প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সোহেল তাজের ৮ বৈশিষ্ট্য ও স্বৈরাচার নির্ণয়

অজয় দাশগুপ্ত, সিডনি, অস্ট্রেলিয়া থেকে : খবরের কাগজেও দেখলাম সোহেল তাজের দেওয়া স্বৈরাচারের ৮ বৈশিষ্ট্য। যার মানে তিনি এগুলো লিখেছেন। সামাজিক মিডিয়ায় আজকাল যা আসে তার বেশিরভাগই এখন আর বিশ্বাস করা যায় না। বিশেষত এবারের আন্দোলন বা উত্তাপ বারবার বলে দিয়েছে সামাজিক মিডিয়ার সবকিছু নেওয়া যাবে না। সেখানে অসম্পাদিত নিউজ বা ভিউজ এতটাই প্রচ- আর বেপরোয়া মাঝে মাঝে তালগোল পাকিয়ে যায়। যার যা খুশি লেখার জায়গা সোশ্যাল মিডিয়ায়। দেশে দেশে এর সুফল ও কুফলের দিকটা এখন প্রকাশ্য। একজন মেধাবী মানুষ যা দেখেন বা যা লিখেন, লেখাপড়া না জানা মানুষও তাই দেখেন তা শুনতে পান। এর প্রভাব কী হতে পারে? দুজনের কাছে দুরকম অর্থ নিয়ে আসা এক নিউজ কতটা ভয়ংকর আর কতটা আগ্রহের জন্ম দিতে পারে সেটা নির্ণয় করা তখন কঠিন বৈকি। এতদিন পর যখন সরকারের জন্য তা হুমকি মনে হয়েছে তখনই তারা কঠিন হয়ে উঠতে চাইছেন। এমনও শুনছি প্রয়োজনে ফেসবুক নাকি বন্ধ করে দেওয়া হবে। সেটা কি আসলেই সমাধান? সমাধান যে না সেটা যারা করতে চান তারাও জানেন। তবু নিজেদের স্বার্থে করার কথা বলছেন। আমরা যারা সাধারণ মানুষ সামাজিক মিডিয়ার যাবতীয় নোংরামী-উস্কানির পরও এর কাছ থেকে সরতে পারি না। বিশেষত বিদেশের বাঙালির খোরাক এই মাধ্যম। এর মাধ্যমে মুক্ত মতামত আর নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া পাই আমরা। মুশকিল হলো ন্যায়-অন্যায় বা শুভ-অশুভ বিচারে আমাদের অন্ধত্ব। আমরা এখন এমন এক জাতি যার পরিচয় দুই দলের ভেতর আটকা পড়ে আছে। সে কারণে সোহেল তাজের মতো সাহসী মানুষের এই বক্তব্যও আমাদের চোখে দুভাবে বিবেচিত হবে।

একদল বলবে আওয়ামী লীগের রাজনীতি থেকে হয়তো ছিটকে পড়বেন তিনি। কেউ বলবে বোধদয় হয়েছে। তার পিতার মতো তিনিও আজ সরকারি দলের চোখের দুশমন হবেন। আর একদল বলবে এর নাম ভ্রান্তি। সোহেল তাজ আবারও সে ভুল করলেন যে ভুলের মাশুল দিয়েছিলেন তার পিতা তাজউদ্দীন আহমদ। কিন্তু যেভাবে বা যে কারণেই হোক সোহেল তাজের এই ৮ বৈশিষ্ট্য সরকারি দলের জন্য প্রীতিকর কিছু না। কারণ এইসব বৈশিষ্ট্যের অনেকগুলো বর্তমান সরকারের আচরণের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে। মিলে গেলেও বুঝতে হবে তিনি সত্য বলতে চেয়েছেন। যদি কিছু মিলে যায় তার প্রতিকার করা প্রয়োজন। কে না জানে আমাদের দেশে কোনো দল চাইলেই নির্বিঘ্নে দেশ শাসন করতে পারে না।

আওয়ামী লীগ জনগণ নির্ভর একটি বড় রাজনৈতিক দল। যাদের দেশের ধুলিকণায় অধিকার আছে। যিনি না হলে এদেশ স্বাধীন হতো না, বঙ্গবন্ধু আর তার যোগ্য নেতাদের কারণেই দেশমুক্ত হয়েছিল। বাংলাদেশ এখন একটি অগ্রসর দেশ। আমাদের দেশের গায়ে লেগেছে নতুন হাওয়া। কিন্তু দেশ আর অর্থনীতিতে হাওয়া লাগলেও সমাজ আর রাষ্ট্র ভালো নেই। এই ভালো নেই থেকে মুক্ত হতে হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সোহেল তাজের বক্তব্যগুলো মিলিয়ে প্রতিকার প্রয়োজন। কারণ আমরা দেখেছি এদেশ কোনোদিন কোনো স্বৈরাচারকে বরদাশত করেনি। কোনো একনায়ক বন্দুক বা ক্যাডারের জোরে বেশিদিন টিকতে পারেনি। দেশে তারা ঘৃণিত এবং নিন্দিত হয়েছে। আমরা আওয়ামী বান্ধবদের বলব, এ বিবেচনা মাথায় রাখা দরকার। সোহেল তাজের পিতার কথা না শোনার কারণে এ দেশের ইতিহাস রক্তাক্ত হয়েছিল। তিনি নিজেও জান দিয়ে প্রমাণ করেছিলেন কতটা অনুগত আর দেশপ্রেম ছিল তার। সোহেল তাজের সঙ্গে কী হয়েছিল কী হবে সে আলোচনায় না গিয়েই বলা যায়, তিনি সাহসী। তার এই সাহস কীভাবে মূল্যায়ন করা হয় বা কী এর পরিণতি তা দেখার আশায় থাকলাম।

লেখক : কলামিস্ট ও বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষক

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ