Skip to main content

মীমাংসা করবেন খালেদা জিয়া, নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারে যাওয়ার পরামর্শ দুদু'র

শিমুল মাহমুদ : আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে আলোচনায় বসতে নাজিমউদ্দিন রোডের কারাগারে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। তিনি বলেন, সমস্যা আপনারা সৃষ্টি করেছেন মীমাংসা তিনি (বেগম খালেদা জিয়া) করবেন। যাকে মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি করেছেন। সোমবার (৩০ জুলাই) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন আয়োজিত এক মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শামসুজ্জামান দুদু বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের যা শুরু করেছেন, আমি তাকে বলবো যদি দেশে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে চান বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিন, তারেক রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে আলোচনায় বসেন। সিপিবির সাথে, বাসদ-এর সাথে বসেছেন তার জন্য ধন্যবাদ, কর্নেল অলির সাথে টেলিফোনে কথা বলেছেন তার জন্যও ধন্যবাদ। এসময় বিএনপির এই শীর্ষনেতা আরও বলেন, এক নম্বরের সাথে আলোচনা না করে ১০ নম্বর ২০ নম্বরের সাথে আলোচনা করে দেশের চলমান রাজনৈতিক সংকটের মীমাংসা হবে না। ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে ছাত্রদলের সাবেক এই সভাপতি বলেন, ‘আইয়ুব খানের আমলে ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এর আগে শেখ মুজিবকে আলোচনার জন্য করাচিতে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, শেখ মুজিবের কন্যা প্রধানমন্ত্রী ব্যাংক লুট করেছেন, সোনা লুট করেছেন কয়লা লুট করেছেন। আরো অনেক কিছুই লুট করেছেন- গণতন্ত্র লুট করেছেন, ক্ষমতা লুট করেছেন, নির্বাচনও লুট করেছেন। বেগম খালেদা জিয়াসহ বিএনপির অসংখ্য নেতাকর্মীকে আটকে রেখেছেন তাদেরকে মুক্তি দিন, মুক্তি না দিলে আমরা তাদেরকে মুক্তি করবো। এখন আন্দোলনের কথা বলছি এক সময় জেল ভেঙে তাদেরকে মুক্ত করে আনবো। দুদু বলেন, এই দেশে সবকিছুই হয়েছে। পাকিস্তানিরা শেখ মুজিবকে আটকে রেখেছিল আইনের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করা হয় নাই, গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করা হয়েছে। বেগম জিয়াকে মুক্ত করার জন্য আমরাও প্রয়োজনে তাই করবো, তার আগে আমরা আপনাদের কাছে অনুরোধ করছি আলোচনার বসুন। প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব জ্ঞানহীনতার পরিচয় দিয়েছেন। ভালো একটি নির্বাচন করার জন্য যে পরিবেশ সৃষ্টি করা দরকার তিনি তা করছেন না। বাংলাদেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা ভেঙে ফেলা হয়েছে। আমরা সেই অবস্থাটাকে ফিরিয়ে আনতে চাই। আমরা এখন ভালো মানুষের মতো কথা বলছি- আপনাদেরকে সুযোগ দিচ্ছি, আলোচনার কথা বলছি, যদি তা না করেন তারপরে আমরা রাজপথে নামবো, রাজপথে যদি একবার নামি ডিসেম্বরের আগে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে তা মোকাবেলা করার জন্য আপনারা ভেবে দেখতে পারেন। সাবেক এই সংসদ সদস্য বলেন, এরশাদের সাথে কোনো আলোচনা হয়নি, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের পর বিরোধীদলের সাথে আলোচনা করে নির্বাচন হয়েছে। আন্দোলনে গেলে এবারও কিন্তু শেখ হাসিনার সাথে কোনো আলোচনা হবে না। শেখ হাসিনা বাদে অন্যান্য রাজনৈতিক দল আলোচনা করে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সে জন্য প্রধানমন্ত্রীকে বলবো- যে ভাবে আপনি নির্বাচনে যান বা ক্ষমতায় যান না কেন আমরা কিন্তু আপনার সাথে আলোচনার কথা বলেছি। সেটা যদি আপনি মাথায় নিতে পারেন শেখ মুজিবের কন্যা হিসেবে আপনার যদি কিছু করার থাকে অনতিবিলম্বে করুন। তার প্রথম পদক্ষেপ হবে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেওয়া দ্বিতীয় আলোচনার টেবিলে বসা তৃতীয় হচ্ছে বাংলাদেশে যেসব মানুষের ঘুম করেছেন সে বিষয়ে বক্তব্য দেয়া তারা কোথায় আছে। বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও যুবদলের সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দীন টুকুর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এই মানববন্ধন অনুষ্টিত হয়। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান, যুগ্ম-মহাসচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক অধক্ষ্য সেলিম ভূইয়া, সহ-তথ্য বিষয়ক সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, টাঙ্গাইল জেলা বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নেতা মাইনুল ইসলাম, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সহ-সাধারণ সম্পাদক আরিফা সুলতানা রুমা প্রমুখ।

অন্যান্য সংবাদ