প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বেশিরভাগ হাসপাতালের আইসিইউ মানসম্পন্ন নয়!

ডেস্ক রিপোর্ট : বছর দুয়েক আগে উত্তরার কেয়ার স্পেশালাইজড অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালকে সাত লাখ টাকা জরিমানা করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। সে বছরই রিজেন্ট হাসপাতালকেও ছয় লাখ টাকা জরিমানা করেন আদালত।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, অভিযানে আদালত দেখতে পান, সেদিন উত্তরার কেয়ার স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ১১ রোগীর ছয় জনকেই নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) পাঠানো হয়েছিল। এমনকি সেখানে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াও আইসিইউতে রাখা হয় কয়েকজন রোগীকে। আর রিজেন্ট হাসপাতাল এমন রোগীদের আইসিইউতে রেখেছিল যারা সাধারণ রোগে আক্রান্ত। ৩০ শয্যার রিজেন্ট হাসপাতালের অভিযানের দিনে ১২ জন রোগীর সাত জনই ছিল আইসিইউতে।

সংকটাপন্ন রোগীদেরই উন্নত চিকিৎসার জন্য আইসিইউতে রাখার কথা। অথচ দেশের বেশিরভাগ আইসিইউ মানসম্পন্ন নয়। সংশ্লিস্টরা বলছেন, সরকারি ও হাতেগোনা কয়েকটি হাসপাতালের আইসিইউ ছাড়া বাকি আইসিইউতে নেই প্রয়োজনীয়ন যন্ত্রপাতি, দক্ষ জনবল। প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যাও অপ্রতুল। নেই আইসিইউ পরিচালনার জন্য কোনো গাইডলাইন। অথচ ন্যূনতম চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত না করে এসব হাসপাতাল কেবলমাত্র জিম্মি করে মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল অর্থ। আর এসব তথ্য উঠে এসছে স্বাস্থ্য অধিদফতরের আইসিইউ সেবা সংক্রান্ত এক প্রতিবেদনে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের প্রতিবেদনে বলা হয়, অধিকাংশ হাসপাতালে শয্যা সংখ্যার উল্লেখ নেই। যার কারণে হাসপাতালগুলোতে জনবল কাঠামো এবং যন্ত্রপাতির সংখ্যাও নিরূপণ করা সম্ভব হয় না। আইসিইউগুলোতে পোর্টেবল এক্সরে মেশিন, এবিজি মেশিন, পোর্টেবল আলট্রাসনোগ্রাম, পোর্টেবেল ভেন্টিলেটর, ডায়ালাইসিস ফ্যাসিলিটির মতো অত্যবশ্যকীয় মেশিনের সংখ্যা অত্যন্ত কম। শয্যা সংখ্যার তুলনায় কম ভেন্টিলেটরের সংখ্যাও।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, আইসিইউ বা নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের অনিয়ম নিয়ে বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো আমলে নিয়ে হাসপাতালগুলোতে অভিযান চালায় স্বাস্থ্য অধিদফতর। তার পরিপ্রেক্ষিতেই অধিদফতর এ প্রতিবেদন দেয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, হাতেগোনা দুয়েকটি হাসপাতাল ছাড়া বাকি হাসপাতালগুলোতে সার্বক্ষণিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক (কনসালট্যান্ট) উপস্থিত থাকেন না। অথচ আইসিইউতে সার্বক্ষণিক কনসালট্যান্ট থাকা বাধ্যতামূলক। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এসব কনসালট্যান্ট একাধিক হাসপাতালের সঙ্গে যুক্ত থাকেন এবং তারা কোথাও কোথাও মাত্র একবার হাসপাতাল পরির্দশন করেন। এমনকি অনেক আইসিইউতে মেডিসিন, নিউরো সার্জারি, সার্জারি, কার্ডিওলজি, নেফ্রোলজি এবং গাইনি বিশেষজ্ঞও নেই। নেই পর্যাপ্ত ফিজিওথেরাপিস্ট, রেসপারিটরি থেরাপিস্ট ও পুষ্টিবিদ।

প্রতিবেদনে বলা হয়, নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (এনআইসিইউ) শিশু বিশেষজ্ঞ থাকলেও তদের এনআইসিইউ বিষয়ে যথাযথ প্রশিক্ষণ রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। হাসপাতালগুলোতে নার্সের সংখ্যা পর্যাপ্ত হলেও আইসিইউ বা এনআইসিইউতে তাদের দায়িত্ব পালন করার মতো যোগ্যতা নেই। একইসঙ্গে পরিচ্ছন্নতাকর্মী, আয়াসহ অন্যরা যারা রয়েছেন, তাদেরও আইসিইউতে কাজ করার মতো যোগ্যতা নেই। অথচ এসব যোগ্যতাহীন কর্মীদের দিয়েই হাসপাতালগুলো আইসিইউতে কাজ করিয়ে নিচ্ছে।

আইসিইউ’র জন্য কোনো গাইডলাইন নেই জানিয়ে স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশীদ-ই মাহবুব বলেন, আইসিইউ পরিচালনার জন্য দেশে কোনো গাইডলাইন নেই। যার কারণে হাসপাতালগুলো যেভাবে পারছে, মুনাফা করে নিচ্ছে। সরকারের উচিত আইসিইউ সেবার জন্য সেবামূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া। তাহলে হয়তো কিছুটা লাগাম টানা যাবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্বাস্থ্য অধিদফতরের একজন কর্মকর্তা বলেন, বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক পরিচলানার জন্য দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড ল্যাবরেটরিজ (রেগুলেশন্স) ১৯৮২ অনুযায়ী শুধু ক্লিনিক বা হাসপাতালের অনুমোদন নিয়ে কেউ আইসিইউ, এনআইসিইউ, সিসিইউ, ডায়ালাইসিস, মানসিক রোগ ও মাদকাসক্তি এবং ডেন্টাল রোগের চিকিৎসা দিতে পারবে না। শুধু মেডিসিন, সার্জারি ও গাইনি রোগের চিকিৎসা ছাড়া আর কোনো চিকিৎসা দেওয়ারও এখতিয়ার তাদের নেই।

‘অথচ ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা ক্লিনিকগুলোতে তিন কক্ষের মধ্যে একটা নির্ধারিত থাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ হিসেবে। কোনো রকমে সেখানে রোগী ঢুকিয়ে তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে’— বলেন তিনি।

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসাতাল ও ক্লিনিক) অধ্যাপক ডা. কাজী জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘আমরা কাজ শুরু করেছি। এমনকি বেসরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এ নিয়ে আমাদের বৈঠকও হয়েছে। আমরা মনিটরিং শুরু করেছি। এমনকি আইসিইউর দুষ্পাপ্যতা কমিয়ে আনতে ২০২২ সালের মধ্যে দেশের সব জেলা হাসপাতালগুলোতে পাঁচ শয্যার আইসিইউ চালু করার প্রক্রিয়াও এরই মধ্যে শুরু হয়েছে।’ সারাবাংলা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত