প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রতিবন্ধীদের বাদ রেখে এসডিজি অর্জন অসম্ভব : দুদক কমিশনার

ফাহিম ফয়সাল: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান বলেছেন, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জনে উন্নয়নের ধারায় কাউকে কোনোভাবেই পেছনে রাখা যাবে না। সেই নিরিখে দেশের ১৬ মিলিয়ন প্রতিবন্ধী মানুষকে উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত করতে না পারলে এসডিজি অর্জন অসম্ভব।

শুক্রবার (১০ আগস্ট) রাজধানীর চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন (এফডিসি) তে অনুষ্ঠিত দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে আয়োজিত জাতীয় বিতর্ক প্রতিযোগিতার গ্র্যান্ড ফাইনালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, প্রতিটি মানুষকেই উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত করতে হবে। প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের কৌশলগুলো চিহ্নিত করে তাদের ইচ্ছে ও কর্মশক্তিকে বাড়াতে হবে। এতে করে তারা কাজ করতে বেশি উৎসাহী হবে। তাদেরকে উন্নয়নের ধারায় সম্পৃক্ত না করলে আমাদের সব উন্নয়ন ব্যর্থতায় পর্যবসিত হবে।

সংগীত শিল্পী মমতাজ বেগম বলেন, বর্তমান সরকার প্রতিবন্ধীদের উন্নয়নে অনেক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এসব পদক্ষেপ আগে গ্রহণ করা হলে এখন সমস্যায় পড়তে হতো না, ৪৭ বছরে অনেক এগিয়ে যেতাম।

ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি’র চেয়ারম্যান হাসান আহমেদ চৌধুরী কিরণ বলেন, পিছিয়ে পড়া প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর সাংবিধানিক অধিকার বাস্তবায়নসহ তাদের মূল ধারায় সম্পৃক্ত করতে সরকারের প্রচেষ্টা থাকলেও তা পর্যাপ্ত নয়। শুধু তাই নয় প্রতিবন্ধীদের সুরক্ষায় নাগরিক হিসেবে আমরা যারা অপ্রতিবন্ধী মানুষ রয়েছি তারাও সঠিক দায়িত্ব পালন করতে পারিনি।

তিনি বলেন, ২০০৮ সালের সরকার মহানগর ইমারত বিধিমালায় প্রতিবন্ধীদের জন্য আলাদা পার্কিং, টয়লেট, র‌্যাম্প তৈরির কথা উল্লেখ করলেও এখনও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। ২০১৩ সালের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের অধিকার ও সুরক্ষা আইনে ভাতা প্রদান, শিক্ষা গ্রহণ ও চিকিৎসা সেবাসহ নানা অধিকারের কথা বলা থাকলেও তারও দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই।

প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর জন্য প্রতি বছর মোট বাজেটের ৪-৫ শতাংশ বরাদ্দ, সরকারি চাকুরীতে প্রতিবন্ধীদের জন্য কমপক্ষে ৩ শতাংশ কোটাসংরক্ষণ, জাতীয় সংসদে প্রতিবন্ধীদের প্রতিনিধি হিসেবে ২-৩টি সংরক্ষিত আসন বরাদ্দ, দুঃস্থ প্রতিবন্ধীদের ভাতা বৃদ্ধি, স্বাস্থ্য-শিক্ষা, চিত্তবিনোদন, সর্বস্তরে প্রবেশগম্যতা নিশ্চিত করাসহ প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর অধিকার আদায়ে ১০ দফা দাবি জানায় ডিবেট ফর ডেমোক্রেসি।

গ্র্যান্ড ফাইনালে ‘প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠীর অধিকার ও সুরক্ষায় সরকারের করণীয়’-শীর্ষক চূড়ান্ত লড়াই-এ চ্যাম্পিয়ন হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রানার আপ ইডেন মহিলা কলেজ। তৃতীয় স্থান অধিকার করে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।

প্রতিযোগিতা শেষে চ্যাম্পিয়ন, রানার আপ ও তৃতীয় স্থান অধিকারী দলকে যথাক্রমে নগদ ২ লক্ষ, ১ লক্ষ ও ৫০ হাজার টাকাসহ ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট ও ট্রফি প্রদান করা হয়।

গ্র্যান্ড ফাইনালে বিচারক ছিলেন অধ্যাপক আবু মোহাম্মদ রইস, ড. এস এম মোর্শেদ, ড. তাজুল ইসলাম চৌধুরী তুহিন, নাজমা আরা বেগম পপি ও সাইফুল ইসলাম খান।

উল্লেখ্য দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রথমবারের মত এই প্রতিযোগিতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, বেগম বদরুন্নেসা মহিলা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিতার্কিকরা অংশগ্রহণ করে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ