প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ধর্ষিত শিশুর ইজ্জতের মূল্য দশ হাজার টাকা, তাও বাকিতে!

মাহফুজ নান্টু, কুমিল্লা: শ্রাবন মাস। অঝোরে বৃষ্টি ঝড়ছিলো। ঘরে বসে থেকে বিরক্ত হয়ে উঠেছিলো শিশু অনামিকা (ছদ্মনাম)। মা ইপিজেডে চাকরী করেন। কতক্ষণ আর ঘরে বসে থাকা যায়। তাই হয়তো খেলার জন্য প্রতিবেশী মিজানুর রহমান (৬২)’র ঘরে তার নাতনীকে খেলার জন্য ডাকতে যায়। কে জানতো শিশু অনামিকার জন্য সেখানে অপেক্ষা করছে এক ভয়ংকর খেলা। ঘরে কেউ না থাকার সুযোগে মিজানুর রহমান শিশু অনামিকাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

গত ৩১ জুলাই মঙ্গলবার কুমিল্লা বরুড়া উপজেলার পৌর এলাকার দেওড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ধর্ষক মিজানুর রহমান ওই এলাকার মৃত তৈয়ব আলীর ছেলে। ঘটনার শিকার শিশুটি স্থানীয় ব্র্যাক স্কুলের শিশু শ্রেণির ছাত্রী। পরে শালিসের রায়ে ধর্ষিত শিশুর পরিবারকে ১০ হাজার টাকা দেয়ার সিদ্ধান্তে ধর্ষক মিজানুর রহমানকে ছেড়ে দেয় স্থানীয় সর্দারগণ।

তবে সালিশের ১০-১২ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত জরিমানার ১০ হাজার টাকা পায়নি ভিকটিমের পরিবার। একটি শিশুর ইজ্জতের দাম মাত্র ১০ হাজার টাকা? তাও বাকিতে!
ঘটনা কাউকে জানানোর দরকার নেই। শালিসের ব্যবস্থা করা হবে বলে শিশুটির অভিভাবকদের জানায় স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তি। তাই অসহায় অভিভাবকরা প্রভাবশালী মহলের চাপে ঘটনাটি কাউকে জানায় নি।!

শিশুটির মা ও প্রতিবেশী সূত্রে জানা যায়, শিশুটি খেলা করার জন্য তার খেলার সাথী মিজানুর রহমানের নাতনীকে ডাকতে তার ঘরে গেলে সে মেয়েটিকে একা পেয়ে ধর্ষণ করে। পরে মেয়েটির খেলার সাথী ও অপর একটি শিশু ঘটনাটি দেখে ফেলে। বৃষ্টি পড়ছিল বলে শিশুটির স্বর চিৎকার কেউ শুনতে পায়নি। পরে ঘরে ফিরে শিশু অনামিকা তার অভিভাবকদের জানান।

মেয়েটির মা কেঁদে কেঁদে বলেন, ভাই আমি একজন জনম দু:খী মানুষ। কারণ মেয়েটি যখন আমার গর্ভে তখন তার বাবা প্রবাসে পাড়ি জমায়। এখন পর্যন্ত আমার ও তার সন্তানের কোন খোঁজ খবর নেয় নি। আমি আমার বাবার বাড়িতে থাকি। কুমিল্লা ইপিজেড চাকুরি করি। চাকরীর কারনে সে দিন আমি বাড়িতে ছিলাম না। আর এ সুযোগে আমার অবুঝ শিশুটির জীবন নষ্ট করে দিল পাষন্ড মিজান।

সামাজিকভাবে সালিশের আয়োজন না করে লোক চক্ষুর আড়ালে একটি শালিসের ব্যবস্থা করে । ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে ধর্ষককে। জরিমানার টাকা এখনও পাননি জানিয়ে বলেন, ধর্ষিত শিশুটির মা জানান, টাকা দিয়ে কি হবে? আমার মেয়ের সম্মানের দাম কি মাত্র ১০ হাজার টাকা? আমি এর বিচার সঠিক বিচার চাই।

শিশুটির মা যখন সাংবাদিকদের সাথে ঘটনার বর্ণনা দিচ্ছিলেন তখন মামুন নামে স্থানীয় একজন এসে শিশুটির মাকে বলছিলো ক্যামেরায় কি সব সাক্ষাৎকার দিচ্ছিস। তারপরেই অনামিকার মাকে চলে যেতে বলে। বিচার শেষ এখন আপনারা (সাংবাদিকদের) কেন এসেছেন? বলেই ভিকটিমের নানী ও নানা সাহেব আলী ও শিশুটির মাকে গালাগাল শুরু করে বিচারের সাথে জড়িত সর্দারগণ। এ সময় সাংবাদিকদের হুমকি দিয়ে কথিত সালিশের সর্দারগণ বলেন, আপনারা সাংবাদিকরা যান। যা পারেন করেন? ভিকটিম বিচার চায় না। বিচার এখানেই শেষ। স্থানীয় লোকজনের ভয়ে ভিকটিমের পরিবার মামলা করতে ভয় পাচ্ছে। আর এ কারনে সংশ্লিষ্ট থানায় এ বিষয়ে কোন অভিযোগ হয়নি।

বরুড়া থানার অফিসার ইনচার্জ আজম উদ্দিন মাহমুদ বলেন, এ বিষয়ে কেউ অভিযোগ করে নি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেব। ন্যাক্কার জনক ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি অবশ্যই খতিয়ে দেখব।
এই বিষয়ে বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাজহারুল ইসলাম বলেন, আমি বিষয়টি আপনার কাছ থেকেই জানলাম। আমি জেনে ব্যবস্থা নিচ্ছি।

উল্লেখ্য শিশুটি স্থানীয় ব্র্যাক স্কুলের শিশু শ্রেণির ছাত্রী। বয়স ৭ বছর। বরুড়া উপজেলার দেওড়া নানার বাড়িতে থাকে। বাবাহীন অবুঝ শিশুটির অশ্রুসজল চাহনী যেন বলে আমি বিচার চাই ঐ নরপশুর।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ