প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

টি-টোয়েন্টিতে সাফল্যের খোঁজে বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্কঃ  দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়ার ধাক্কা সামলে ওয়ানডেতে সাফল্য পেয়েছে বাংলাদেশ। মাশরাফি বিন মুর্তজার নেতৃত্বে ৯ বছর পর বিদেশের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জিতে টাইগাররা এখন দারুণ আত্মবিশ্বাসী। ওয়েস্ট ইন্ডিজে লাল-সবুজ দলের সামনে এবার টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের চ্যালেঞ্জ।

সেন্ট কিটসের ওয়ার্নার পার্কে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটি শুরু হবে বুধবার বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৬টায়। ম্যাচটি সরাসরি সম্প্রচার করবে বিটিভি, গাজী টিভি ও চ্যানেল নাইন।

কুড়ি ওভারের ক্রিকেটে ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হলেও র‌্যাংকিংয়ে দু দলের তেমন ফারাক নেই—ক্যারিবীয়রা ৭ আর বাংলাদেশ ১০ নম্বরে। মুখোমুখি লড়াইয়েও সাকিব-তামিমরা তেমন পিছিয়ে নেই। এর আগে ৬ বার মুখোমুখি হয়ে দুবার জয় পেয়েছে বাংলাদেশ, হেরেছে তিনবার, অন্য ম্যাচটি পরিত্যক্ত। প্রথম জয় এসেছিল প্রথম দেখাতেই, ২০০৭ বিশ্বকাপে মোহাম্মদ আশরাফুল ও আফতাব আহমেদের দুর্দান্ত ফিফটিতে। মিরপুরে চার বছর পর দ্বিতীয় জয়ে বড় অবদান মুশফিকুর রহিমের অপরাজিত ৪১ রানের।

ওয়ানডেতে সাম্প্রতিক বছরে বেশ কিছু স্মরণীয় সাফল্য পেলেও টি-টোয়েন্টি যেন বাংলাদেশের ‘গলার কাঁটা’। পরিসংখ্যান সোচ্চারে ঘোষণা করছে তথ্যটা। এ যাবত ৭৯ টি-টোয়েন্টি খেলে বাংলাদেশ জিতেছে মাত্র ২৩টি। পরাজয়ের সংখ্যা জয়ের দ্বিগুণেরও বেশি, ৫৪টি। পরিত্যক্ত হয়েছে দুটি ম্যাচ। ২০১৮ সালেও অবস্থার হেরফের হয়নি। গত মার্চে শ্রীলঙ্কার নিদাহাস ট্রফিতে স্বাগতিকদের দুবার হারালেও ফাইনালে জিততে-জিততে শেষ বলে দিনেশ কার্তিকের ছক্কার যন্ত্রণা বহুদিন পোড়াবে ক্রিকেটপ্রেমীদের। জুনে তো বিশাল লজ্জা—আফগানিস্তানের কাছে তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ!

তবে ম্যাচটা টি-টোয়েন্টি বলেই যে কোনও কিছু ঘটা সম্ভব। তাছাড়া ওয়ানডে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস তো আছেই। টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক সাকিব আল হাসান তাই আশাবাদী, ‘ওয়ানডে সিরিজে আমরা দারুণ খেলেছি। আশা করি, টি-টোয়েন্টিতে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারবো। খেলোয়াড়রা উজ্জীবিত, তারা সামর্থ্যের সেরাটা দিয়ে খেলতে পারলে সাফল্য আসবেই। সবাই নিজের সেরাটা দিতে মুখিয়ে আছে।’
বাংলাদেশের জন্য স্বস্তির কথা, দারুণ ছন্দে আছেন সিনিয়র খেলোয়াড়রা। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে দুটি সেঞ্চুরি সহ রেকর্ড ২৮৭ রান করা তামিম ইকবাল, ব্যাটে-বলে ঔজ্জ্বল্য ছড়ানো সাকিব (১৯০ রান ও ২ উইকেট), মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ (দুজনেই ১১০ রান) এবং মাশরাফি মুর্তজা (৩৭ রান ও ৭ উইকেট) সাফল্যের মূল কাণ্ডারি। টি-টোয়েন্টিতে অবশ্য মাশরাফি নেই, কিন্তু বাকি চার খেলোয়াড়ের অভিজ্ঞতা কাজে আসবেই। পাশাপাশি মোস্তাফিজুর রহমানের নিয়ন্ত্রিত বোলিং বড় অনুপ্রেরণা বাংলাদেশের জন্য।

স্বস্তির পাশাপাশি দুশ্চিন্তার কথা, তরুণ খেলোয়াড়দের ফর্মহীনতা। এনামুল হক বিজয় এবং সাব্বির রহমান একটি ম্যাচেও জ্বলে উঠতে পারেননি। অধিনায়ক সাকিব তবু ভরসা রাখছেন তরুণদের ওপর, ‘টি-টোয়েন্টি দলে কয়েকজন নতুন খেলোয়াড় যোগ হয়েছে। এটা তাদের জন্য সুবর্ণ সুযোগ। বাংলাদেশের জন্য সুখবর, এই ফরম্যাটে আমরা নতুন খেলোয়াড় পেয়েছি। আশা করি, তারা ভালো করবে।’

সাকিব-তামিমদের জন্য আরেকটা আশার কথা, ক্রিস গেইলের অনুপস্থিতি। টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের সবচেয়ে সফল ও বিধ্বংসী ব্যাটসম্যানকে এই সিরিজে বিশ্রাম দিয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। প্রতিপক্ষের এমন সিদ্ধান্ত স্বস্তি দিচ্ছে সাকিবকেও, ‘গেইলের মতো খেলোয়াড় যে দলে থাকে, তারা বিশাল সুবিধা পায়। আমাদের জন্য অবশ্যই ভালো হয়েছে, তাকে নিয়ে আলাদা পরিকল্পনা করতে হবে না।’ বাংলা ট্রিবিউন।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বশেষ

সর্বাধিক পঠিত