্যান্য গোয়েন্দা সদস্যরা সাদা পোশাকে দায়িত্ব পালন করবেন। মুসল্লিদের নিরাপত্তায় ঈদগাহের চারপাশে ৮৫টি সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে।

তিনি বলেন, এবারই প্রথম ত্রিপলের ওপরেও বেশ কয়েকটি সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। ক্যামেরার ফুটেজ পর্যবেক্ষণের জন্য রয়েছে কন্ট্রোল রুম।

রাষ্ট্রপতিসহ ঈদগাহে আগত ভিভিআইপি ও ভিআইপিদের নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, মৎস্য ভবনসহ ঈদগাহে প্রবেশের চারপাশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়াও ঈদগাহে প্রবেশের সময় সবাইকে আর্চওয়ে তল্লাশির মধ্য দিয়ে যেতে হবে।

এবারের ঈদুল আযহাকে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের নিরাপত্তা হুমকি আছে কি-না সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, সুনির্দিষ্ট কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই, তবে সব ধরনের ঝুঁকির বিষয় মাথায় রেখেই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে।

এর আগে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন করেন আইজিপি।

সেখানে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ট্রেনের সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত সন্তোষজনক। এবার ট্রেন ও যাত্রীদের নিরাপত্তায় মোট দুই হাজার ৩০০ পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি। যাত্রাপথে অজ্ঞান ও মলম পার্টির তৎপরতা বন্ধেও পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

আইজিপি বলেন, ঈদে বিভিন্ন পথে প্রায় এক কোটি মানুষ ঢাকা ছাড়ছে, আবার সারাদেশ থেকে পশুবাহী ট্রাক ঢাকায় আসছে। তবে সবাই স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি ফিরতে পারছে। নদীর স্রোতের কারণে কয়েকটি ফেরি সময়মতো চলাচল করতে পারেনি। এ ছাড়া বাকি সব ঠিকই আছে।

যাত্রীদের ট্রেনের ছাদে ভ্রমণের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, ট্রেনের ছাদে যাওয়ার প্রবণতা অনেক আগে থেকেই। পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও একই অবস্থা। বছরের অন্য সময়ের তুলনায় ঈদের সময় ট্রেনে যাত্রীর সংখ্যা বেড়ে যায়। এসময় বাস্তবতার কারণে অনেকে ট্রেনের ছাদে উঠে বাড়ি ফেরেন। তবে আমরা চাই তাদের যাত্রাটা নিরাপদ হোক।

আইজিপি জাবেদ পাটোয়ারী আরো বলেন, ঈদুল আযহায় আমাদের দুটি চ্যালেঞ্জ। এর একটি কুরবানির পশু অন্যটি ঘরে ফেরা মানুষের যাত্রা নিরাপদ করা। এসময় প্রায় এক কোটি মানুষ ঢাকা ছেড়ে যায়। তাদের কেউ বাসযোগে, ট্রেনে বা লঞ্চযোগে ঢাকা ছাড়ে। আমরা সবার নিরাপত্তার জন্য কাজ করছি।

একইদিন সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল পরির্দশন কালে আইজিপি জানান, প্রায় ৩০-৩৫ লাখ যাত্রী ঈদে নৌপথে যাতায়াত করেন। তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষে নৌপথে অতিরিক্ত পুলিশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত নিরাপত্তা হিসেবে ডিএমপি, র‌্যাব ও নৌ পুলিশসহ সাদা পোশাকে পুলিশ সদস্য নিয়োজিত থাকবে। পুলিশ সকল প্রকার প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবে।

নৌপথে অতিরিক্ত যাত্রীসহ কোনো লঞ্চ না চালানোর জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দিয়ে আইজিপি সকলকে পুলিশ সদর দফতর থেকে প্রকাশিত জনসচেতনতা মূলক বিজ্ঞপ্তিটি অনুসরন করার আহবান জানান।