প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ড. কামাল নিয়ে যা বললেন আ.লীগের নেতা ও মন্ত্রীরা

মহসীন কবির : গণফোরাম নেতা ড. কামাল হোসেনের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের নেতা ও মন্ত্রীরা। রাজনীতিতে প্রধান প্রতিপক্ষ বিএনপিকে আক্রমণ করে যত না বক্তব্য রাখছেন, তার চেয়ে বেশি কথা বলছেন গণফোরাম নেতা ড. কামাল হোসেনকে নিয়ে়। এককালে আওয়ামী লীগের গুরুত্বপূর্ণ নেতা কামাল হোসেন দলের সঙ্গে তার সম্পর্কের ইতি ঘটান ১৯৯১ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর। গঠন করেন গণফোরাম। সে সময় বেশ আলোড়নও তুলেছিল দলটি। বলাবলি হচ্ছিল, এটিও মূলধারার একটি দল হবে। কিন্তু পরে মাঠের রাজনীতিতে গুরুত্ব পাওয়ার মতো কিছুই করতে পারেননি তিনি।

৬ আগস্ট একটি অনুষ্ঠানে গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন বলেছেন, দেশে গণতন্ত্র নেই, গুন্ডাতন্ত্র আছে বলে মন্তব্য করে। তিনি আরও বলেছেন, আমার জীবনের বিনিময়ে হলেও গুন্ডাতন্ত্র মুক্ত হোক। আমি এই গুন্ডাতন্ত্রের মধ্যে বেঁচে থাকতে চাই না। আমি চাই যে আমাকে গুলি করে মারা হোক। তাহলে অন্তত বলতে পারব গুন্ডাতন্ত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে মারা গেছি। এরপর ড. কামালকে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা করেছেন আওয়ামী লীগের নেতা ও মন্ত্রীরা।

ওবায়দুল কাদের : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দেশে যখন শান্তিময় রাজনৈতিক পরিবেশ বিরাজ করছিল, ঠিক সে সময় ১/১১-এর কুশীলবেরা আবার রাজনৈতিক অঙ্গনে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের অসম্ভব খেলায় মেতে উঠেছে। তিনি বলেছেন, ‘সবিনয়ে ড. কামাল হোসেনের কাছে জিজ্ঞেস করতে চাই, গুন্ডাতন্ত্র কাকে বলে?’
৭ আগস্ট ধানমন্ডিতে মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন ওবায়দুল কাদের।

আনিসুল হক : আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ড. কামাল হোসেনরা যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে নিয়ে সরকার পতনের অপচেষ্টায় লিপ্ত। এরই অংশ হিসেবে ঢাকায় মার্কিন রাষ্ট্রদূতকে নিয়ে কামাল হোসেনরা একটি সভাও করেন। স্কুল ছাত্রদের ঘটনায় সরকার সকল দাবি মেনে নেয়ার পরও তারা সরকার পতনের ষড়যন্ত্র করেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে বলেন, এরা মুসলমানদের জবাই করতে দ্বিধা করে না।
১০ আগস্ট শুক্রবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে মোগড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

মোহাম্মদ নাসিম : ১০ আগস্ট ১৪ দলের বৈঠক শেষে মুখপাত্র স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘আপনারা এ ক’দিন দেখেছেন, দেশের কয়েকজন নামকরা রাজনীতিবিদ কী কথা বলেছেন। উসকানিমূলক কথা বলেছেন। একজন মানুষ যখন ব্যর্থ হয় তখন তিনি আবোল-তাবোল কথা বলেন। একজন বলেছেন গুলি কর আমাকে। কে কাকে গুলি মারবে বলেন!’ তিনি আরও বলেন, ‘আন্দোলনে তারা একটি লাশ চেয়েছিল। তারা লাশের ওপর ভর করে অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতায় আসতে চেয়েছে।’

হাছান মাহমুদ : বিএনপি নেতাদের এবং ড. কামাল হোসেনের ভাষা আর গুন্ডাদের অ্যাকশনের ভাষার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই। একথা বলেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ।
১০ আগস্ট শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের দ্বিতীয়তলার কনফারেন্স লাউঞ্জে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব পরিষদ আয়োজিত ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব এর ৮৮তম জন্মবার্ষিকী’ উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা করেন।

হাছান বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে স্কুল-কলেজের ড্রেস পরিয়ে কারা বিএনপি জামাতের গুন্ডাদের নামিয়েছিলেন, কারা স্কুলের ব্যাগের মধ্যে চাপাতি এবং পাথর রেখেছিলেন, কারা সাংবাদিকদের ওপর হামলা এবং হেনস্তা করেছেন তা এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেরিয়ে আসছে। তিনি বলেন, ড. কামাল হয়তো সেগুলোর কথাই বলেছেন। তাই উনার ভাষার মধ্যে আর গুন্ডাদের শারীরিক অ্যাকশনের ভাষার মধ্যে আমি পার্থক্য খুঁজে পাচ্ছি না।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী : আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়ার রায়ের পর আমরা দেখেছি, ড. কামালের বাড়ির বারান্দায় বিএনপি নেতারা ঘুর ঘুর করছে। তখনই বলেছি, এই বর্ণচোরা ড. কামাল ষড়যন্ত্রকারীদের সঙ্গে হাত মেলাবেন, তাই হয়েছে। ড. কামাল, মাহমুদুর রহমান মান্না, সুলতান মনসুররা এখন শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টাকারী বিএনপি-জামায়াতের ভাষায় কথা বলে। ৮ আগস্ট বুধবার মহানগর নাট্যমঞ্চে জাতীয় শ্রমিক লীগ ঢাকা মহানগরের আয়োজনে জাতীয় শোক দিবসের আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন।

মাহবুবউল আলম হানিফ : আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ বলেন, ‘যখন দেশে একটা অস্থিতিশীল পরিবেশ হয়, তখনই হঠাৎ তাঁর নড়াছড়া শুরু হয়। উনি তখনই সরকারকে আক্রমণ করে বিভিন্ন কথা বলেন। এ শ্রেণির মানুষরাই সুযোগ সন্ধানী, তারা ভাবে যে যেকোন অস্থিতিশীল পরিবেশের মাধ্যমে তাঁরা ক্ষমতায় যাওয়ার রাস্তা পেতে পারে। সেই স্বপ্ন থেকেই তারা ষড়যন্ত্রের পথে হাঁটে।’

আব্দুর রাজ্জাক : ক্ষমতাসীন দলের সভাপতিÐলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘উনি (কামাল হোসেন) তো ১/১১ সময়েও তৃতীয় শক্তি আনার জন্য ষড়যন্ত্র করেছিলেন। এখন আবারও সেই প্রক্রিয়াই আছেন তিনি।’
‘একবার তিনি সাবেক প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহাকে নিয়ে করেছিলেন সেখানে তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন। কামাল হোসেনদের সকল ষড়যন্ত্র আমরা রাজনৈতিকভাবেই মোকাবেলা করব। তাঁরা অতীতেও ব্যর্থ হয়েছিলো, এবারও তাঁরা ব্যর্থ হবে।’

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ