প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সহ্যেরও অতীত ঘটনা এগুলো!

ডা. কায়সার আনাম : পরিবহণ শ্রমিকরা একটা বিশাল ক্রাইম সিন্ডিকেটের মতো হয়ে গেছে। গত কয়েকদিনে পরপর দুইটা ঘটনা ঘটল। একটি চলন্ত বাসে মেয়েদের নির্যাতন অপরটি আহতের পর লাশ গোপন করার জন্য ছাত্রের লাশ নদীতে ফেলে দেয়ার মতো নির্মম ঘটনা। আর রাজধানীর কুর্মিটোলায় একাধিক শিক্ষার্থীকে বাসের চাকায় পিষে ফেলার মতো ঘটনা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটছে অহরহ।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রকে আহত করার পর সেই ঘটনা গোপন করতে মুখ থেঁতলে দিয়ে ব্রিজ থেকে পানিতে ফেলে খুন ও গুমের ঘটনা যে সমাজে ঘটে সে সমাজের অবস্থা কতটা নাজুক তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

সহ্যেরও অতীত ঘটনা এগুলো! কত মায়ের কলিজার টুকরা ছেলেমেয়ের এমন নির্মম পরিণতি ঘটছে তা এদের কাছে মানবজীবনের কোনো দাম নেই। অর্থহীনভাবে মেরে ফেলছে!

কী বললে মনের ক্ষোভ ঠিকভাবে প্রকাশ হবে জানি না। শোকের স্তব্ধতা না কাটতেই আরেকটা খবর পড়লাম।

শুক্রবার টাঙ্গাইলে চলন্ত বাসে এক নারীকে নির্যাতনের চেষ্টা করায় মহিলা সম্ভ্রম বাঁচাতে জানালা দিয়ে মহাসড়কে লাফ দেন। আরেকটা বাস তার উপর দিয়ে চলে যায়। সেখানেই তার মৃত্যু হয়।

ওই নারীর একটা দুগ্ধপোষ্য শিশু আছে। সে এখন শুধু মাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে। ভাবছিলাম এই ঘটনাগুলোর ড্রাইভার, হেলপার, সুপারভাইজার- এরা তো আমাদের দেশেরই সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের প্রতিনিধি। বাইরের কেউ না। আমাদের দেশের সাধারণ মানুষ কি তাহলে এতোই ভয়ংকর? শুধু সুযোগের অপেক্ষায় ওঁৎ পেতে থাকে? মানুষের মতো যাদের দেখছি এরা কি আসলে মানুষ না? যেকোন মুহূর্তে আমাদের ওপরে ঝাঁপিয়ে পড়তে পারে?

এর কারণ কী? শিক্ষার অভাব? ধনী দরিদ্রের বৈষম্য বেড়ে যাওয়া? ধর্মীয় শিক্ষার গুরুত্ব কমে যাওয়া? নাকি গডফাদারদের ছায়ায় থেকে এই বিশ্বাস জন্মানো যে অপরাধ করলেও বিচারব্যবস্থাকে সহজেই ফাঁকি দেয়া যাবে?

এই ভ্রান্ত ধারণা করে লাভ হবে না। কোন গডফাদার বাঁচাতে পারবে না। আইনের ছাত্রী রুপা হত্যায় খুব দ্রুত চারজনের ফাঁসির রায় হয়েছে। খুব আশাব্যঞ্জক উদাহরণ। আশা করি বাকিদেরও মৃত্যুদণ্ড হবে।

তবে সমস্যা হল পরিবহণ শ্রমিকরা খবরের কাগজ পড়ে এসব জানবে না। তাদের মনে আইনের ভয় ঢুকাতে হলে এই চাঞ্চল্যকর অপরাধগুলোর শাস্তিও চাঞ্চল্যকরভাবেই দিতে হবে। যেন তারা জানতে পারে। নিজেদের মধ্যে এসব নিয়ে আলোচনা করে। আইনকে ভয় পেতে শেখে।

তার জন্য ঘটনা ঘটার পর সেটা সবার স্মৃতি থেকে মুছে যাওয়ার আগেই দ্রুত মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে। না হলে, এই অশিক্ষিত আনইনফরমড গোষ্ঠী এরকম একের পর এক নারকীয় কাজ করেই যাবে।

কয়েকটা শাস্তি এভাবে হলেই দেখবেন চোখের সামনে লুকিয়ে থাকা সব পশুর মনে ভয় চলে আসবে। আমরা, আমাদের প্রিয়জনরা সড়কে থাকব নিরাপদ।

(লেখাটি যুগান্তর থেকে নেওয়া)

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ