প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

শেখ হাসিনার গুডবুকে ৩০ তরুণ প্রার্থী

মো. ইউসুফ আলী বাচ্চু: আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের তালিকায় উঠে এসেছে নতুন ও তরুণদের নাম। আওয়ামী লীগের হাইকমান্ডও চাচ্ছেন তরুণরা এগিয়ে আসুক রাজনীতির মূল ধারায় এবং পরবর্তী রাজনীতির হাল ধরুক। নির্বাচনকে সামনে রেখে ইতিমধ্যেই দলীয় সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তরুণ প্রার্থীদের জন্য আলাদা একটি তালিকা তৈরি করেছেন। যেখানে ৩০ জন তরুণের বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ খবর নিচ্ছেন তিনি। আওয়ামী লীগের নির্ভরযোগ্য সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী তালিকায় নতুন ও তরুণদের স্থান দিতে চাচ্ছেন আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা। সেই তরুণ নেতৃবৃন্দর মধ্যে বেশির ভাগই সাবেক ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও বর্তমান আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতাদের নাম রয়েছে। তালিকাতে কয়েকজন পেশাজীবী ও ব্যবসায়ী নেতার নামও রয়েছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ইতোমধ্যে নির্বাচনকে ঘিরে এলাকায় মাঠপর্যায়ে তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছেন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। নিজ নিজ সংসদীয় আসনের মানুষের সাথে সম্পর্ক বৃদ্ধি এবং জনপ্রিয়তা অর্জনে তারা এলাকায় যাচ্ছেন, গণসংযোগ করছেন। বিভিন্ন উৎসব উপলক্ষে মনোনয়নপ্রত্যাশী নতুন ও তরুণদের নজর এখন এলাকার দিকে।

ক্ষমতাসীন দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী এই নেতাদের অনেকে এলাকায় ইতোমধ্যে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন। মনোনয়নের দৌড়ে পুরনো প্রার্থীদের সামনে বড় প্রতিদ্বন্দ্বি হয়ে দাঁড়িয়েছেন তারা। তাদের মধ্যে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ নেতা যেমন রয়েছেন তেমনি আছেন ছাত্রলীগ কিংবা অঙ্গ সংগঠনের নেতাও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের সভাপতিমন্ডলীর কয়েকজন সদস্য বলেন, আগামী নির্বাচনে প্রায় ১২০ থেকে ১৩০ জন প্রার্থীর পরির্বতন হবে। এই আসনগুলোতে তরুণদের স্থান দেওয়া হবে। বয়স্ক প্রার্থীদের নাম বার বার আসলেও এবার আগামী রাজনীতির নেতৃত্ব গড়ে তোলার জন্য তরুণদের বেশি প্রাধান্য দেওয়া হবে। এর আগে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিশেষ পরিস্থিতিতে হওয়ায় ওই সময়ে ৫০টি আসনে প্রার্থী পরিবর্তন হয় কিন্তু এবার প্রায় ১০০ এর বেশী আসনে প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে এবং তা হবে।
আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা জানান, বয়সের কারণে যারা বিভিন্ন রোগ-শোকে ভূগছেন তারাও এবার দলের মনোনয়ন পাবেন না। এছাড়াও যে সকল সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে তাদের পরিবর্তে অপেক্ষাকৃত তরুণদের দল মনোনয়ন দেবে।

মনোনয়ন প্রত্যাশী এসব আলোচিত নেতাদের মধ্যে রয়েছেন-দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল (নেত্রকোনা-৩), সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম (শরীয়তপুর-২), কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী (লক্ষ্মীপুর-৪), আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী (চাঁদপুর-৩), উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম (চট্টগ্রাম-১৫), কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য এ বি এম রিয়াজুল কবীর কাওছার (নরসিংদী-৫) অথবা যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ, নেত্রকোনা-৫ আসন থেকে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমেদ হোসেন, সিলেট-১ আসনে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিসবাহউদ্দিন সিরাজ। ব্যবসায়ীদের মধ্যে তালিকায় রয়েছেন: এক্সপোর্টাস এসোশিয়েসন অব বাংলাদেশ (ইএবি)’র সভাপতি, বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ও তারকা ফুটবলার আব্দুস সালাম মুর্শেদী (খুলনা-৪), ঢাকা-১৬ (পল্লবী-রূপনগর) আসনে বিজিএমইএ’র বর্তমান কমিটির সহ-সভাপতি এবং ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এস এম মান্নান কচি, বীরমুক্তিযোদ্ধা ইউনুস আকবর (যশোর-৫)। অন্যদের মধ্যে রয়েছেন কেন্দ্রীয় সদস্য মারুফা আক্তার পপি (জামালপুর-৫), গাইবান্ধার-৫ সাঘাটা ফুলছড়িতে ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন। চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন। ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বদিউজ্জামান সোহাগ (বাগেরহাট-৪), সাবেক এমপি কায়সার হাসনাত (নারায়ণগঞ্জ-৩), কোহেলি কুদ্দুস মুক্তি (নাটোর-৪)। ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি বাহাদুর বেপারী (শরীয়তপুর-৩)। এ কে এম কামরুজ্জামান (মেহেরপুর-২) মাগুরা-১ আসনে ছাত্রলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহকারী একান্ত সচিব সাইফুজ্জামান শিখর। ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মনিরুজ্জামান মনির (ঝালকাঠি-১), শফি আহমেদ (নেত্রকোণা-৪), ড. জায়েদ মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ (কিশোরগঞ্জ-২), অজয় কর খোকন (কিশোরগঞ্জ-৫) আসনে। ঢাকার আসনগুলোতে কয়েকজন তরুণ তালিকায় ঠাঁই পেয়েছেন। তাদের মধ্যে আওলাদ হোসেন (ঢাকা-৪), আলহাজ্ব মশিউর রহমান মোল্লা সজল (ঢাকা-৫), চৌধুরী আশিকুর রহমান লাভলু (ঢাকা-৬), যুবলীগের ইসমাঈল চৌধুরী সম্রাট (ঢাকা-৮), সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সাবিনা আক্তার তুহিন (ঢাকা-১৪)। এছাড়া সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যদের মধ্যে তালিকায় আরো রয়েছেন নূরজাহান বেগম মুক্তা (চাঁদপুর-৫), তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম (টাঙ্গাইল-৬), ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে অধ্যক্ষ সুজাউল করিম চৌধুরী বাবুল।

এ বিষয়ে ঢাকা-৫আসনের মনোনয়ন প্রত্যাশী মশিউর রহমান মোল্লা সজল বলেন, আমার প্রথম লক্ষই হচ্ছে (ঢাকা-৫) নির্বাচনী এলাকাকে মাদকমুক্ত এবং সুপরিকল্পিত শিক্ষা জোন হিসেবে গড়ে তোলা।

এ বিষয়ে নারায়নগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক এমপি কায়সার হাসনাত বলেন, নারায়নগঞ্জের সোনারগাঁও এক সময় বারো ভূইঁয়ার রাজধানী ছিল। প্রাচ্যের নগরী হিসেবে দেশে-বিদেশে এই অঞ্চলের অনেক খ্যাতি রয়েছে। আমি এমপি হলে আগামীতে এই অঞ্চলকে বিশ্বের অন্যতম পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করবো।

ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট বলেন, আমি বরাবরই কর্মীদের সাথে নিয়ে পথচলি। গরীব-দু:খী ও অসহায় মানুষদের কল্যানে কাজ করলে আমার ভালো লাগে। তাছাড়া রাজনীতি মানেই হচ্ছে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখা। আমি মনোনয়ন পেলে আমার নির্বাচনী এলাকার উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবো। তারপর অসহায় বাবা-মা আর বৃদ্ধদের পাশে থাকবো। রাস্তায় কাউকে ছিন্নমূল হয়ে বসবাস করতে হবে না, তাদের জর্ন্য নির্ধারিত আবাসনের ব্যবস্থা করে দিবো।