প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শুধু চাকরি নয় ভর্তিতেও জরুরি ডোপ টেস্ট

ডেস্ক রিপোর্ট : মাদক নির্মূলে দরকার স্থায়ী সমাধান। তরুণদের মাদক সেবনের প্রবণতা রোধ করতে সরকারি চাকরিতে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে এ সিদ্ধান্তের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।  সরকারি, বেসরকারি চাকরি এবং যানবাহনের লাইসেন্স পেতে মাদকাসক্ত শনাক্তকরণ ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে। এই টেস্টে উত্তীর্ণরাই কেবলমাত্র চাকরি এবং লাইসেন্স পেতে পারবেন। এছাড়াও দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতেও আকস্মিকভাবে উপস্থিত হয়ে শিক্ষার্থীদের ডোপ টেস্ট করা হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাদকবিরোধী অভিযান অনেক আগে থেকেই পরিচালিত হয়ে আসছে। কিন্তু এরপরও বাড়ছে তরুণদের মাদক গ্রহণের প্রবণতা। এ জন্য সরকারি চাকরির পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে যোগদানে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সঙ্গে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করা উচিত।

তিনি বলেন, চাকরিতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা আবশ্যিকভাবে করতে হয়। সে ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য পরীক্ষার সঙ্গে এই টেস্টটা খুব সহজেই যোগ করা যায়। শিক্ষার্থীদের মাদক গ্রহণে নিরুৎসাহিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট যোগ করা উচিত। তবে ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সব যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ডোপ টেস্টে পজিটিভ এলে ভর্তির অযোগ্য বলে বিবেচনা করা উচিত হবে না। বরং এসব শিক্ষার্থীকে ভুল সংশোধনের সুযোগ দিতে হবে। তরুণরাই এ দেশের ভবিষ্যৎ। তাদের পুরো জীবন পড়ে আছে। মাদক গ্রহণের কারণে তাদের ভবিষ্যৎ নষ্ট না করে সংশোধন করে সুন্দর আগামী নিশ্চিত করতে হবে।

ডোপ টেস্টের প্রয়োজনীয়তা বিষয়ে মাদকদ্রব্য ও নেশা নিরোধ সংস্থার (মানস) প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি অধ্যাপক ডা. অরূপরতন চৌধুরী বলেন, ‘সরকারি চাকরিতে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্তকে আমি স্বাগত জানাই। এর সঙ্গে বেসরকারি চাকরি, সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে ভর্তির ক্ষেত্রে ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক করতে হবে। এ উদ্যোগগুলো যত দ্রুত নেওয়া হবে ততই মঙ্গল।’

তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদকদ্রব্য গ্রহণের মাত্রা বাড়ছে। এই তরুণরা মাদকের ছোবলে তিলে তিলে নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে। অতি দ্রুত তাদের এ পথ থেকে না ফেরালে অন্ধকার পথে হারিয়ে যাবে তারুণ্য। ডোপ টেস্ট বাধ্যতামূলক হলে শিক্ষার্থীদের মাদক গ্রহণের প্রবণতা যেমন কমবে, তেমনই আরও বেশি সচেতন হবে শিক্ষার্থীরা।

ডোপ টেস্টে মাননির্ধারক থাকতে হবে দাবি জানিয়ে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল বলেন, ‘চাকরি, শিক্ষা এই ক্ষেত্রগুলোতে ডোপ টেস্ট নির্ধারণ করার জন্য অনেক আগে থেকেই দাবি জানিয়ে আসছি। সরকারি চাকরির পাশাপাশি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিতেও ডোপ টেস্ট যোগ করতে হবে।’ শুধু ডোপ টেস্ট করলে হবে না, সেখানে ওই ব্যক্তির মাদক সেবনের মাত্রা নির্ধারণের বিষয়টিও উল্লেখ করতে হবে।

বিশেষজ্ঞ এই চিকিৎসক বলেন, একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত মাদক সেবন না করলে ডোপ টেস্টে নেগেটিভ ফলাফল আসে। এ জন্য মাদকসেবীরা কিছুদিন মাদক সেবন না করে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করলে তাদের ধরার কোনো উপায় থাকবে না। তাই ডোপ টেস্টে মাননির্ধারক উল্লেখ করতে হবে। যেমন ওই ব্যক্তি কত দিন আগে মাদক সেবন করেছিলেন, শরীরে মাদকের মাত্রা কত, তিনি নিয়মিত সেবন করেন কিনা এই বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করলে মাদক গ্রহণ বিষয়ে সঠিক তথ্য পাওয়া যাবে। তাই শুধু ডোপ টেস্টের ওপর জোর দিলে হবে না, সেই সঙ্গে শস্তির ব্যাবস্থা করতে হবে।

সূত্র : বাংলাদেশ প্রতিদিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ