প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আসামে চূড়ান্ত খসড়া তালিকা প্রকাশ, ভারতীয় নাগরিক খোয়ানোর মুখে ৪০ লাখ

রাশিদ রিয়াজ : আসামের জাতীয় নাগরিক পঞ্জীকরণ (এনআরসি)-এর চূড়ান্ত খসঢ়া তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর পর ভারতীয় নাগরিকত্ব হারানোর মুখে পড়েছেন প্রায় ৪০ লাখ মানুষ। এনআরসি-র অংশ হওয়ার দাবি জানিয়ে আবেদন করেছিলেন ৩.২৯ কোটি মানুষ। কিন্তু প্রকাশিত তালিকায় রয়েছে ২.৮৯ কোটির নাম। অর্থাৎ প্রায় ৪০-৪১ লাখ অসমীয়া আর ভারতীয় নয়। টাইমস অব ইন্ডিয়া
সোমবার সকালে চূড়ান্ত খসড়া তালিকাটি প্রকাশ করার সময় এনআরসি’র কো-অর্ডিনেটর আশ্বস্ত করে বলেন, ‘এটা শুধুমাত্র একটা খসড়া। চূড়ান্ত তালিকা নয়। যাদের নাম তালিকাভুক্ত হয়নি, তারা ফের দাবি ও অভিযোগ জানাতে পারেন।’ ৩০ অগাস্ট থেকে এই সংক্রান্ত দাবি ও অভিযোগ গ্রহণ করা হবে।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের আগে থেকে যারা আসামে রয়েছেন, সেই সমস্ত ভারতীয় নাগরিকদের নাম, ঠিকানা ও ছবি রয়েছে এনআরসি’র তালিকায়। যারা প্রমাণ করতে পেরেছেন যে তারা ওই সময়ে আগে থেকে আসামে বাস করছেন, তাদেরই ঠাঁই দেওয়া হয়েছে এই তালিকায়।
২০১৮-এর মার্চে আসামের মন্ত্রী মোহন পাটোয়ারির দেওয়া তথ্য বলছে, ২,৪০,৫৮৩ জন সন্দেহভাজনের মামলার নিষ্পত্তি করেছে ট্রাইব্যুনাল। তার মধ্যে ৯২,০০০ জনকে বিদেশি ঘোষণা করা হয়েছে। এদের মধ্যে ১৫,০০০ জন ১৯৭১-এর আগে এসেছিলেন, অর্থাৎ আসাম অ্যাকর্ড অনুযায়ী তাদের ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার কথা। আর ২৬,০০০ জনকে বিদেশি ঘোষণা করা হয়েছে, কারণ তারা আদালতে হাজিরা দিতে পারেননি বা তাদের আবেদনের বৈধতা সরকার পরীক্ষা করে উঠতে পারেনি। ফলে, আক্ষরিক অর্থে তারা কতটা ‘বিদেশি’, সে প্রশ্ন থাকছেই। এ দিকে, ২ মে, এনআরসি কো-অর্ডিনেটর প্রতীক হাজেলা সব জেলাশাসককে নির্দেশ পাঠিয়েছেন, এই ৯২,০০০ বিদেশি ও তাদের পরিবারের নাম যেন কোনও ভাবেই এনআরসি তালিকায় না ওঠে। অথচ এদের পরিবারের অধিকাংশেরই বৈধ ভারতীয় নাগরিকত্বের প্রমাণ রয়েছে। এছাড়া তালিকা প্রকাশের পর কোনওরকম অশান্তি এড়াতে রাজ্যজুড়ে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ১৪টি জেলায় জারি করা হয় ১৪৪ ধারা। নাগরিকদের আশ্বস্ত টুইট করেন গুয়াহাটির শীর্ষ পুলিশকর্তা।