প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আসামে ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ সনাক্তে প্রস্তুত হচ্ছে নাগরিকপঞ্জি

শোভন দত্ত: ভারতের আসাম রাজ্যে ‘অবৈধ বাংলাদেশি’ চিহ্নিত করতে যে নাগরিকপঞ্জি প্রস্তুত করা হচ্ছে সেখানে শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে না থাকায় বা কাগজপত্রে ভুল তথ্য থাকায় অনেকে নাগরিকত্ব হারাতে বসেছেন।

এমন একজন ৩৩ বছরের রিয়াজুল ইসলাম। তার দাবি, ১৯৫১ সালের আগে তার পরিবার আসামে বসবাস করছে এমন প্রমাণপত্র জমা দেওয়ার পরও নাগরিক তালিকায় তার ও তার মায়ের জায়গা হয়নি। যদিও বাবা এবং পরিবারের বাকি সদস্যদের নাম তালিকায় আছে।

রিয়াজুল ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ভারতীয় প্রমাণ করতে তার বা তার মায়ের হাতে আরও কোনো কাগজ নেই।

আসামের ছোট্ট শহর ধুবরিতে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “যদি আমার বাবা ভারতীয় নাগরিক হয় তবে আমি কেন নই? তাদের এর চেয়ে বেশি আর কি প্রমাণ চাই?”

প্রতিবেশী বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রাজ্য আসামে অনেক বাংলাদেশি অবৈধভাবে বসবাস করছে বলে দাবি ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির।

দুই বছর আগে বিজেপি আসামের ক্ষমতায় আসার পর অবৈধ বাংলাদেশিদের চিহ্নিত করে তাদের ফেরত পাঠানোর লক্ষ্যে আসাম ন্যাশনাল রেজিস্টার অব সিটিজেন্স (এএনআরসি) প্রস্তুতের কাজ শুরু হয়।

তালিকায় জায়গা পেতে হলে আসামের বাসিন্দাদের ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চের আগে রাজ্যে আবাস গেড়েছেন এমন প্রমাণপত্র জমা দিতে হয়েছে। মোট ৩ কোটি ২৯ লাখ আবেদনকারীর মধ্যে এ বছর জানুয়ারিতে প্রকাশিত প্রথম তালিকায় মাত্র ১ কোটি ৮০ লাখ মানুষের নাম ছিল।

গত ৩০ জুলাই প্রকাশিত সংশোধিত তালিকায় ২ কোটি ৮৯ লাখ মানুষের নাম ঠাঁই হলেও বাকি প্রায় ৪০ লাখ মানুষের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তাদের কেন বাদ দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।

যদিও যাদের নাম নেই তারা আবারও যথাযথ প্রমাণ নিয়ে আপিল করার সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছে রাজ্য সরকার। কিন্তু বাদ পড়াদের বেশিরভাগের অবস্থাই রিয়াজুল বা তার মার মত। তাদের হাতে নাগরিকত্ব প্রমাণ হতে পারে এমন বড়াতি আর কোনো কাগজপত্র নেই।

নাগরিকপঞ্জির নামে আসামের সংখ্যালঘু বাঙালি বিশেষত মুসলমানদের ‘উইচ হান্টিং’য়ের শিকার হতে হবে বলে আশঙ্কা অনেক পর্যবেক্ষকের। খসড়া এ তালিকা ঘিরে ভারতের উত্তর পূর্ব রাজ্যটিতে সংঘাত ও সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কাও করা হচ্ছে। তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন এমন কয়েকজনের কাগজপত্র পরীক্ষা করে রয়টার্স জানায়, তালিকা বাদ পড়া বেশিরভাগই দরিদ্র ও অশিক্ষিত। তাদের কেউ কেউ আবেদনপত্রে নামের বানান বা বয়স ভুল লেখার কারণে বাদ পড়েছে। দরিদ্র জনগোষ্ঠির মধ্যে জন্মসনদ গ্রহণ বা সংগ্রহ করার প্রবণতা অনেক কম। তারা স্কুলে যায় না বা বিবাহের সনদ সংগ্রহ করে না।

এমনকি নামের বানান, পদবি বা নিজের বয়স নিয়েও তারা সচেতন নন বিধায় এখন তারা নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে পারছেন না বলে জানান আইনজীবী আমান ওয়াদুদ। তিনি নিজে এরকম শতাধিক মামলা দেখছেন। সূত্র: রয়টার্স

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ