প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভোলায় গরু মোটাতাজা করণে ব্যস্ত খামারিরা

জুয়েল সাহা, ভোলা: আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে গরু মোটাতাজা করণে ব্যস্ত ভোলার খামারিরা। গত বছর ব্যবসা ভালো হওয়ায় এবার আরো বেশি গরু নিয়ে মোটাতাজা করণে নেমেছে তারা। এছাড়াও খামারিদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি হওয়ায় অসাধু পন্থা অবলম্বন না করে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে কাঁচা ঘাস, খড়, খৈল-ভুষি খাইয়ে গরু মোটাতাজা করণ করছে তারা। দেশিয় পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করে লাভবান হচ্ছেন অনেকেই। দেশিয় পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক ভাবে গরু মোটাতাজা করণ গরুর চাহিদা বাজারে বেশি ও আর্থিক লাভজনক হওয়ায় জেলায় এ বছর দেশী পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজাকরণের খামারের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। আর এতে করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন অনেকে।

ভোলা সদরের ভেলুমিয়ার খামারি জাকির হোসেন বলেন, ক’দিন পর কোরবানির গরুর হাটে গরু বিক্রি করবো। এজন্য বেশি বেশি কাঁচা ঘাস, খড়, খৈল-ভুষি খাইয়ে গরু মোটাতাজা করণ কাজ করছি।

একই এলাকার নুরুল ইসলাম বলেন, গত বছর আমি ১০ গরু মোটাতাজা করে হাটে বিক্রি করছি ভালো লাভ হয়েছে। এ বছর ৩০ টি গরু মোটাতাজা করছি কোরবানির হাটে বিক্রি করবো আশাকরি প্রায় লাখ টাকা লাভ হবে।

ভেদুরিয়া এলাকার খামারি ইউসুফ মুন্সি বলেন, আমরা দেশী পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করণ করতেছি। এ পদ্ধতিতে গরু মোটাতাজা করলে বাজারে ভালো দাম পাওয়া যায়। লাভও অনেক বেশি হয়। কিন্তু ইনজেকশন ব্যবহার করে মোটাতাজা করলে বাজারে গরু বিক্রি করতে কষ্ট হয়। তাই আমরা দেশি পদ্ধতিতে মোটাতাজা করণ করি।

একই এলাকার হেলাল উদ্দিন বলেন, আমি ১০/১২ বছর ধরে কোরবানির ঈদের ৭/৮ মাস আগে বিভিন্ন হাট থেকে দেশী গরু কিনে মোটাতাজা করে কোরবানির হাটে বিক্রি করে ভাল লাভবান হই। লাভের টাকা দিয়ে আমার সংসার পরিচালনা করি। ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনা করায় নিজে কিছু সঞ্চয় করি।

ভোলা গ্রামীন জন উন্নয়ন সংস্থার নির্বাহী পরিচালক মোঃ জাকির হোসেন মহিন জানান, আমরা ভোলা জেলায় খামারিদের সংখ্যা বাড়াতে ও তাদের স্বাবলম্বী করতে সল্প সুদে ঋণ দিচ্ছি। এছাড়াও খামারিদের আমারা ফ্রি প্রশিক্ষণ ও চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি। ফলে আমাদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ ও ঋন নিয়ে অনেক খামারি এখন স্বাবলম্বী হয়েছে।

জেলা প্রানী সম্পদ অফিস তথ্য অনুযায়ী এবছর ভোলা জেলার সাত উপজেলায় এ বছর কোরবানির জন্য ১ লাখ ১৩ হাজার পশু প্রস্তুত করা হচ্ছে। যারমধ্যে ৮১ হাজার ৮০০ টি গরু, ১ হাজার ৫২৫ টি মহিষ, ২৯ হাজার ৬৪৬ টি ছাগল ও ২৯ টি ভেড়া। এদের মধ্যে ভোলা সদর ১৬ হাজার ৩৩০ টি পশু প্রস্তুত করা হচ্ছে। যারমধ্যে ১১ হাজার ৮০০ টি গরু, ২২০ টি মহিষ ও ৪ হাজার ২৮০ টি ছাগল কোরবান দেওয়া হবে।

ভোলা সদর উপজেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ দীনেশ চন্দ্র মজুমদার জানান, কোরবানিকে সামনে রেখে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে মোটাতাজা করণে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে খামারিরা। তাদের সব ধরণের সহযোগিতা ও পরামর্শে প্রাণী সম্পদ কর্মকর্র্তারা মাঠে কাজ করছে। তবে কেউ যদি অবৈধভাবে গরু মোটাতাজা করণ করে তাদের আইনের আলতায় এনে জেল-জরিমানা করা হবে বলে জানান তিনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ