প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বন্ধুত্ব এখন প্রযুক্তিনির্ভর!

কান্তা আইচ রায় : মানুষ যখন খুব আনন্দে থাকে বা হতাশায় ডুবে যায় তখন সে তার মনের অবস্থার কথা প্রথম জানাতে চায় তার বন্ধুকে। বহু সাহিত্যিক, কবি, দার্শনিক এই বন্ধুত্বকে বর্ণনা  করেছেন বিভিন্নভাবে। আর সব বর্ণনাতেই রয়েছে বন্ধুতের মনের মিলের ঠিকানা। দিন বদলের সাথেসাথে বদলাতে শুরু করেছে বন্ধুত্বের সংজ্ঞা। ফেসবুক যেন হয়ে উঠেছে বন্ধুত্বের প্রধান ঠিকানা। প্রযুক্তি নির্ভর এই বন্ধুত্বের বন্ধন আসলে কতটুকু দৃঢ় ?

বন্ধুত্বের এমন নানা দিক নিয়ে কথা বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মাহবুবা নাসরিন।
তিনি বলেন,আগে সবাই একটা কমিউনিটি বা এলাকার মধ্যে থাকতো ,সবাই সবাইকে চিনতো এবং বিকেলের আড্ডা দেয়া এমন সামনাসামনি যে যোগাযোগ সেটা বেশি ছিলো। তখন মনের ভাব আদান প্রদানের মাধ্যম ছিলো চিঠি। তখন চিঠির ভাষাগুলোও এত ভাল লাগতো যে মনে হতো আমরা পারি না কেন। কিন্তু কিছুদিন পর তা হারিয়ে যায়। এরপর আমরা র্ভাচুয়্যাল জগতে ফেসবুকে এসে আবার তা ফিরে পাই। সময়ের সাথে সাথে বন্ধুত্বের ধরণটাও পাল্টে গেছে। বন্ধুর সাথে যোগাযোগের ধরণটাও পাল্টে গেছে।

বাস্তব জীবনে বন্ধুত্বের অভাব পূরণ করতেই কি ফেববুক বেছে নিচ্ছে সবাই?
এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি আরো বলেন, আগে এত মোবাইল ছিলো না। মানুষ একটা পাড়ার মধ্যে বাস করতো। সবার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করার জন্য দেখা করতেই হতো। কিন্তু যেহেতু আমাদের এখন অনেক কিছু চিন্তা করতে হয় কারণ এখন বাসা থেকে বাইরে যেতে একটা বিড়ম্বনা আছে ,অনেকে দেশের বাইরে থাকে তাদের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় র্ভাচুয়্যাল মাধ্যমে যেটা আগে সম্ভব ছিলো না । তবে বন্ধুর সাথে সামনাসামনি দেখা হবার যে শূণ্যতা তা থেকেই যায়। র্ভাচুয়্যাল মাধ্যমে দু একলাইন লিখে হয়তো খোঁজ খবর নেয়া যায় কিন্তু পাশাপাশি বসে আড্ডা দেয়ার অনুভুতিটা পাওয়া যায় না। সময়ের পরিতর্বনেই বদলে গেছে আমাদের যোগাযোগের ধরণ।

ভার্চুয়্যাল জগতে বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে আস্থার জায়গাটা কতটুকু জানতে চাইলে তিনি বলেন- বন্ধুত্বের সংজ্ঞাটা ব্যাপক। যে বন্ধু আস্থা রাখতে পারে তার সাথেই দীর্ঘদিন বন্ধুত্ব টিকে থাকে। তবে দূরে চলে যাওয়ার সাথেসাথে শেয়ারিংটা কমে যায়। তবে প্রতিনিয়ত যদি তার সাথে যোগাযোগ হয় বা বসে কথা হয় তবে এই গ্যাপটা তৈরি হয় না। চোখে চোখ রেখে যে এক্সপ্রেশন দিয়ে কথা বলা হয়, না দেখে সেই এক্সপ্রেশন শুধু লিখে প্রকাশ করা যায় না। সুতরাং র্ভাচুয়্যাল আর বাস্তব জগতের মধ্যে সত্যিই পার্থক্য আছে। বাস্তব জগতে আস্থা যতটুকু রাখা যায় ভর্চুয়্যাল জগতে ততটুকু সম্ভব হয় না।

ফেসবুক বা ভার্চুয়্যাল মাধ্যমের সুবাদে বন্ধুদের খবর রাখা বা পুরানো বন্ধুদের খুঁজে পাওয়াটা অনেক সহজ এই বিষয়টাকে তিনি ইতিবাচক ভাবেই দেখেন।   সূত্র : বিবিসি বাংলা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ