প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সরানো হয়নি কর্ণফুলী সেতুর অস্থায়ী পিলার

শোভন দত্ত : শাহ আমানত সেতু উদ্বোধন করা হয় ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে। সেতুটি নির্মাণের জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অস্থায়ী যে প্লাটফর্ম নির্মাণ করে, তার পিলারগুলো আট বছরেও পুরোপুরি সরিয়ে নেয়া হয়নি। নৌযান চলাচলের জন্য একে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের আশঙ্কা, পিলারগুলো অপসারণ না হলে যেকোনো সময় বড় ধরনের নৌ-দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

২০১৬ সালে চট্টগ্রাম বন্দরের হাইড্রোগ্রাফি বিভাগের নেতৃত্বে একটি টিম ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করে। ওই পরিদর্শনে ভাটার সময় সেতুটির ৭ ও ৮ নম্বর পিয়ারের উজানে দুটি পিলার দেখা যায়। ভৌগোলিক অবস্থান ও ঝুঁকির বিষয়টি উল্লেখ করে একই বছরের ২৫ মে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী বরাবর চিঠি দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষ। বন্দরের সাবেক চিফ হাইড্রোগ্রাফার কমান্ডার এমএম করিম চৌধুরী স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, তৃতীয় কর্ণফুলী সেতুসংলগ্ন নদী এলাকার নাব্যতা বৃদ্ধি, নৌযান চলাচলের সুবিধা ও দুর্ঘটনা এড়ানোর লক্ষ্যে প্লাটফর্মের পিলারগুলো পুরোপুরি অপসারণ অথবা বেড লেভেল থেকে পাঁচ-ছয় মিটার গভীরে কেটে অপসারণ করা জরুরি। জাহাজ চলাচলে ঝুঁকির আশঙ্কা করে বন্দর কর্তৃপক্ষ এ চিঠি দেয়ার দুই বছর পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত এগুলো অপসারণের কোনো উদ্যোগ নেয়নি সওজ কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম বন্দরের চিফ হাইড্রোগ্রাফার কমডোর এম আরিফুর রহমান বলেন, শাহ আমানত সেতু নির্মাণের সময় স্থাপিত অস্থায়ী পিলারের বিষয়টি বন্দর অবগত রয়েছে। আমরা সরেজমিন পরিদর্শনের মাধ্যমে ঝুঁকির বিষয়টি তুলে ধরে সওজ কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছি। সেতুটি সওজের আওতাধীন হওয়ায় তারাই নিজ উদ্যোগে এর সমাধান করবে।

যদিও সেতুর টোল আদায়, রক্ষণাবেক্ষণসহ যাবতীয় কার্যক্রম সেতু বিভাগের আওতাধীন হওয়ায় প্রকল্পের তহবিলে এ ধরনের কোনো কাজ করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছে সওজ কর্তৃপক্ষ। সংস্থাটি বলছে, বিদ্যমান প্রেক্ষাপটে এ প্রকল্প থেকে পিলার সরিয়ে নিতে কোনো প্রকল্প গ্রহণের সুযোগ নেই। এছাড়া ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রকল্পটি বুঝিয়ে দেয়ার পর সওজের পক্ষ থেকে একটি অনাপত্তিপত্রও দেয়া হয়েছে। ফলে এ মুহূর্তে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে কিংবা প্রকল্পের অর্থ দিয়ে নতুন করে অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করানো যাবে না।

অভিযোগ আছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির শর্তানুযায়ী সেতু নির্মাণ শেষে সব ধরনের অস্থায়ী স্থাপনা সরিয়ে নেয়ার কথা। কিন্তু তা না করেই প্রকল্প বুঝিয়ে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে কর্ণফুলী সেতুর নিচ দিয়ে চলাচলরত সব ধরনের নৌযান দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরের উজানে বন্দরের কোস্টাল, লাইটার জাহাজগুলো এ পথ দিয়ে চলাচল করায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছে বন্দর। এমনকি সওজের ঊর্ধ্বতন প্রকৌশলীরাও এ পিলার ঠিকমতো অপসারণ না হওয়ায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ও প্রকল্প কর্তৃপক্ষকে দুষছেন।

তৃতীয় কর্ণফুলী সেতুর (শাহ আমানত সেতু) নির্মাণকাজ ২০০৩ সালে শুরু হয়ে শেষ হয় ২০১০ সালে। ৯৫০ মিটার দীর্ঘ সেতুর জন্য প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছিল ৬৫১ কোটি টাকা। এর মধ্যে বাংলাদেশ সরকার দেয় ২৯১ কোটি টাকা। বাকি অর্থ জোগান দেয় কুয়েত ফান্ড। সেতু নির্মাণ শেষে কুয়েত ফান্ডের ২২০ কোটি টাকা উদ্বৃত্ত থেকে যায়। সওজ উদ্বৃত্ত অর্থে নদীর পটিয়া-আনোয়ারা অংশে প্রায় ১২ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব দিলেও রাজি হয়নি দাতা সংস্থা। ফলে ২৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সেতুর উভয় পাশে আট কিলোমিটার সংযোগ সড়ক নির্মাণ করছে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ