প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কয়লা গায়েব, সোনায় ভেজাল এবং জিন ও বদহাওয়া তত্ত্ব

কাকন রেজা : গণমাধ্যম ইদানিং বড় কনফিউজিং খবর করছে। খবরে জানালো, ‘কয়লার অভাবে বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধ’। সাথে বললো, বড় পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি কয়লা সরবরাহে ব্যর্থ হওয়ায় ৫২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুতের এই উৎপাদন কেন্দ্রটি বন্ধ গেছে।  আরেক খবরে ডেইলি স্টার জানালো, ‘১ লাখ ৪২ হাজার টন কয়লা গায়েব!’ ওই বড়পুকুরিয়ার কয়লা খনি থেকেই ওই পরিমান কয়লা বেমালুব গায়েব গেছে। যার বর্তমান বাজার মূল্য ২২৭ কোটি টাকা।

বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কয়লা নাই। আবার কয়লার অভাবে বড়পুকুরিয়ার বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ, বিষয়টি কনফিউজিং না। আরো কনফিউজিং গণমাধ্যমে প্রকাশিত কয়লাখনির মহাব্যবস্থাপকের বক্তব্য, ‘কয়লা বাতাসেও উড়ে যায়!’ কয়লার অভাবে বন্ধ যায় বিদ্যুৎ কেন্দ্র, খনি কয়লা বেমালুব গায়েব যায় এবং মহাব্যবস্থাপক বলেন হাওয়ায় উড়ে যায়। কী আচানক সব কথাবার্তা। একটার সাথে আরেকটা মিলাতে গেলে মাথার চুলও হাওয়ায় উড়ে যাবার জোগার হয়।

এসব কারণেই ‘হাওয়া’ এবং ‘জ্বীন’ তত্ত্ব ইদানিং বেশ চাউর হয়েছে। বদ হাওয়া আর জ্বীনের আছর পড়েছে আজকাল সব জায়গায়। বাংলাদেশ ব্যাংকের সোনা নিয়ে চলছে তুলকালাম কান্ড। ভল্টে রাখা সোনার চাকতি গেছে মিশ্র ধাতু, পিন্ড গেছে ২২ ১৮ ক্যারেট। বিবি’র ভল্ট বাংলাদেশের সবচেয়ে সুরক্ষিত জায়গা, ব্যাংক প্রধানও তাই বলেছেন। তার মতে সোনা সোনার জায়গাতেই আছে। কিন্তু মুশকিল হলো জার্মানির কেনা মেশিন বলছে সোনা সোনার জায়গাতে থাকলেও কিছু একটা হয়েছে, ফলে চাকতি হয়েছে মিশ্র ধাতু, ২২ ক্যারেট ক্ষয়ে নেমেছে ১৮ ক্যারেটে।  সুরক্ষিত ভল্টে সোনার উপর এমন অত্যাচার জ্বীন ছাড়া আর কে করতে পারে।

সোনার কথা থাক, এবার ‘ধন’ মানে গুপ্তধনের কথা বলি। মিরপুরের বাড়িতে ‘ইয়ে’ মানে মাটির নিচে গুপ্ত রাখা ধনে’র সংবাদে মাতোয়ারা উঠেছিলো গণমাধ্যম। গুপ্তধনের ধাক্কায় বিবি’র সোনার খবর পড়ে গিয়েছিলো নিচে। প্রশাসন ও পুলিশের লোকজন রীতিমত ঢাকঢোল পিটিয়ে নেমে পড়েছিলেন হারানো ধন খুঁজতে। অথচ বিবি’র সোনা হারানোর বিষয়টিতে প্রায় নিঃশব্দ বড়কর্তাগণ। অবশ্য অর্থমন্ত্রী বলেছেন, মাত্র তিন কেজি সোনাতে ভেজাল রয়েছে’। বুঝলেন তো মাত্র তিন কেজি, কোনো ব্যাপার না। চার হাজার কোটি যেখানে ‘নাথিং’ সেখানে গণমাধ্যম মাত্র তিন কেজিতে আটকে আছে, রাবিশ। এদের মনটা আর ‘উন্নয়নশীল’ হলো না! যা হোক, বদ হাওয়া আর জ্বীন বিষয়ে বলি।

চারিদিকে যেসব কান্ড কারখানা ঘটছে, কয়লা আর সোনার বিষয়ে তো আলোচনা হলো, আরো কিছু ব্যাপার রয়েছে সেখানেও সম্ভবত বদ হাওয়া বা জ্বীনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ধরুণ ব্যাংকে সুরক্ষিত রিজার্ভের টাকা, মূলধন ইত্যাদিসব লোপাট। এখানেও কে ঘটালো তা সঠিক ভাবে চিহ্নিত করা যায়নি। সাগর-রুনি, তনু-মিতু হত্যাকান্ড কে ঘটালো তাও জানা এ যাবত সম্ভব হয়নি। যদি মানুষ করতো তাহলে সত্তর হাত মাটির নিচ থেকেও তাদের বের করা সম্ভব হতো, কর্তাব্যক্তিরাও তাই বলেন। কিন্তু এতদিনেও যখন বের করা সম্ভব হয়নি তখন জ্বীন বিষয়ক তত্ত্বটা একেবারে ফেলে দেয়ার নয়। আর বদ হাওয়ার বিষয়টি উপেক্ষা করাটাও ঠিক হবে না। যেখানে দেড় লাখ টন কয়লা হাওয়া যায়, মাঝে মধ্যে কিছু মানুষও বেমালুম হাওয়া যান, সেখানে বদহাওয়া’র বিষয়টিকে বে-নজর করাটা হবে নেহায়েত বোকামী।

লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট/সম্পাদনা: মোহাম্মদ আবদুল অদুদ

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ