প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সড়কে মৃত্যুর মিছিল ও দেশের অসহায়ত্ব !

ফজলে রাব্বী খান : বাংলাদেশের পথে প্রান্তরে সব থেকে বেশী যে কথাটি শোনা যায় তা হলো “আর কত প্রাণ গেলে শেষ হবে সড়ক-মহাসড়কের নৈরাজ্য? “রাজধানীর রমিজ উদ্দিন কলেজের ৪ শিক্ষার্থী, তিতুমীর কলেজের রাজীব বা চট্টগ্রামের পায়েলের মৃত্যু এদেশের প্রেক্ষাপটে নতুন কোন ঘটনা নয় বরং সড়ক পথের নৈরাজ্যের পুরনো চিত্রের পুনরাবৃত্তি মাত্র।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর বাংলাদেশে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় ৭,৩৯৭ জন ও আহত হয় ১৬,১৯৩ জন। সেই হিসাবে গড়ে প্রতিদিন সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয় প্রায় ২১ জন ও আহত হয় প্রায় ৪৪ জন। ২০১৭ সালে আগের বছরের চেয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি বেড়েছে ২২% । একই সাথে দুর্ঘটনার হার বেড়েছে ১৫.৩%। এসব পরিসংখ্যান নির্ভর তথ্য যে দৃশ্যটি আমাদের সামনে ভেসে আসে তা হোল নৈরাজ্যময় সড়ক ব্যবস্থা। বাংলাদেশে গত ১২ বছরে সাড়ে ৫১ হাজার সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় নিহতের সংখ্যা ৫৭ হাজার ২২৬, আহত হয়েছেন ৯৩ হাজার ৫০৬ জন।

কে নিবে এই মৃত্যুর দায়ভার ? নৈরাজ্যের সড়ক এ দেশ কেড়ে নিয়েছে মিশুক মুনীর, তারেক মাসুদের মত অনেক মেধাবি মুখ। এদেশের মানুষ আজ রাস্তায় নামতে ভয় পায়। সবার মনে একই আতঙ্ক সড়কে নৈরাজ্য। এই নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে জিম্মি আজ পুরো জাতি। শুধু রাজধানী ঢাকায় সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে ১৩৮ %, রাস্তায় নামলেই দেখা যায় বাস ড্রাইভারদের সড়কজুড়ে গতির দৌড় আর ট্রাফিক আইন অমান্যের অশুভ প্রতিযোগিতা।

দেশের রাজধানীর পরিস্থিতি এই হলে, সারা দেশের পরিস্থিতি কেমন হতে পারে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। অতীতে রাজধানীতে বেআইনি সিটিং সার্ভিস বন্ধের উদ্যোগ নেয়া হলেও পরিবহন মালিক সমিতির অদৃশ্য সিন্ডিকেটের কাছে হার মানতে হয়েছিলো সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে। অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদ করতে গিয়ে নাজেহাল হতে হয়েছিলো প্রায়াত মেয়র আনিসুল হককে। পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের সামান্য স্বার্থ ক্ষুন্ন হলেই জেলায়- জেলায় দেখা যায় পরিবহন ধর্মঘট আর জিম্মি হতে হয় লাখ-লাখ মানুষকে। সংশ্লিষ্ট সংস্থা বা কর্তা ব্যক্তিরাই যেখানে সড়কের নৈরাজ্য দমনে ব্যর্থ, সেখানে সাধারণ মানুষের করণীয় আর কি আছে? সড়কে যে শুধু দুর্ঘটনাই ঘটে তা নয়, আমাদের সড়ক ব্যবস্থা নারীদের জন্য নিরাপদ নয়।

লেখক: প্রকৌশলী/সম্পাদনা: মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত