প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মামলা, জরিমানা ও শৃঙ্খলা

মাসুদ কামাল : এবার ট্রাফিক সপ্তাহ দশ দিনে হচ্ছে। ট্রাফিক সপ্তাহ শুরু এবং তার আয়তন দীর্ঘায়িত করাÑ এই দুই-ই সরকারের জন্য বেশ লাভজনক হয়েছে। শিক্ষার্থীদের আন্দোলনকে থামিয়ে দিতে ট্রাফিক সপ্তাহ শুরু করে দেওয়া ছিল কার্যকর একটা উদ্যোগ। আর এটা শুরুর পর যে অস্বাভাবিক হারে মামলা ও জরিমানা করা যাচ্ছিল, তাতে মনে হতে পারে এই ‘সপ্তাহ’কে যতই লম্বা করা যাবে ততই বেশি অর্থ জমা হতে থাকবে সরকারের তহবিলে। এরই মধ্যে প্রায় ছয় কোটি টাকা জরিমানা করা হয়ে গেছে।

এই যে আয়, এটা মন্দ নয়। কিন্তু ট্রাফিক সপ্তাহের উদ্দেশ্য কি কেবল অর্থ আয় করা? মূল যে লক্ষ্যÑ সড়কে একটা শৃঙ্খলা তৈরি করা, সেটি কি আদৌ হয়েছে? ঢাকার রাস্তার দিকে তাকালে তেমন কিছু পরিবর্তন কি দেখা যায়?

মামলা যা হচ্ছে, যার বিবরণ বেশ ঘটা করে মিডিয়াতে সরবরাহও করা হচ্ছে, তাতে মামলার সংখ্যা আছে কিন্তু সুস্পষ্ট কোনো ব্রেকআপ নেই। ওসব পড়ে জানা যায় না- মামলার মধ্যে কোন ধরনের গাড়ি কতগুলো রয়েছে? তবে একাধিক সূত্রে যতটুকু জেনেছি, মামলার সিংহভাগই হচ্ছে মটরবাইক আর প্রাইভেট কারের বিরুদ্ধে। সড়কে বিশৃঙ্খলা আর দুর্ঘটনার কথা যদি ধরি, তাহলে মটরবাইক আর প্রাইভেট কারণে কয়টা হয়? বেশির ভাগই তো হয় বাস আর মিনিবাসের কারণে। দুর্ঘটনার জন্য মূলত দায়ী যে যানবাহনগুলো তাদের বিরুদ্ধেই যদি মামলা বা জরিমানা না করা যায়, তাহলে সমস্যার সমাধানই বা আশা করা যাবে কিভাবে?

সড়কে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির জন্য একটা বড় কারণ হচ্ছে অবৈধ পার্কিংয়ের মাধ্যমে সড়ক দখল করে রাখা। এটা কি কমানো গেছে? মাঝ রাস্তায় গাড়ি থামিয়ে যাত্রী উঠা-নামা করানোর যে ভয়ঙ্কর প্রবণতা, সেটাও কিছুমাত্র কমেছে বলে মনে হয় না।

সেদিন কারওয়ান বাজার এলাকায় ট্রাফিক পুলিশের মামলা করার একটা দৃশ্য দেখলাম। একজন সার্জেন্ট দাঁড়িয়ে আছেন, সঙ্গে সহযোগী দুজন কনস্টেবল। তারা র‌্যান্ডমলি একটা করে মটরবাইক থামাচ্ছেন, কাগজপত্র চেক করছেন, মামলা করছেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখলাম- মামলা হলো ইন্সুরেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার কারণে। ইন্সুরেন্স হাল নাগাদ থাকাটা অবশ্যই দরকার, কিন্তু এটা না থাকলে কি দুর্ঘটনা অনেক বেড়ে যায়?

বরং রং পার্কিং, বেপরোয়া চলাচল, ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকা, এসব কারণেই এখন মামলা করা উচিত। দুর্ঘটনা বা সড়কে বিশৃঙ্খলা এসব কারণেই তৈরি হয়। এ কাজটি করা গেলেই হয়তো দৃশ্যমান কিছু পরিবর্তন হবে। আর তা না করে যদি কেবল হঠাৎ হঠাৎ গাড়ি থামিয়ে অর্থহীন ছুতানাতায় মামলা জরিমানা করা হয়, তাতে সরকারে আয় হয়তো কিছু বাড়বে, তবে রাস্তায় শৃঙ্খলা ফিরবে না।

লেখক : সিনিয়র নিউজ এডিটর, বাংলাভিশন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ