প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য রোধে অভিযানে নামতে হবে

মমতাজউদ্দীন পাটোয়ারী : দেশের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে যখন ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হয়, কর্মযজ্ঞ শুরু হয় তখন সরকারি-বেসরকারি নানা বৈধ প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার উদ্ভব ঘটে, ভূমিকা রাখা অত্যাবশকীয় হয়ে উঠে। সরকার সে কারণেই আইনি প্রক্রিয়ায় কাজ করতে অনুমোদন দিয়ে থাকে। এখান থেকেই নানা ধরনের এজেন্সি গড়ে উঠে। যেমন, আমাদের দেশ থেকে বিদেশে কর্মসংস্থানে লোক প্রেরণে সরকারি অনুমোদনেই অনেক এজেন্সিকে সরকার অনুমোদন দিয়েছে, হজ্বের আয়োজনে আরেক ধরনের সংস্থার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। খুবই ভালো কথা। অসংখ্য মানুষ এ সব সংস্থার সহযোগিতা পেয়ে থাকেও। যদিও সরকারি নানা ধরনের বিধিবিধান মেনে এ সব কাজ করার কথা।

তারা হয়তো অনেক ক্ষেত্রে করেও থাকে। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে এসব সংস্থার মধ্যে নানা ধরনের হীন প্রতিযোগিতা চলতে থাকে, বেশি অর্থ কামাই করার মনোবৃত্তি ঝেঁকে বসে। সেখান থেকেই এ সংস্থাগুলো হাটতে থাকে, নানা ধরনের দালাল চক্র গড়ে উঠার সুযোগ করে দেয়। গ্রাম থেকে সাধারণ মানুষকে বিদেশে পাঠানোর নানা ধরনের ফাঁদ আটতে থাকে। প্রলুব্ধ করতে থাকে। এবং জনশক্তি রপ্তানি খাতেই বৈধ নানা সংস্থার পেছনে অসংখ্য দালাল চক্র গড়ে উঠেছে যারা গ্রাম-গঞ্জে সাধারণ মানুষকে বিদেশে নেওয়ার লোভ দেখিয়ে অসংখ্য মানুষকে নিঃস্ব করে চলছে। কত মানুষ দালাল চক্রের ফাঁদে পা দিয়ে নিজের ভিটেমাটি হারিয়েছে, হারাচ্ছে, অবৈধ উপায়ে বিদেশ যেতে গিয়ে জীবন হারিয়েছে তার পরিসংখ্যান কারও কাছেই নেই। হাল আমলে সৌদি আরবসহ আরব দেশগুলোতে নারীদের ভাগ্যন্নোয়নের স্বপ্ন দেখিয়ে দালাল চক্র গ্রাম-গঞ্জে যেভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছে তাতে দরিদ্র, অসহায়, কম বয়সী ওইসব পাঠানোর ‘ব্যবসায়’ যেভাবে লিপ্ত হয়েছে তাতে প্রায় দুই লাখ বাংলাদেশের বাঙালি নারী মধ্যেপ্রাচ্যে গৃহকর্মীর ‘চাকরি’ নিয়ে গেছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য থেকে দেশবাসী জানতে পারছে। এসব নারীর মধ্যে অনেকেরই জীবনের এসব ‘কর্মসংস্থান’ কী ভয়াবহ সর্বনাশা পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে তা আমরা প্রতিদিন জানতে পারছি, অসংখ্য নারী কর্মী ওইসব দেশে গিয়ে শারীরিক, মানসিক ও যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। কিন্তু আমাদের সমাজে এ নিয়ে নেই তেমন কোনো প্রতিক্রিয়া ও সচেতনতা। এ ধরনের পরিস্থিতিতেও দালাল চক্রের কর্মকা- থেমে নেই। দেশের হেন কোনো অঞ্চল নেই যেখানে দালাল চক্র মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে আটকাতে গোপনে কাজ করছে না। লাখ লাখ প্রতারক চক্র এ কাজ করেই অর্থ উপার্জন করে, বিভিন্ন এজেন্সির আয়ের উৎস হিসেবে কাজ করে।

হজ্বের মতো পবিত্র বিষয় নিয়েও দালাল ও প্রতারক চক্র সক্রিয় রয়েছে। দেশের সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ডায়োগনেসিস সেন্টার, পরিবহন খাত, বিমানবন্দর, রেল, নদীবন্দর, সমুদ্রবন্দর, রোহিঙ্গা ক্যাম্প, অফিস-আদালতÑ সর্বত্রই দালাল চক্র মানুষকে সেবা দেওয়ার নাম করে প্রতারণা ফাঁদে ফেলে টাকা হাতিয়ে নেয়, অসাধুদের হাতে তুলে দেয় ইত্যাদি। এর ফলে দেশের আর্থ-সামাজিক ক্ষেত্রে মারাত্মক সংকট তৈরি হয়। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি ব্যহত হয়। এই খারাপ প্রবণতার হাত থেকে সাধারণ মানুষ ও দেশকে রক্ষা করতে হবে। অবিলম্বে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান জরুরি হয়ে পড়েছে।
লেখক : অধ্যাপক, ইতিহাস বিভাগ, বাউবি

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত