প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

গবাদিপশু নিলামের আগেই বুক ভ্যালু প্রকাশ!

মতিউর রহমান (ভান্ডারী), সাভার : কোরবানী ঈদ উপলক্ষে সাভারে কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামারে ৪৬ টি লটের বিপরীতে ১৩৮টি কোরবানীর উপযোগী গবাদিপশু বৃহস্পতিবার দুপুরে নিলাম দরপত্রের আযোজন করা হয়। আইন অনুযায়ী ওই গবাদিপশুর ন্যয্য মূল্য গোপন থাকার কথা থাকলেও তা নিলামের পূর্বে বুক ভ্যালু প্রকাশ হয়েছে। এতে সরকার কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে।

৩০ নম্বর লটের বুক ভ্যালুর দেয়া হয় ২ লক্ষ ৭ হাজার দুইশত টাকা। দরদাতারা এর কম দর দেয়ায় প্রাথমিক ভাবে ওই লটে নিলাম স্থগিত রাখেন কর্তৃপক্ষ। এর কিছুক্ষণ পর গোপনে কলমা এলাকার সিরাজুল ইসলাকে ২ লক্ষ ৮ হাজার টাকায় ৩০ নম্বর লট বিক্রয় দেখানো হয়। যা বুক ভ্যালুর চাইতে ৮ শত টাকা বেশি দেখানো হয়। এ ঘটনায় হলরুমে ক্রেতাদের মাঝে উত্তেজন শুরু হয়।

এ বিষয়ে জানতে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সিরাজুল ইসলাম বলেন, ৪৬টি লটের মধ্যে আমরা পেয়েছি ২২টি। প্রতিটি লট বুক ভ্যালু দেখে ৫-৬ হাজার টাকা অতিরিক্ত উল্লেখ করে আমরা দরপত্র জমা দিয়েছি। তবে ৩০ নম্বর লট ভুলবসত ভ্যালুর চাইতে কম দেয়া হয়েছিল। (অডিও ভয়েজ সংরক্ষিত) নিলামের পূর্বে বুক ভ্যালু কোথায় পেয়েছেন? জানতে চাইলে তিনি রাগন্নিত হয়ে বলেন, যতোদোষ খালি আমাগো। ডেইরী ফার্মের অফিসাররা যুক্তি করে ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মরত জুয়েল (ষাড় রক্ষক) এর সিন্ডিকেটের মাধ্যমে পরিচিত বিভিন্ন লোক/প্রতিষ্ঠানের নামে ১৮টি লট (৫৪টি গরু) নিয়ে নিয়েছে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক ব্যক্তিসহ প্রতিষ্ঠান প্রধান লুৎফর রহমান খান স্যারের কক্ষে দফায় দফায় আলোচনা হয়েছে। যা গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১২টার পর্যন্ত ওই কক্ষের ভিডিও ফুটেজ দেখলে তা বুঝতে পারবেন। আর কি জানবেন, অহন করেন গাঁ রিপোর্ট।

এ বিষয়ে ষাড় রক্ষক জুয়েল হোসেনের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তার সাথে কথা বলা সম্ভব হয়নি।

নাম প্রকাশ না শর্তে এক ক্রেতা বলেন, প্রতিষ্ঠানের কিছু অসাধু কর্মকর্তারা তাদের কর্মচারী জুয়েলকে দিয়ে বুক ভ্যালুর চাইতে নামে মাত্র কিছু টাকা বেশি উল্লেখ করে সিডিউল ড্রপ করেছে। পরবর্তীতে ওই গরু বেশি দামে বিক্রয় করে পকেট ভাড়ি করার পায়তারা করছে ডেইরী কর্মকর্তারা। এতে সরকার প্রায় দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে।

জানতে চাইলে কেন্দ্রীয় গো-প্রজনন ও দুগ্ধ খামারের উপ পরিচালক লুৎফর রহমান খান বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠানের কোন কর্মকর্তা-কর্মচারী গবাদিপশু নিলামের সাথে যুক্ত নয়। তাছাড়া, কে? কোথা থেকে বুক ভ্যালু পেয়েছে তা আমার জানা নেই।

নিলাম সম্পূণের আগে বুক ভ্যালু প্রকাশের বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. হীরেশ চন্দ্র ভৌমিক মুঠোফোনে বলেন, এসকল অভিযোগের সত্যতা পেলে তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, ৪৬ টি লটে মোট ১৩৮ টি গবাদিপশুর জন্য দরপত্র আহ্বান করা হলে সর্বমোট ২১৭ টি দরপত্র বিক্রি হয়। যার মধ্যে জমা পড়েছে ৮৮ টি দরপত্র। এছাড়া দরপত্রের জন্য প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে সর্বমোট ৯২ লক্ষ টাকা বুক ভ্যালু ধরা হলে দরপত্র বিক্রী হয়েছে ১কোটি ১ লক্ষ ৩৯ হাজার ৩৫০ টাকা।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ