Skip to main content

কোটা সংস্কার আন্দোলন, আবারও রাজপথে শিক্ষার্থীরা

জুবায়ের সানি : সরাকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির ‘সংস্কার’ চেয়ে সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর ছাত্রলীগের হামলার পরে কিছুটা নিস্তেজ হয়ে পরার পরে মঙ্গলবার আবারো আন্দোলনে নেমেছেন শিক্ষার্থীরা। এসময় আন্দোলনের অংশ হিসেবে চলমান ক্লাস পরীক্ষা বর্জন কর্মসূচী থেকে সত্বেও এসেছেন তারা। কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের উপর হামলাকারী এবং ছাত্রী ও শিক্ষক লাঞ্ছনাকারীদের বিচার, গ্রেপ্তার শিক্ষার্থীদের মুক্তি এবং কোটা সংস্কারের সংস্কারের প্রজ্ঞাপন দেয়ার দাবিতে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে কলা ভবন. ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ, সিনেট ভবন, ভিসি চত্বর, টিএসসি, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার, সায়েন্স লাইব্রেরি এবং কার্জন হল ঘুরে টিএসসির রাজু ভাষ্কর্যে এসে সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মধ্য দিয়ে শেষ হয়। গত ৩০ জুলাই ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ কতৃক আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে হামলা চালায় ছাত্রলীগ। এতে গরুতর আহত হয় কোটা সংস্কার আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতা নুরুল হক নুর সহ অনেকে। এরপর সারা দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রলীগের নেতৃত্বে হামলা চালালে আন্দোলন কিছুটা নিস্তেজ হয়ে পড়ে। এদিকে দীর্ঘ একমাস পরে কোনো আন্দোলন কর্মসূচীতে যোগ দিয়েছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম নেতা নুরুল হক নুর। সংক্ষিপ্ত সমাবেশে নুর বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন একটি যোক্তিক আন্দোলন। সেই যোক্তিক আন্দোলনে পুলিশ ও সন্ত্রাসী বাহিনী হামলা চালিয়েছে। শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করা হয়েছে। বোনদের লাঞ্ছিত হতে হয়েছে। আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় জাহাঙ্গীর নগর বিশ^বিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের হুমকি দেওয়া হয়েছে। আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবাযদুল কাদের বলেছেন কোটা সংস্কার আন্দোলনে হামলায় ছাত্রলীগের কেউ জড়িত নয়। আমরাও সেটা বিশ^াষ করতে চাই। কিন্তু বিভিন্ন গনমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে ছাত্রলীগ নামের কতিপয় সন্ত্রাসীকে দেখা যায়। এরা সবাই চিহ্নিত।’ কোটা সংস্কারের জন্য সুপারিশ করতে গঠন করা কমিটির মেয়াদ ৯০ বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এই ৯০ দিন যেতে না যেতেই নির্বাচন চলে আসবে। সরকারের মেয়াদ শেষ হবে। সরকার চাইলেও কোট সংস্কার করতে পারবে না।’ কোটা সংস্কার আন্দোলন সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক উল্লেখ করে নুর বলেন ‘আমরা কোনো রাজনৈতিক দলের হয়ে আন্দোলনে আসিনি। আমাদের আন্দোলনের কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। আমরা সাড়া বাংলার ছাত্র সমাজের সমর্থন নিয়ে বৈষম্যেও বিরুদ্ধে একটি যোক্তিক আন্দোলন করছি।’ এসময় কোটা সংস্কার প্রত্যাশীদের সথে প্রধানমন্ত্রীকে আলোচনার জন্য অনুরোধ করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আপনি ছাত্রদের নিয়ে বসেন। আমাদের যোক্তিক কথাগুলো শুনুন।’ কোটা সংস্কার আন্দোলনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অসম্পূর্ণ তথ্য দেওয়া হয়ে থাকতে পারে বলেও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। এসময় তিনি আরও বলেন, ‘আন্দোলনকারীদেরকে সরকারের বিরোধী পক্ষ হিশেবে দার করানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।’ এদিকে রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাস চাপায় শহীদ রমিজ উদ্দিন ক্যান্টনমেন্ট কলেজের দুই শিক্ষার্থী নিহত হওয়ার ঘটনায় বাসচালকের কঠোর শাস্তিসহ ৯ দফা দাবিতে আন্দোলন করছে রাজধানীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা। ছাত্রদের ৯ দফা দাবির সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সাধারণ শিক্ষার্থীদেও প্লাটফর্ম ‘সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’। নুরুল হক নুর তার বক্তৃতাকালে বাসচালকের শাস্তির দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেন। এসময় ন্যয্য দাবিতে আন্দোলনরত কলেজ শিক্ষার্থীদের উপর পুলিশি হামলার তীব্র নিন্দা জানান নুর।

অন্যান্য সংবাদ