প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘সমঝোতার জন্য আন্দোলন, আন্দোলনের জন্য সমঝোতা নয়’

ডেস্ক রিপোর্ট:  বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক শামসুজ্জামান দুদু। সাবেক এই জাতীয় সংসদ সদস্য (এমপি) ও ছাত্রদলের সভাপতি ১৯৫৬ সালের ১৭ জুন চুয়াডাঙ্গা জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মরহুম অ্যাডভোকেট মো. ইব্রাহিম ও মা বেগম ফাতেমা ইব্রাহিম। চুয়াডাঙ্গা সরকারি ভি জে হাই স্কুল থেকে এসএসসি ও চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ভর্তি হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ১৯৭৮-১৯৭৯ সেশনে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক এবং ১৯৮১ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন তিনি।

ছাত্র রাজনীতির মধ্য দিয়ে পুরোদস্তুর রাজনীতিক হিসেবে আত্মপ্রকাশ হয় দুদুর। ১৯৮৬ সালে সবচেয়ে কম বয়সে বিএনপির গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক মনোনীত হন তিনি। ১৯৯২ সালে কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন এই রাজনীতিক। বিএনপির পঞ্চম কাউন্সিলে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক উপদেষ্টা নির্বাচিত হন। দলটির ষষ্ঠ জাতীয় কাউন্সিলে তিনি ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।

২৯ জুলাই, রবিবার নির্বাচন, সমসাময়িক রাজনীতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে  কথা বলেন বিএনপির প্রভাবশালী এই নেতা।

প্রশ্নঃ আপনি ছাত্রনেতা থেকে উঠে আসা জাতীয় পর্যায়ের নেতা। চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে কীভাবে মূল্যায়ন করছেন?

দুদু: স্বাধীনতার ৪৭ বছরের মধ্যে এত বড় সংকট কেউ আগে দেখেছে বলে আমার মনে হয় না। বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক সংকট চলছে, তা এককথায় ভয়াবহ। কাজেই সরকার ও বিরোধী দলের উচিত হচ্ছে অনতিবিলম্বে এই সংকট উত্তরণের পথ খুঁজে বের করা, কালবিলম্ব না করে আলোচনা শুরু করা, যেকোনো পরিস্থিতির জন্য দায়িত্ব গ্রহণ করা।

প্রশ্নঃ বর্তমান সময়ে এসে রাজনীতির আলোকে ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতি আপনার পরামর্শ আছে কি?

দুদু: এ দেশে যা কিছু ভালো হয়েছে, এর নির্মাণে প্রত্যেকটির পেছনে ছাত্র সংগঠনগুলোর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ছাত্র রাজনীতি না থাকলে দেশে গণতন্ত্র বিপদাপন্ন হয়, যা বর্তমানে হয়েছে। কারণ বর্তমানে ছাত্র রাজনীতি হুমকির মুখে। আমরা একেবারেই তাদের অনুপস্থিতি পরতে পরতে অনুভব করছি। আমার মনে হয়, ছাত্র রাজনীতিটা ফিরে আসা উচিত।

প্রশ্নঃ বিএনপি কি দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তির ইস্যুতে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়ে শেষ পর্যন্ত ছাড় দেবে?

দুদু: আমরা (বিএনপি) সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দেশের জনপ্রিয় নেত্রী বেগম জিয়াকে কাছে পেতে চেয়েছি একসঙ্গে নির্বাচন করব বলে। এটা এমন কোনো কঠিন ব্যাপার না। আমরা মনে করি, পাকিস্তান আমলে শেখ মুজিবকে মুক্তি দিয়েছিল আইয়ুব খান। তৎকালীন রাজনৈতিক সংকট কাটানোর জন্য তার (শেখ মুজিব) সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন সাধারণ নির্বাচনের প্রশ্নে। এখনো একটি সরকার রাষ্ট্র পরিচালনায় ক্ষমতায় আছে, রাজনৈতিক পরিস্থিতি সংকট কাটানোর জন্য বেগম জিয়াকে মুক্তি দিয়ে তার (খালেদা জিয়া) সঙ্গে আলোচনা করে সংকট থেকে উত্তরণের পথ খুঁজে বের করা সবচেয়ে সহজতর। আর সেদিকে যদি না গিয়ে সরকার ভিন্ন পথ গ্রহণ করে, তাহলে চলমান সংকট আরও ঘনীভূত হবে, যা সরকার ও দেশ-কারো জন্যই ভালো হবে না।

প্রশ্নঃ দাবি আদায়ে অতীতে দুইবার আন্দোলনে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছে বিএনপি। এর পেছনে সাংগঠনিক দুর্বলতা নাকি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে ভুল ছিল বলে আপনি মনে করেন?

দুদু: আমরা (বিএনপি) আন্দোলনে ব্যর্থ হই নাই। কোনো আন্দোলনেই কখনো ব্যর্থ হয় না; বরং এই আন্দোলন থেকে অনির্বাচিত সরকারের যে রাজনৈতিক দৈন্যতা প্রকাশ পেয়েছে, তা-ই আন্দোলনের সফলতা।

প্রশ্নঃ হঠাৎ করে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদকের মুখে আলোচনার বার্তা। এ বিষয়ে আপনার মন্তব্য কী?

দুদু: এটা একটা শুভ লক্ষণ। দীর্ঘদিন থেকে আমরা আলোচনা চাচ্ছি। সেখানে ক্ষমতাসীন দলের সাধারণ সম্পাদক আলোচনার জন্য যে কথা বলেছেন, সেটা আংশিকভাবে বলেছেন। টেলিফোনে সংলাপ। টেলিফোনের থেকেও টেবিলে বসে আলোচনা করলে সেটা আরও সহজ হবে। বিষয়টি গুরুতর। সেহেতু হালকাভাবে না নেওয়াই ভালো। সরকারের উচিত হচ্ছে, এটা (আলোচনা) গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করা।

প্রশ্নঃ খালেদা জিয়ার মুক্তি নাকি নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচনের দাবি-দুটোর কোনটি এখন বিএনপির মুখ্য বিষয়?

দুদু: বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি এবং নির্বাচনকালীন নির্দলীয় একটি সরকার-দুটো দাবিই বিএনপির কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্নঃ দলীয় চেয়ারপারসন ও ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ইস্যুতে বিএনপিকে যতটা সোচ্চার থাকতে দেখা যায়, জনগুরুত্বসম্পন্ন বিষয়, যেমন: বিদুৎ, গ্যাস, রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদুৎকেন্দ্রসহ সর্বশেষ কয়লা পাচার ঘটনায় একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক দল হিসেবে মাঠে নামতে খুব একটা দেখা যায়নি, বরং বদ্ধঘরে আলোচনায় সীমাবদ্ধ। আপনার দৃষ্টিতে এর কারণ কী?

দুদু: এটা আসলে ঠিক না। খালেদা জিয়া ও তারেক রহমান জাতীয় নেতা। তাদের বিষয়টি শুধু বিএনপির জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। ঠিক তেমনি মানুষের যে অভাব-অভিযোগ গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, রামপাল কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, অর্থনৈতিক দুর্নীতি-গোটা বিষয়গুলোই গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি ছাত্র-ছাত্রীদের কোটা সংস্কার আন্দোলন। তাই শুধু সমর্থন নয়, এইসব বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে কখনো কখনো মানববন্ধন, আলোচনা সভা, প্রতিবাদ সমাবেশ করা হয়েছে। কিন্তু কখনো কখনো মনে হয়েছে, সেই আন্দোলন যথেষ্ট না। সবচেয়ে বড় কথা, একটি ফ্যাসিবাদী সরকারের ক্ষমতামলে যারা রাস্তায় বের হতে দেয় না, যেখানে একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দলের (বিএনপির) ৫০০ থেকে ৬০০ নেতাকর্মী নিখোঁজ রয়েছে। সে অবস্থায় সংগঠনকে টিকিয়ে রাখা, কার্যক্রম করা ও আন্দোলন করা খুব সহজ ব্যাপার মনে হয় না।

প্রশ্নঃ বর্তমান সরকার ও নির্বাচন কমিশনের অধীনে জাতীয় নির্বাচনে যেতে আস্থাহীনতার কথা বলছেন, বলছেন তাদের অধীনে নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হবে না; হয় না। অথচ স্থানীয় পর্যায়ে সকল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তাহলে কি ধরে নেব বিএনপি শুধু ক্ষমতায় যেতে রাজনীতি করছে? আপনার মন্তব্য কী?

দুদু: সরকার ও নির্বাচন কমিশন একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। এদের অধীনে কোনো পর্যায়ের নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হবে না। স্থানীয় পর্যায়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছি। এর মানেটা হলো দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন কমিশন যে তার সাংবিধানিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে না, সে সম্পর্কে দেশের জনগণের দৃষ্টিগোচরে নিয়ে আসা এবং সেই লক্ষ্যেই বিএনপি আন্দোলন করে যাচ্ছে। বিএনপি ক্ষমতার জন্য বা ক্ষমতায় যেতে রাজনীতি করে না, আন্দোলন সংগ্রাম করে না; বরং বিএনপি দেশের হারানো গণতন্ত্র ও মানুষের মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে আনতে রাজনীতি করে যাচ্ছে, আন্দোলন-সংগ্রামে জীবন বিসর্জন দিচ্ছে।

প্রশ্নঃ দেশের রাজনৈতিক সংকট উত্তরণ ও দাবি আদায়ে সমঝোতা নাকি ফের আন্দোলনকেই গুরুত্ব দেবে বিএনপি?

দুদু: আমরা (বিএনপি) প্রথম সমঝোতাকেই গুরুত্ব দিই। সমঝোতায় আসার জন্যই আন্দোলন, আন্দোলনের জন্য সমঝোতা নয়। সেই জন্য আমরা একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাচ্ছি এবং সেই আলোচনার মধ্যে যদি মীমাংসা করতে পারি, তাহলে আন্দোলনের প্রয়োজন নেই। আর না হলে আন্দোলনের মধ্য দিয়ে মীমাংসা।

প্রশ্নঃ দীর্ঘদিন ধরে বিএনপি জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানিয়ে আসছে। সেই ঐক্য এখন কোন পর্যায়ে এবং নির্বাচনের আগ মুহূর্তে জাতীয় ঐক্য বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটে কোনো প্রভাব ফেলবে কী? আপনার বক্তব্য কী?

দুদু: জাতীয় ঐক্য গঠন প্রক্রিয়া খুব কাছাকাছি পর্যায়ে আছে। আর ২০ দল তো ঐক্যবদ্ধ থেকেই সকলের সঙ্গে ঐক্য করতে চায়। যেমন: নবগঠিত যুক্তফ্রন্ট, এমনকি প্রয়োজনে বামফ্রন্ট যা হয়েছে, তার সঙ্গেও ভোটের প্রশ্নে কাছাকাছি হওয়া যায় কি না, তা ভেবে দেখবে বিএনপি। মোট কথা, যদি এই সরকারকে নির্বাচনের মাধ্যমে পরাজিত করতে হয়, তাহলে বৃহত্তর ঐক্য সৃষ্টি করতে হবে। আবার এই সরকারকে যদি আন্দোলনে পতন ঘটাতে হয়, তাহলেও বৃহৎ জাতীয় ঐক্যের প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। শুধু তাই নয়, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য যা যা করা প্রয়োজন, বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দল তাই করবে।

প্রশ্নঃ খালেদা জিয়া দলের আইনজীবী ও রাজনীতিবিদদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের শিকার হয়ে জেল কাটছেন-এ রকম আলোচনাও শোনা যায়। আপনি কী বলবেন?

দুদু: রাজনীতিতে এমন অনেক বিষয়ই আলোচনা করা হয়, আলোচনায় উঠে আসে, যার কোনো ভিত্তি নেই। এটাও তার একটি।

প্রশ্নঃ বিএনপি নিজেদের মুক্তিযুদ্ধের ঘোষকের দল দাবি করে থাকে। অথচ এত সমালোচনা-অপবাদের পরও বিএনপি-জামায়াত জোটবদ্ধ। এটা কি রাজনৈতিক কৌশল নাকি ভোটের অঙ্ক?

দুদু: জামায়াত সাংবিধানিকভাবে, আইনগতভাবে একটি রাজনৈতিক দল; এখনো নিষিদ্ধ কোনো সংগঠন না। যেমন আওয়ামী লীগ, জাসদ, বাসদ, সিপিবি সাংবিধানিক, আইনগতভাবে রাজনৈতিক দল, ঠিক জামায়াতও রাজনৈতিক দল। সেই হিসেবে আন্দোলনের কৌশল, নির্বাচনের কৌশল, বিভিন্ন বিষয়ে যে যার সঙ্গে ঐক্য করতে পারে। যেমন: আওয়ামী লীগ নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে পরাজিত একটি স্বীকৃত স্বৈরাচার এরশাদের সঙ্গে ঐক্য করেছে। তারা তাদের কৌশলে সেটা করতেই পারে। আবার গণবাহিনী যারা গঠন করে আওয়ামী লীগের এমপিদের হত্যা করেছিল জাসদ, হাসানুল হক ইনু সাহেবের দল, তার সঙ্গে তারা (আওয়ামী লীগ) মন্ত্রিপরিষদে আছে। তেমনি নকশালদের সঙ্গেও এই সরকার আছে, যা ক্ষমতায় টিকে থাকতে তাদের রাজনৈতিক কৌশল হতে পারে। ঠিক একেবারে নির্বাচনী একটি মোর্চায় বিএনপির থাকা হচ্ছে জামায়াতের সঙ্গে। তাই জামায়াতকে যতক্ষণ পর্যন্ত নিষিদ্ধ করা না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত তার সঙ্গে কোনো ঐক্যবদ্ধ নির্বাচনী মোর্চা করা যাবে না, এটা ঠিক নয়। আর যদি এগুলো খারাপ হয়, তাহলে জনগণ তো বিএনপি-জামায়াতকে এমনিতেই ভোট দেবে না। এতে আওয়ামী লীগের এত উদ্বিগ্ন হওয়ার কী আছে? উদ্বিগ্ন এই জন্য যে, জামায়াতের কিছু ভোট আছে। সেই ভোট বিএনপি পেয়ে যাবে এবং এর জন্যই বিএনপি থেকে জামায়াতকে আওয়ামী লীগ বিচ্ছিন্ন করতে চায়।

প্রশ্নঃ স্বাধীনতার ৪৭ বছর পর দেশে মুক্তিযুদ্ধের কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য কতটুকু পূরণ হয়েছে বলে মনে করেন?

দুদু: নিঃসন্দেহে আমরা অনেকটাই এগিয়েছি। বিশেষ করে অর্থনৈতিক দিক থেকে, রাজনৈতিক দিক থেকে এগিয়েছি। কিন্তু সর্বশেষ বছরে দাঁড়িয়ে বলা যায়, আমরা গণতন্ত্রকে বিপদগ্রস্ত অবস্থায় ফেলেছি। কখনো কখনো গণতন্ত্র আমাদের ধরাছোঁয়ার মধ্যে ছিল। আবার কখনো কখনো এটা ধরাছোঁয়ার বাইরে চলে গেছে। যেমন: এখন দেশে মানুষের ভোটাধিকার নাই, দুর্নীতি হলেও দুর্নীতিকারীর সাজা হচ্ছে না, তেমনি সংবাদপত্র স্বাধীনভাবে লিখতে পাচ্ছে না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা একেবারে সংকুচিত, স্বাধীনতা নেই বললেই চলে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও এখন তাদের তথাকথিত ছাত্র সংগঠন কর্তৃক নিরাপদ না। সে জন্য একদিকে আমরা একটি সম্ভাবনাময় দেশ, ঠিক তেমনি আবার গণতন্ত্র, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে।

প্রশ্নঃ একাদশ নির্বাচনের আগে যদি কোনো কারণে খালেদা জিয়া কারামুক্তি না পান, তবে নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ক্ষেত্র বা পরিবেশ সৃষ্টি হয়, তখন বিএনপি কী করবে ?

দুদু: এখনো সময় আছে। আমরা প্রত্যাশা করি তিনি (খালেদা জিয়া) কারামুক্তি পেয়ে বের হবেন। আর যদি তাকে মুক্তি দেওয়া না হয়, তিনি বের হতে না পারেন, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত আমরা তখন নিতে পারি যে, বিএনপির কী করা উচিত। তবে শেষ কথা হচ্ছে, খালেদা জিয়াকে বাদ দিয়ে জাতীয় নির্বাচন এ দেশে হবে না।

প্রশ্নঃ জনগণ আগামী দিনে বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিলে কেমন বাংলাদেশ দেখতে চান?

দুদু: গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ, মানুষের মুক্তচিন্তা-বুদ্ধির বাংলাদেশ, দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ, স্বাবলম্বী বাংলাদেশ। আমরা অনেক ভুল-ত্রুটি করেছি। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে আইনের শাসনের মধ্য দিয়ে জবাবদিহি সরকার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ নির্মাণ করা।

প্রশ্নঃ সময় দেওয়ার জন্য  আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।

দুদু: আপনাকেও ধন্যবাদ।

প্রিয় ডট কম।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ