প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সচিবালয় স্থানান্তর হচ্ছে না

ডেস্ক রিপোর্ট : সচিবালয়প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র বাংলাদেশ সচিবালয়কে একসময় বর্তমান জায়গা থেকে সরিয়ে শেরেবাংলা নগরে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল সরকার। নানা কারণে আটকে গেছে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া। গণপূর্ত ও গৃহায়ন মন্ত্রণালয় থেকে এ বিষয়ে একটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটিতে (একনেক) উপস্থাপন করা হলেও তা ফেরত যায়। পরবর্তীতে এটি বাস্তবায়ন না হওয়ায় বাংলাদেশ সচিবালয়কে নতুন শহর পূর্বাচলে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সরকারের নীতিনির্ধারকরা চিন্তাভাবনা শুরু করেছিলেন। কিন্তু এ ভাবনাও আর আলোর মুখ দেখেনি। তাই আপাতত রমনা থেকে সচিবালয় সরানোর চিন্তা বাদ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রমনা থেকে সচিবালয় সরিয়ে নিতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ২০১৫ সালের অক্টোবরে প্রস্তাব তোলা হয়। তবে লুই আই কানের মূল নকশাসহ প্রস্তাব উপস্থাপন না করায় একনেক তখন প্রস্তাবটি ফেরত পাঠিয়ে দেয়। পরে এ প্রসঙ্গটি আর আলোচনার মুখ দেখেনি।

রমনায় সচিবালয় সম্প্রসারণের জায়গা না থাকায় শেরেবাংলা নগরে বর্তমান আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলার মাঠ ও চন্দ্রিমা উদ্যানের কিছু জায়গা নিয়ে ৩২ একর জমির ওপর নতুন জাতীয় সচিবালয় নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করেছিল সরকার।

প্রস্তাবিত প্রকল্পে চারটি ব্লকে ভাগ করে জাতীয় সচিবালয় কমপ্লেক্স নির্মাণের কথা বলা হয়। এরমধ্যে দুটি বড় ব্লকে ৩২টি বড় মন্ত্রণালয় এবং অন্য দুটি ব্লকে ১৬টি ছোট মন্ত্রণালয়কে স্থানান্তরের পরিকল্পনা ছিল সরকারের। প্রস্তাবিত সচিবালয়ের মূল ভবনের আয়তন ধরা হয়েছিল প্রায় ২ লাখ ৫৩ হাজার ৩১০ বর্গমিটার। এরসঙ্গে ৫৪ হাজার ৫০৫ বর্গমিটার অ্যাসোসিয়েটস ভবন, ৫ হাজার ৮৪৩ বর্গমিটার অডিটোরিয়াম ও হলরুম, ২৪ হাজার ৭২৯ বর্গমিটার মসজিদ আর্কেড ও সমবায় ভবন, এক হাজার ৩৮ বর্গমিটার এন্ট্রান্স প্লাজা, ৫ হাজার ২০০ বর্গমিটার চিলার রুম, ৬৮ হাজার ২৩৪ বর্গমিটারের সড়ক এবং এক হাজার ৭৭২ মিটার সীমানা প্রাচীর রাখার পরিকল্পনা ছিল।

গণপূর্ত অধিদফতরের মাধ্যমে শেরেবাংলা নগরের নতুন সচিবালয় দুই হাজার ২১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০১৮ সালের মধ্যে বাস্তবায়ন করার কথা বলা হয়েছিল। তবে এই প্রস্তাবটি ২০১৫ সালের অক্টোবরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত একনেক বৈঠকে উপস্থাপন করা হলে তা অনুমোদন হয়নি। ওই সভায় প্রধানমন্ত্রী লুই আই কানের মূল নকশা দেখে পরিকল্পনা গ্রহণের কথা বলেছিলেন। বিদ্যমান মূল নকশা অনুযায়ী কোথাও কোনও বিচ্যুতি হচ্ছে কীনা, তা দেখার জন্য বলেছিলেন। লুই কানের মূল নকশা দেখার পর প্রকল্পটি ফের একনেকে উপস্থাপনের পরামর্শ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

এরপর আর এ বিষয়ে কোনও প্রস্তাব একনেকে ওঠানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শেরেবাংলা নগরে ৩২ একর জমির ওপর নতুন সচিবালয় নির্মাণের এ প্রস্তাবটি ২০১৫ সালের ৬ জুন পরিকল্পনা কমিশনের প্রাক-মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভায় তোলা হয়। তখন সমীক্ষা ছাড়াই প্রকল্পের প্রস্তাব তৈরি করায় আপত্তি জানায় পরিকল্পনা কমিশন। কিন্তু প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় জুলাই মাসে প্রকল্পটি এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়। তারপরই প্রকল্পের প্রস্তাবনাটি একনেকে তোলা হয়।

প্রসঙ্গত, শেরেবাংলা নগরে সচিবালয় স্থাপনের জন্য ১৯৭৪ সালে ১০টি ব্লকে চারটি ৯ তলা ভবনসহ অফিস, ব্যাংক, অডিটরিয়াম, মসজিদ, কার পার্কিং সংবলিত জাতীয় সচিবালয় নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এ জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ডেভিড উইজডম অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে চুক্তিও হয়। কিন্তু পরবর্তীতে প্রকল্পটি নিয়ে আর কোনও অগ্রগতি হয়নি। এর প্রায় ২০ বছর পর ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর আবারও উদ্যোগ নেওয়া হয়।

এদিকে, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, প্রতিবছরই এ প্রকল্পের জন্য এডিপিতে (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তবে কোনও অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয় না। সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, সচিবালয় আপাতত শেরেবাংলা নগরে সরিয়ে নেওয়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।

জানা গেছে, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত শুরু থেকেই সচিবালয় রমনা থেকে শেরেবাংলা নগরে স্থানান্তরের বিরোধিতা করেছেন। তার যুক্তি ছিল, সচিবালয় যদি এখন থেকে সরাতেই হয়, তাহলে তা মাত্র আট কিলোমিটার দূরে শেরেবাংলা নগরে কেন? এটি সরাতে হবে আরও দূরে। রাজধানী ঢাকা একদিকে ঝিলমিল ও অন্যদিকে পূর্বাচলের দিকে সম্প্রসারিত হচ্ছে। সেই বিবেচনায় নতুন পরিকল্পনায় গড়ে ওঠা নতুন শহর পূর্বাচলের দিকে বাংলাদেশের প্রশাসনিক সদর দফতর সরানোর পক্ষে ছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানে সচিবালয় নির্মাণের মতো পরিকল্পনা মাফিক এত বেশি জায়গা পাওয়া যায়নি। ফলে এ পরিকল্পনাও বেশিদূর এগোতে পারেনি।

এদিকে, সচিবালয়ের ভেতরে ছয় এবং সাত নম্বর ভবনের মাঝখানে ‘অর্থভবন’ নামে একটি ২০ তলা ভবন তৈরি হচ্ছে। পুরো ভবনটি এখনও ব্যবহার উপযোগী হয়নি। এই ভবনের কয়েকটি ফ্লোরে অর্থ বিভাগের কয়েকটি উইং স্থানান্তর করা হয়েছে।

বর্তমান সচিবালয় শেরেবাংলা নগরে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তাফা কামাল জানান, প্রধানমন্ত্রী এ প্রসঙ্গে মূল নকশাটি দেখতে বলেছিলেন। মন্ত্রী বলেন, ‘মার্কিন স্থপতি লুই কান ১৯৬২ সালে ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবন কমপ্লেক্স ও আশপাশের এলাকা নিয়ে যে নকশা করেছিলেন, সেটি এখন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে।’ পরে আর বিষয়টি তেমন এগোয়নি বলেও জানান তিনি।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘লুই আই কানের মূল নকশা ফিরিয়ে আনার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে। যেহেতু একনেকের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ওই নকশার কথা বলেছেন, আমরা সেই চেষ্টাই করছি। তবে আপাতত সচিবালয় রমনা থেকে স্থানান্তরের কোনও প্রকল্প আমাদের নেই। বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ