Skip to main content

৭০ হাজার ভোটে জিতব: লিটন

ডেস্ক রিপোর্ট : ২০০৮ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত মেয়র থাকাকালে রাজশাহীর চেহারা পাল্টে দেয়া এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন পাঁচ বছর আগে রাজশাহীবাসীর মন জয় করতে পারেনি। তবে এবার তিনি প্রচ-ভাবে আশাবাসী এক দশক আগের মতোই ভোটের ফল তার পক্ষে যাবে। তিন সপ্তাহের নির্ঘুম প্রচার শেষে উত্তরের জনপদে এখন ভোটের অপেক্ষা।ভোট নিয়ে লিটন বললেন, তিনি যে উন্নয়ন করেছিলেন, তার সঙ্গে গত পাঁচ বছরে বিএনপির মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল কতটা করেছেন, তার তুলনা করছে রাজশাহীবাসী। আর ভোটে এরই প্রভাব পড়বে। আলোচনায় নানা বিষয়ের পাশাপাশি ভোটে জিতলে আগামী পাঁচ বছওে কী কী করতে চান, সেই প্রসঙ্গটাও উঠে আসল। দলীয় প্রতীকে ভোট হচ্ছে বলে আওয়ামী লীগের প্রার্থী লিটন এবার পেয়েছেন নৌকা প্রতীক। গতবার তো হেরেছেন, এবার কী আশা করছেন? জয় নিয়ে কোনো ভয় নেই। আশা করি, প্রায় ৭০ হাজার ভোটের ব্যবধানে নৌকা বিজয়ী হবে। এর মধ্য দিয়ে রাজশাহীতে একটা ইতিহাস সৃষ্টি হবে। ১৮ দিনের টানা প্রচার-প্রচারণার সময় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে গিয়েছি। দেখেছি, নগরীতে এবার নৌকার গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। ভোটাররা কেন আপনাকে ভোট দেবে? উন্নয়নের স্বার্থে মানুষ নৌকায় ভোট দেবে। পাঁচ বছর আগের পাঁচ বছর আমি রাজশাহীর মেয়র ছিলাম। পরের পাঁচ বছর মেয়র ছিলেন আমার প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল। তিনি রাজশাহীর জন্য কিছুই করতে পারেননি। অথচ আমি মেয়র থাকাকালে রাজশাহীতে ৮৫০ কোটি টাকার উন্নয়ন করেছিলাম। সেসব বিবেচনায় মানুষ এবার আমাকে নির্বাচিত করবেন। নির্বাচিত হলে সবার আগে কী করতে চান? রাজশাহীর মাটির প্রতি আমার অনেক ঋণ। তাই রাজশাহীকে ঘিরেই আমার অনেক স্বপ্ন আছে। আমি চাইলেই ঢাকায় গিয়ে রাজনীতি করতে পারতাম। সংসদ নির্বাচন করতে পারতাম, মন্ত্রী হতে পারতাম। কিন্তু আমি কখনোই রাজশাহীকে ছেড়ে থাকতে চাইনি। তাই মেয়র হলে প্রথমেই এ শহরের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করব। শহরের মানুষের সম্মান ফিরিয়ে দিতে চাই। সিটি করপোরেশনের এখন দেনা প্রায় ৮০ কোটি টাকা। এ অবস্থায় নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা কতোটা সহজ? ভালো প্রশ্ন। অদক্ষতার কারণে সিটি করপোরেশন আজ ঋণের বোঝায় ধুঁকছে। মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল মেয়র থাকাকালে, এই তো গত ঈদের আগে কর্মচারীদের বেতন হচ্ছিল না। মেয়র ঢাকায় পালিয়ে ছিলেন। আমি আর বাদশা ভাই (সদর আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা) অন্য প্রকল্প থেকে কর্মচারীদের বেতনের ব্যবস্থা করেছি। ঈদের আগের দিন তাদের মুখে হাসি ফুটিয়েছি। আসলে সুষ্ঠু পরিকল্পনা থাকলে সবই সম্ভব। আমি মেয়র হলে সিটি করপোরেশনকে ঋণে জর্জরিত হতে দেব না। তখন এমনিতেই নাগরিক সেবা নিশ্চিত হবে। আপনার ইশতেহারে অনেক বড় কিছু প্রকল্প আছে। সেগুলো বাস্তবায়ন কতোটা সম্ভব? সবই সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, আমি মেয়র হলে রাজশাহীর মানুষের জন্য যা চাইব, তাই দেবেন। খুলনায় দেখেছেন, তালুকদার আবদুল খালেক মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরই একনেকে অনেক টাকা পাস হয়েছে। খুলনা এগিয়ে যাবে। প্রধানমন্ত্রী চান, যিনি বাস্তবায়ন করতে পারবেন, তাকে দিয়েই প্রকল্প বাস্তবায়ন করাতে। মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল মেয়র থাকাকালেও প্রধানমন্ত্রী সিটি করপোরেশনে টাকা দিয়েছেন। কিন্তু উন্নয়ন তো কিছুই হয়নি। লুটপাট হয়েছে, দুর্নীতি হয়েছে। মেয়র হলে সেসব দুর্নীতি খতিয়ে দেখবেন কি না? যদি মেয়র হই এবং দুর্নীতির যদি কোনো নথিপত্র পাই, অবশ্যই আমি বিষয়গুলো খতিয়ে দেখব। সেগুলো জনগণের সামনে প্রকাশ করা হবে। কারণ, টাকা তো জনগণের। সেই টাকা কী হচ্ছে, সেটা জনগণ জানতে চায়। সরকার টাকা ঠিকই দেবে, অথচ সেই টাকা লুটপাট হবে, এটা তো হতে পারে না। আপনি দুর্নীতি করবেন না তার নিশ্চয়তা কি? আমি তো পাঁচ বছর মেয়র ছিলাম। কোনো দুর্নীতির অভিযোগ আছে? উন্নয়ন হয়নি? সব সময় ঐতিহ্যবাহী এই শহরের জন্যই কাজ করেছি। তাই আমার সময়ই রাজশাহী হয়েছিল এক দৃষ্টিনন্দন শহর। পরিকল্পিত শহর। রাজশাহী হয়ে উঠেছিল বিশ্বের সবচেয়ে নির্মল বাতাসের শহর। রাজশাহীকে নিয়ে আরও ভালো স্বপ্ন দেখি। দুর্নীতি করলে সেগুলো বাস্তবায়ন হবে না। তাই নিশ্চিত থাকুন, মেয়র হলে আমি তো পরের কথা; নগর ভবনেই দুর্নীতি থাকবে না। রাজশাহীকে ঘিরে আপনার স্বপ্ন কী? অনেক স্বপ্ন। একটা সুখি সমৃদ্ধ নগরী গড়তে চাই। রাজশাহীকে শিক্ষানগরী বলা হলেও এর সরকারি স্বীকৃতি নেই। আমি এই স্বীকৃতি আদায় করতে চাই। শিক্ষানগরীর জন্য আরও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দরকার। সবার আগে দরকার একটা পূর্ণাঙ্গ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। কয়েকটি সরকারি স্কুল দরকার। আমি সেগুলো করতে চাই। ইতিমধ্যে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুরু হয়েছে। এটা দ্রুত শেষ করতে চাই। সেই সঙ্গে নির্মাণাধীন হাইটেক পার্কের নির্মাণটাও দ্রুত শেষ করতে চাই। কারণ এই হাইটেক পার্কে সরাসরি ১৪ হাজার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থান হবে। এছাড়া গ্যাসনির্ভর শিল্পকারখানা গড়ে তুলতে চাই। শিক্ষিত মানুষের কর্মচঞ্চল এক নগরীর স্বপ্ন দেখি। নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না বলে আশঙ্কা করছে বিএনপিৃ প্রত্যেকটা নির্বাচনের আগেই বিএনপি বলে ভোট সুষ্ঠু হবে না। ভোটের দিন সকালেই তারা নির্বাচন বর্জন করে। এগুলো জানা কথা। এসব শুনতে শুনতে দেশের মানুষ বিরক্ত হয়ে গেছে। এগুলো নিয়ে ভাবছি না। নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলেই মনে করি। আমি আমার দলের লোকজনকে নির্দেশ দিয়ে রেখেছি কোথাও কেউ যেন বিশৃঙ্খলা না করে। এর কারণ, আমরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন করতে চাই। জনগণ নির্বিঘেœ ভোটকেন্দ্রে যাবে, তাদের মতের প্রতিফলন ঘটবে, আমরা এটাই চাই। ঢাকাটাইমস

অন্যান্য সংবাদ