প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

ভুয়া মেডিকেল সনদ দিয়ে মিথ্যা মামলা, তদন্তে নেমেছে পুলিশ

ইসমাঈল হুসাইন ইমু : সরকারি হাসপাতালের ভুয়া মেডিকেল সনদ দিয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করে সাধারন মানুষকে হয়রানীর অভিযোগ পাওয়া গেছে। আর এ কাজে সহযোগিতা করছেন এক শ্রেনির দুর্নীতিবাজ ডাক্তার ও দালাল। সম্প্রতি এমন একটি ঘটনার তদন্তে নেমেছে পুলিশ।

জানা গেছে, গণপুর্ত বিভাগ মিরপুর নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ের ক্যাশ সরকার আব্দুর রাজ্জাক সেগুন বাগিচা গণপুর্ত বিভাগের উচ্চমান সহকারি নুরুল হকের এক স্বজনকে চাকরি দেয়ার নামে সাড়ে ৬ লাখ টাকা নেন। এরপর চাকরি দিতে না পারায় নুরুল হক টাকা ফেরত চান। এ নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর আব্দুর রাজ্জাক আদালতে মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৭৭৮৭৮৫-নম্বর রেজিস্টারে গত ৪ মার্চ চিকিৎসা নেন। আর এক মাস আগে ৪ ফেব্রুয়ারী দেওয়া একটি মেডিকেল সার্টিফিকেট মামলায় নথিভুক্ত করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ওই রেজিস্ট্রেশনের ঢামেক হাসপাতালে যে রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন, তার নাম মুন্না (৪০) বলে জানা গেছে। অথচ একই রেজিস্ট্রেশনে মো. আব্দুর রাজ্জাক মেডিকেল সার্টিফিকেট গ্রহণ করেছেন। ওই সার্টিফিকেট যে চিকিৎসক দিয়েছেন তার নাম ডা. মোহাম্মদ মোমিনুল হক। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ওই সময় ডা. মোহাম্মদ মোমিনুল হক নামে কোনো চিকিৎসক ছিলেন না। আর মামলায় মো. আব্দুর রাজ্জাক মিয়ার বয়স (৫৫) উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ হাসপাতালে যে রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন, তার বয়স হাসপাতালের রেজিস্ট্রারে ৪০ লেখা রয়েছে। আবার মামলায় বাদি গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ইএম বিভাগের অ্যাকাউন্টস সেকশনের দায়িত্বরত কর্মকর্তা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অথচ তিনি ক্যাশ সরকার পদে কর্মরত।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, বাদির কাছ থেকে মো. নুরুল হক বিভিন্ন সময়ে মোট ২৭ হাজার টাকা ধার নেন। উক্ত টাকা ফেরত চাইতে গেলে সেগুনবাগিচা এজি অফিসে তার ওপর হামলা চালানো হয়। এরপর বাদির কাছে সাড়ে ৬ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছে। বাদি কর্মচারীদের চেক নিয়ে আসতে গেলে নুরুল হক তার ৫ থেকে ৭ জন সহযোগী নিয়ে তার ওপর হামলা চালিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।

আলোচিত ঘটনাটি তদন্ত করছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের ধানমন্ডি জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার আহসান খান। তিনি বলেন, ঢামেক হাসপাতালের সার্টিফিকেটটি মিথ্যা হিসেবে প্রমাণ পাওয়া গেছে। আর যে ডাক্তারের সার্টিফিকেট দিয়ে মামলা করা হয়েছে। ওই ডাক্তার তখন ছিলেন না। বিষয়টি এখনো তদন্ত শেষ হয়নি বলে জানান তিনি।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ