প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পাকিস্তান কি সেই পুরষ্কার যা সবাই পেতে চায়?

আসিফুজ্জামান পৃথিল: চীন, রাশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও সৌদি-আরব। ৫টি রাষ্ট্র যারা পকিস্তানে নিজ নিজ আলাদা স্বার্থ সমুন্নত রাখতে কাজ করে যাচ্ছে। যদিও তথাকথিত ‘তালেবানি খান’ এর ‘অনিশ্চিত’ সরকার দেশটির ক্ষমতায় আরোহন করতে যাচ্ছে, তবুও এর সর্বোচ্চ ফায়দাই নিতে চায় এই বিদেশী রাষ্ট্রগুলো।

ইরান এবং রাশিয়া উভয় দেশর উপরই অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এদিকে তারাই আবার সৌদি রাজতন্ত্রকে সম্ভাব্য পরমাণু সমৃদ্ধকরণে সাহাজ্য করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বেশীরভাগ প্রধান বৈশ্বিক শক্তিগুলোই এই এলাকায় নিজেদের শক্তিবৃদ্ধির জন্য কাজ করে যাচ্ছে। পাকিস্তান ঐতিহাসিকভাবেই ইরানের মিত্র দেশ। এবং সবসময়েই এই নিকট প্রতিবেশীটির পাশে থেকেছে। কিন্তু পাকিস্তান সৌদি আরবের সাথে ইরানের যুদ্ধ হলে কখনই সরাসরি শিয়া দেশটিকে সমর্থন জানাবেনা। কারণ নৈতিক, বৌদ্ধিক এবং ধর্মীয়ভাবে এই দুই দেশের মধ্যে খুব বেশী মিল নেই। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়ার উপরে নানান ছুতোয় একর পর এক অবরোধ আরোপ করে চলেছে। এরপরেও পাকিস্তান রাশিয়ার সাথে নিজেদের সম্পর্ক বৃদ্ধি করছে। দুই দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতাও দৃশ্যমানভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর প্রধান কারণ উত্তর আমেরিকার দেশটির সাথে দিল্লীর সাম্প্রতিক সখ্যতা। এমনকি অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে সামরিক সহায়তা নেবার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে ভারতের প্রধান মিত্র হয়তো রাশিয়া থাকবেনা। সে স্থান দখল করে নিতে পারে আংকেল স্যাম তথা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তাই রাশিয়ার দিকে আরও বেশী ঝুকবার প্রবণতা বাড়ছে ইসলামাবাদের।

আর চীনের সাথে পাকিস্তানের সম্পর্ক সবসময়ই বিশেষ। এমনকি চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর প্রকল্প শুরু হবার আগেও দুই দেশের সম্পর্ক বর্তমানের চাইতে কম উষ্ণ ছিলোনা। আর বর্তমানে দুই দেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক সম্পর্ক যে কোন সময়ের মাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (সিপিইসি) এই অঞ্চলের চেহারাই বদলে দেবে বলে ধারণা এবং আশা করা হচ্ছে।

ইরান ইদানিংকালে ইউনাইটেড মুসলিম ফ্রন্টে যোগ দিয়েছে, যার গুরুত্বপূর্ণ অনুমঙ্গ পাকিস্তান। একইসাথে দেশটি সৌদি নেতৃত্বধীন জোটের গুরুত্বপূণূ অংশ। যতিও বাংলাদেশের মতো তারাও ইয়ামেনের সৌদি আগ্রাসনে সসৈন্যে অংশ নেয়নি। সৌদি আরবের সাথে দেশটির সম্পর্ক একইসাথে অর্থনৈতিক এবং ধার্মিক। সৌদি আরবের পবিত্র মক্কা এবং মদিনা রক্ষার জন্য পাকিস্তান নিয়মিতই তাদের সেরা সৈন্য প্রেরণ করে আসছে। এমনকি সৌদি বাহিনীকে সামরিক প্রশিক্ষণ দেবার রেওয়াজও বেশ পুরানো। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীও এ ধরণের প্রশিক্ষণ আনন্দের সাথেই দিয়ে আসছে।

একথা বলাই যায় ভূরাজনৈতিক কারণে পাকিস্তানে বড় শক্তিগুলোর আগ্রহ চিরকালিন। একই সাথে বলা যায়, পাকিস্তানের সামনেও বড় সুযোগ নিজেকে এসকল শক্তি প্রতিযোগিতার বাইরে রেখে সর্বোচ্চ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ফায়দা নেবার। কিন্তু প্রশ্ন হলো পাকিস্তানের নতুন নির্বাচিত সরকার কি নিজেদের রক্ষা করে এই সুযোগের সর্বোচ্চ ব্যবহার করতে পারবে? প্রশ্নটা ভবিষ্যতই বলতে পারবে। ওয়েবসাইট

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ