প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তিন থেকে দুইয়ে বিএনপি

ডেস্ক রিপার্ট : সোমবার (৩০ জুলাই) ভোটের দিন বিএনপি তিন সিটির মেয়র পদের নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করলেও এখন সে অবস্থান থেকে কিছুটা সরে এসেছে দলটি। এখন তারা তিনটির মধ্যে দুই সিটির ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে সেখানে পুনরায় ভোট দাবি করেছে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ফলাফল অনুযায়ী তিন সিটির মধ্যে সিলেটে তাদের মনোনীত প্রার্থী বিজয়ের পথে থাকায় সেখানে বিএনপি আগের অবস্থান থেকে সরে এসেছে। বিএনপির নতুন এই অবস্থানকে ‘রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি’ বলে মনে করছে নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগও বলেছে, বিএনপি আগের দিন তিন সিটিতে পুনরায় নির্বাচন চেয়েছিল। তারা কী এখন সিলেটেও পুনরায় নির্বাচন চায়।

মঙ্গলবার (৩১ জুলাই) দুপুরে নয়াপল্টন বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কারচুপির অভিযোগ এনে রাজশাহী ও বরিশাল সিটি নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে। একইসঙ্গে এই দুই সিটিতে পুনরায় নির্বাচনের দাবিতে এবং কারচুপির প্রতিবাদে আগামী বৃহস্পতিবার (২ আগস্ট) সারাদেশের মহানগরীগুলোতে প্রতিবাদ সমাবেশেরও ঘোষণা করেন তিনি।

সিলেট সিটি নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, যদি সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন সুষ্ঠু ভোট হতে ধানের শীষের প্রার্থী লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করতো। সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সাধারণ সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার  বলেন,প্রার্থীরা নিজেদের স্বার্থে নির্বাচনে চাপ সৃষ্টি করার জন্য অনেক কিছু করতে পারে। এটা রাজনৈতিক সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে আমাদের দেশে নগ্নভাবে নির্বাচন চলাকালে প্রার্থীরা অভিযোগ করেন। যা অত্যন্ত লজ্জাজনক। কিন্তু নির্বাচনের মাঠে রেফারি (নির্বাচন কমিশন) কাছে প্রার্থীরা ব্যাপকভাবে অভিযোগ করতে পারে। তখন রেফারির অভিযোগগুলো যাচাই করে দেখে কোনটি সঠিক।

তিন সিটিতে নির্বাচন কমিশন একটি সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান করতে যে ব্যর্থ হয়েছে এই অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন,তবে রেফারিকেও চোখ-কান খোলা রেখে দেখতে হবে কোথাও কোন ফাউল হচ্ছে কিনা। তার কাছে অতিরিক্ত অভিযোগও আসতে পারে।
এই প্রসঙ্গে সাবেক নির্বাচন কমিশনার আবদুল মোবারক বলেন, আমাদের দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে কারও নির্বাচনে পরাজয়ের ভয় থাকলে তখন বিভিন্ন অভিযোগ করতে থাকে। যদিও এটা অভিযোগ করার সঠিক পথ নয়। নির্বাচনের আইনের মধ্যে লেখা আছে-ভোট গ্রহণ হয়ে গেলে ভোট সংক্রান্ত কোনও আপত্তি থাকলে বা কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কোনও অভিযোগ থাকলে তাকে ট্রাইব্যুনালে আপত্তির প্রমাণসহ আবেদন করবে। তখন ট্রাইব্যুনাল বিচার করে যদি মনে করেন কোনও কেন্দ্রের বা পুরো ভোট বাতিল করার দরকার আছে ,তখন তারা যে কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন,‘নির্বাচন চলাকালে প্রার্থীদের বিভিন্ন অভিযোগ করার যে সংস্কৃতি চালু হয়েছে তা রাজনৈতিক স্ট্যান্টবাজি। যারা দাবি করে তারাও জানে এই রকম দাবি করে কোনও কিছু হবে না। এর সঠিক পথ হলো ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে মামলা করা। অর্থাৎ এটা হচ্ছে কারও সঙ্গে কুস্তি করলাম,হেরে যাওয়ার পর কিছুক্ষণ তাকে বকাবাজি করা আর কী।’
আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ মাহবুব উল আলম হানিফ বলেন,বিএনপি যখনই নির্বাচনে পরাজয়ের শঙ্কা দেখে তখনই নির্বাচনকে বিতর্কিত করার জন্য নানাভাবে মিথ্যাচার করার চেষ্টা করে। পরাজয়ের পর তাদের কাছে সেই নির্বাচন সুষ্ঠু হয়নি বলে মনে হয়। আর যেটাতে তারা জয়লাভ করে সেটা ভালো হয়, সেখানে তারা গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে বলে বলতে থাকে। এটা হচ্ছে তাদের মানসিকতা। এখন সিলেটেও পুনরায় নির্বাচন চায় কি বিএনপি?

অবশ্য সিলেট সিটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর পরাজয়ের বড় কারণ সাংগঠনিক দুর্বলতা বলেও মনে করছেন হানিফ।
প্রসঙ্গত সোমবার (৩০ জুলাই) দুপুর ১ টার দিকে ভোট চলাকালেই নির্বাচন বাতিলের দাবি তোলেন সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী। নির্বাচনে কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ তোলেন তিনি। তবে সিসিক নির্বাচনে ১৩৪টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৩২টি কেন্দ্রের ফলাফলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমেদ কামরানের চেয়ে ৪ হাজার ৬২৬ ভোট বেশি পেয়েছেন তিনি। এ নির্বাচনে যে দুটি কেন্দ্রে ভোট বাকি রয়েছে সেখান থেকে আর মাত্র ৮১টি ভোট পেলেই মেয়র পদে নির্বাচিত হয়ে যাবেন আরিফুল হক চৌধুরী।

নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে আরিফুল হক বলেন,‘আমি আগে যেভাবে অভিযোগ করছি আজও করছি। সিলেটে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। ভোট ডাকাতি করা হয়েছে। জনগণের রায় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। যদি এই পবিত্র নগরীতে সুন্দর,সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন হতো তাহলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ৫০ হাজারেরও বেশি ভোট পেতেন না। আর আমি ১ লাখ ভোট বেশি পেয়ে নির্বাচিত হতাম।’ সূত্র : ,বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ