প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

মিয়ানমারের অপপ্রচার ঠেকাতে প্ল্যাটফর্ম তৈরির তাগিদ

তরিকুল ইসলাম : রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশকে নিয়ে মিয়ানমার সরকারের একের পর এক মিথ্যাচার এবং অপপ্রচারের বিরুদ্ধে প্ল্যাটফর্ম তৈরির তাগিদ বিশেষজ্ঞদের। একই সঙ্গে তারা বলছেন নেইপিড’র রাষ্ট্রিয় মিথ্যাচারের উপযুক্ত জবাব ঢাকার পক্ষ থেকে দেওয়ার মতো এখনো কোনো প্লাটফর্ম নেই। কূটনৈতিক প্রচেস্টার বাইরে এমন একটি প্লাট ফর্ম তৈরি হতে পারে। সেটি সরকারি এবং সরকারি উভয় পর্যায়েই হতে পারে। তবে বাংলাদেশকে এমন একটা প্ল্যাটফর্ম এখনই তৈরি করা জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন প্ল্যাটফর্ম থাকলে মিয়ানমারের মিথ্যা প্রচারণা কোনও প্রভাব ফেলতে পারবে না, তেমনই রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর জন্য ফলদায়ক হবে। মিয়ানমারের অপপ্রচার ঠেকানো এবং সারাবিশ্বকে সঠিক তথ্য জানানোর জন্য বাংলাদেশের দায়িত্বর মধ্যে পড়ে। বেইজিং-এ ঢাকার সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সী ফায়েজ আহমেদ জানান, মিয়ানমার মিথ্যার আশ্রয় নিলে আমরা তা বন্ধ করতে পারবো না। কিন্তু সেটাকে নিষ্ক্রিয় করতে হবে আমাদের। আর এ জন্য একটি প্ল্যাটফর্ম থাকা উচিত।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন চুক্তির পর দেশটি এখন পর্যন্ত কোনো রোহিঙ্গা ফেরত না নিলেও ছয় সদস্যর একটি পরিবারের ফটো সেশন করে প্রত্যাবাসনের কথা জানায়। সে সময় দেশটির এমন মিথ্যাচারের বিরুদ্ধে সরব হয় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন দেশ। এর পর বাংলাদেশেকে ইঙ্গিত করে নেইপিড’র স্টেট কাউন্সিল গত ২০ জুন একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। সেখানে রোহিঙ্গা সম্প্রদায় এবং মিয়ানমারের মধ্য ভুল বুঝাবুঝির জন্য দেশটি বাংলাদেশকে দায়ি করে।

মুন্সি ফায়েজ বলছেন, এটি সরকারিভাবে হতে পারে, আবার বেসরকারি ভাবেও হতে পারে। সরকার সবক্ষেত্রে অনেক কিছু বলতে পারে না। তাই বেসরকারিভাবেও বিষয়টি মোকাবিলা করতে হবে। প্রতিটি অপপ্রচার ধরে ধরে এর তথ্য উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে জবাব দেবে এই প্ল্যাটফর্ম। আমরা সবসময় তাদেরকে ঘৃণামূলক বক্তব্য পরিহার করে সৌহার্দ্যর কথা বলেছি। কিন্তু তারা অপপ্রচার চালাচ্ছে। ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ কোনও ধরনের ঘৃণার বক্তব্য না দিলেও রোহিঙ্গাদের ঠিকই বিতাড়ন করা হয়েছিল। ১৯৭৮ সালে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো রোহিঙ্গার ঢল নামার সময়ও তো বাইরের দেশ ঘৃণামূলক বক্তব্য দেয়নি।

২০১২ সালে রাখাইনে একটি দাঙ্গা সংঘটিত হয়। তখন প্রকাশিত একটি ছবিতে দেখা গিয়েছিলো একজন রোহিঙ্গা বালতিতে করে একটি জ্বলন্ত বাড়িতে তরল পদার্থ ছুড়ে দিচ্ছে। দেশটির গণমাধ্যম তখন দাবি করেছিলো রোহিঙ্গা ব্যাক্তিটি তার বাড়িতে সে নিজেই কেরোসিন ঢালছিলো। ঐ ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে দেশটিতে বাংলাদেশের সাবেক ডিফেন্স অ্যাটাশে মোহাম্মাদ শহীদুল হক বলেন, এই ঘটনার পর আমরা পরে জানতে পেরেছি, ওই রোহিঙ্গা আগুন নেভাতে পানি ছুড়ে মারছিল। মিয়ানমারের অপপ্রচারের বিষয়টি এখন সবাই জানে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত