প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

যেভাবে শীর্ষ ধনী হলেন অ্যামাজনের জেফ বেজোস

ডেস্ক রিপোর্ট:  মাত্র কয়েকদিন আগেই বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যাক্তি ছিলেন মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। কিন্তু এখন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ই কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা এবং প্রধান নির্বাহী জেফ বেজোস।

তার সম্পদের পরিমাণ এখন ১৫০ বিলিয়ন বা ১৫ হাজার কোটি ডলার। তার থেকে অনেকটা পিছিয়ে দ্বিতীয় স্থানে বিল গেটস, যার সম্পদের পরিমাণ ৯৫ বিলিয়ন ডলার।

জেফ বেজোসের প্রতিষ্ঠিত অ্যামাজন এক সময় ছিল অনলাইনে পুরোনো বই বিক্রির প্রতিষ্ঠান। আর এখন তা শিগগির হতে যাচ্ছে পৃথিবীর প্রথম ট্রিলিয়ন-ডলার কোম্পানি। অর্থাৎ তার মূল্য হবে এক লক্ষ কোটি ডলার।

সারা দুনিয়ায় এমন কিছুই এখন নেই যা অ্যামাজনে কেনা যায় না। আপনার পোষা বেড়ালের খাবার থেকে শুরু করে বহুমূ্ল্য ক্যাভিয়ার পর্যন্ত সব কিছুই কেনা যায় অ্যামাজনে বিশ্বের যে কোন প্রান্ত থেকে।

শুধু তাই নয় অ্যামাজনের আছে স্ট্রিমিং টিভি, এমন কি নিজস্ব এ্যারোস্পেস কোম্পানি যাতে শিগগির মহাশূন্য ভ্রমণের টিকিট পাওয়া যাবে।

কিন্তু কি করে এত ধনী হলেন তিনি?

মাত্র দু’দশক আগেও জেফ বেজোস ছিলেন সাধারণ এক উদ্যোক্তা। কিন্তু তিনি দেখতে পেয়েছিলেন এমন এক যুগ আসছে যখন কম্পিউটারের এক ক্লিকে যে কোন জিনিস কেনা যাবে, শপিং মলের জনপ্রিয়তা কমে যাবে, দোকানগুলো ব্যবসায় টিকে থাকার জন্য নানা রকমের ‘অফার’ দিতে বাধ্য হবে।

এমনকি বেশ কয়েক বছর আগে তার হাইস্কুলের বান্ধবী এক সাক্ষাতকারে বলেছিলেন, তার সব সময়ই মনে হতো জেফ বেজোস একদিন বিরাট ধনশালী হবেন।

জেফ বেজোসের জন্ম হয়েছিল ১৯৬৪ সালে তখনও তার বাবা-মার বয়েস ১৯ পেরোয়নি। খুব দ্রুতই তাদের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়ে যায়। এরপর বেজোস বড় হন তার মা জ্যাকি আর দ্বিতীয় স্বামী মাইক বেজোসের ঘরে।

এই মাইক বেজোস তখন চাকরি করতেন এক্সন কোম্পানিতে। তার আসল দেশ ছিল কিউবায়, কিন্তু ফিদেল কাস্ত্রো ক্ষমতায় আসার পর তিনি পালিয়ে আমেরিকায় চলে আসেন।

জেফ বেজোস যখন হাইস্কুলে পড়েন তখন তার গ্রাজুয়েশন বক্তৃতায় তিনি বলেছিলেন, তিনি এমন এক অনাগত সময়কে দেখতে পাচ্ছেন যখন মানুষ মহাশূন্যে উপনিবেশ প্রতিষ্ঠা করবে।

জেফ বেজোস এর পর ইঞ্জিনিয়ারিং আর কম্পিউটার বিজ্ঞান পড়েন প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে। তারও পর নিউ ইয়র্কে গিয়ে চাকরি করেন কয়েকটি ফিনান্স কোম্পানিতে। তার স্ত্রী ম্যাকেঞ্জির সাথে এসময়ই পরিচয় হয় তার।

বেজোসের বয়স যখন ৩০, তখন একটা পরিসংখ্যান চোখে পড়ে তার যাতে বলা হয়েছিল ইন্টারনেটের দ্রুত বৃদ্ধির কথা। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন নিজেই কিছু একটা করবেন। বেজোস চলে গেলেন আমেরিকার পশ্চিম প্রান্তের শহর সিয়াটলে।

তার নিজের জমানো কিছু টাকা, আর পরিবারের কিছু সাহায্য সব মিলিয়ে এক লাখ ডলারের কিছু বেশি অর্থ, এই ছিল তার বিনিয়োগ।

সাইবারকমার্স কিং
তিনি ১৯৯৫ অ্যামাজন নামে একটা কোম্পানি চালু করলেন – অনলাইনে পুরোনো বই বিক্রির। মাত্র এক মাসের মধ্যে তার ব্যবসা হু হু করে বাড়তে লাগলো।

এক মাসের মধ্যে অ্যামাজন যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যের সবগুলোতে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে ৪৫টি দেশে অর্ডার পাঠালো। পাঁচ বছর পর অ্যামাজনের ক্রেতার এ্যাকাউন্টের সংখ্যা ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে বেড়ে দাঁড়ালো ১ কোটি ৭০ লাখে।

বিক্রি শুরুতে ছিল ৫ লাখ ১১ হাজার ডলার, আজ পাঁচ বছর পর তা দাঁড়ালো ১৬০ কোটি ডলারে। বড় বড় কোম্পানি আমাজনের দরজায় ছুটে আসতে শুরু করলো। ১৯৯৭ সালে অ্যামাজন পাবলিক কোম্পানিতে পরিণত হলো, আর অর্থ উঠলো ৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার।

আর বয়স ৩৫ হবার আগেই বেজোস হয়ে গেলেন পৃথিবীর শীর্ষ ধনীদের একজন।

১৯৯৯ সালে টাইম ম্যাগাজিন তাকে আখ্যা দিলো ‘কিং অব সাইবার-কমার্স’ আর মনোনীত করলেন পৃথিবীর সবচেয়ে কমবয়স্ক পিপল অব দি ইয়ারের একজন হিসেবে।

কি ছিল আমাজনের ব্যবসার কৌশল?
জেফ বেজোসের কৌশল ছিল, তিনি অর্থ আয় করার জন্য অর্থ ব্যয় করতে পিছপা হননি। অ্যামাজনে পণ্য বিক্রির জন্য তিনি ফ্রি শিপিং সুবিধা দিয়েছেন, দাম কম রেখেছেন ২৩ বছরের মধ্যে ১০ বছর ধরে – বার্ষিক লাভের কথা না ভেবে।

এ বছর জুন মাসে অ্যামাজন পণ্য বিক্রি করেছে ৫৩০ কোটি ডলারের। প্রথম তিন মাসে লাভ করেছে ২৫০ কোটি ডলারের।অ্যামাজনে চাকরি করেন ৫ লাখ ৭৫ হাজার লোক – যা ইউরোপের দেশ লুক্সেমবার্গের জনসংখ্যার প্রায় সমান।

আমাজনে যারা পণ্য বিক্রি করেন তাদের জন্য পণ্য আনা নেয়া, ঋণ, বিক্রির প্ল্যাটফর্ম দেয়া হচ্ছে, পাশাপাশি এর ‘ক্লাউড কম্পিউটিং বিভাগ’ অসংখ্য বড় বড় কোম্পানির জন্য অনলাইন ডেটা স্টোরেজ সুবিধা দিচ্ছে – যা এখন পৃথিবীর বৃহত্তম।

গত বছর তারা খাদ্যপণ্যের কোম্পানি গোল ফুডস কিনে নিয়েছে, অনলাইন ফার্মেসি কিনেছে। আরো নানা রকম চুক্তির আলোচন চলছে। এক কথায় অ্যামাজনের নতুন নতুন উদ্যোগ হাতে নেবার উৎসাহ এতটুকু কমে নি।

জেফ বেজোস নিজে এখন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন পোস্ট পত্রিকার মালিক। অন্য অনেক ধনীর মতোই বেজোসের শত্রু ও প্রতিদ্বন্দ্বীর অভাব নেই। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তার সমালোচকদের একজন।

তার সমালোচকদের মোকাবিলা করতে এখন লবিইস্ট নিয়োগের পেছনে খরচ বাড়িয়ে দিয়েছে অ্যামাজন। অনেকে বলেন, অন্য ধনীদের তুলনায় জেফ বেজোসের দাতব্য কর্মকান্ড অনেক কম।

সেকারণে এখন দাতব্য কর্মকান্ডও বাড়াতে যাচ্ছেন বেজোস। আর শিগগির এ নিয়ে একটি ‘ঘোষণা’ আসতে যাচ্ছে। প্রিয়.কম

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ