Skip to main content

ডিপ্লোম্যাটিক বণ্ডের অপব্যবহার; ১২১কোটি টাকার অডিট আপত্তি

আসাদুজ্জামান সম্রাট : বিভিন্ন ডিপ্লোমেটিক বন্ডেড ওয়্যার হাউজ কর্তৃক সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যক্তির পাশ বইয়ের অনুকূলে অনিয়মিতভাবে প্রাধিকারের অতিরিক্ত পণ্য ইস্যু করাসহ কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট ঢাকা ও চট্টগ্রাম কার্যালয়ের আর্থিক অনিয়ম ধরা পড়েছে। মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের নিরীক্ষা প্রতিবেদনে প্রায় ১২১ কোটি টাকার অডিট আপত্তি উত্থাপিত হয়েছে। রোববার জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত সরকারি হিসাব সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির ৮৯তম বৈঠকে এই অডিট আপত্তি নিয়ে আলোচনা হয়। কমিটির সভাপতি ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন। বৈঠকে কমিটির সদস্য মো. রুস্তুম আলী ফরাজী, মোঃ আফছারুল আমীন, গোলাম দস্তগীর গাজী ও বেগম ওয়াসিকা আয়েশ খান অংশগ্রহণ করেন। বৈঠকে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীণ কাস্টমস বন্ড কমিশনারেট ঢাকা ও চট্টগ্রাম কার্যালয়ের ২০০৮-১২ অর্থ বছরের হিসেবের উপর মহা হিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের নিরীক্ষা প্রতিবেদন ২০১২ -২০১৩ এ অন্তর্ভুক্ত আপত্তির অনুচ্ছেদ ১,২,৩,৪,৫,৬,৭,৮,৯ ও ১০ মোট ১০ টি অডিট আপত্তি নিয়ে আলোচনা হয় । বৈঠক শেষে কমিটির সভাপতি ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর, এইসব অডিট আপত্তি দ্রুত নিস্পত্তির জন্য সুপারিশ করেছে কমিটি। কোনটি সাত দিন, কোনটি ১৫ দিন আবার কোনটি নিষ্পত্তির জন্য তিন মাস সময় বেধে দেয়া হয়েছে। বৈঠকে বিভিন্ন ডিপ্লোমেটিক বন্ডেড ওয়্যার হাউজ কর্তৃক সুবিধাপ্রাপ্ত ব্যক্তির পাশ বইয়ের অনুকূলে অনিয়মিতভাবে প্রাধিকারের অতিরিক্ত পণ্য ইস্যু করায় শুল্ককরাদি বাবদ ৭ কোটি ৯০ লাখ ১৩ হাজার ৮ শত ১২ টাকা রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে অডিট আপত্তিতে জানানো হয়। এজন্য কমিটির পক্ষ থেকে এটর্নি জেনারেল অফিসের সংগে যোগাযোগ করে মামলার তদারকী জোরদারপূর্বক আগামী তিন মাসের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তির সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে বন্ডের আওতায় আমদানিকৃত কাঁচামাল ডেডোর উপকরণ উৎপাদন অপেক্ষা অতিরিক্তি ব্যবহার দেখানোর ফলে শুল্ক কারাদি বাবদ ৪ কোটি ১৮ লাখ ৩২ হাজার ৫ শত ২২ টাকা ক্ষতি বলে অডিট আপত্তিতে জানানো হয়। এটি আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তির সুপারিশ করে কমিটি। বৈঠকে জানানো হয়, বন্ড লাইসেন্সে অন্তর্ভুক্ত নয় এমন পণ্য বিভিন্ন ডিপ্লোম্যাটিক বন্ডেড ওয়্যার হাউজ কর্তৃক বন্ডের আওতায় আমদানি করায় শুল্ক করাদি বাবদ ৪ কোটি ৮৪ লাখ ৩৩ হাজার ১শত ৮৩ টাকা রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে অডিট আপত্তিতে জানানো হয়। এটিও তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির সুপারিশ করে কমিটি। এছাড়া বিভিন্ন ডিপ্লোমেটিক বন্ডেড ওয়্যার হাউজ কর্তৃক প্রাপ্যতার অতিরিক্ত পণ্য আমদানি করায় অতিরিক্ত আমদানিকৃত পণ্যের শুল্ক করাদি বাবদ ৪০ কোটি ২২ লাখ ২৪ হাজার ৭ শত ৭৬ টাকা রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে অডিট আপত্তিতে জানানো হয়। এটি আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তির সুপারিশ করে কমিটি। বৈঠকে উল্লেখ্য করা হয়, দেশে ব্যবহারযোগ্য দ্রব্যাদি বন্ডের আওতায় আমদানিকৃত পণ্য বন্ডিং মেয়াদউত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও খালাসকৃত পণ্যের ধার্য্যকৃত শুল্ক করাদির ওপর অনিয়মিতভাবে সুদ কম আদায় করায় ৮ কোটি ৭৫ লাখ ৯৯ হাজার ৮ শত ৬৯ টাকা রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে অডিট আপত্তিতে জানানো হয়। কমিটির পক্ষ থেকে অনধিক ৩০ দিনের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তির সুপারিশ করে। বৈঠকে বন্ডের আওতায় আমদানিকৃত কাঁচামাল বন্ড রেজিষ্ট্রারে এন্ট্রি না করায় উক্ত কাঁচামাল এক্সবন্ডের মাধ্যমে খালাস না করায় শুল্ক করাদি বাবদ ১ কোটি ৩৪ লাখ ৮ হাজার ৮ শত ৯২ টাকা রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে অডিট আপত্তিতে জানানো হয়। অনধিক ১৫ দিনের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তির সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে বর্ধিত বন্ডিং মেয়াদউত্তীর্ণ পণ্য অনিয়মিতভাবে স্থায়ী আন্তঃবন্ড স্থানান্তরের মাধ্যমে খালাসের অনুমোদন করায় শুল্ককরাদি বাবদ ৯৬ লাখ ৯২ হাজার ৬শত ৯৪ টাকা রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে অডিট আপত্তিতে জানানো হয়। ৭ কর্মদিবসের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তির সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে বন্ডের আওতায় আমদানিকৃত কাঁচামাল বন্ড রেজিষ্ট্রারে এন্ট্রি না করে অনিয়মিভাবে বিক্রয় করায় শুল্ককরাদি বাবদ ১২ কোটি ৫৫ লাখ ৭১ হাজার ৮শত ৪১ টাকা রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে অডিট আপত্তিতে জানানো হয়। ৭ কর্মদিবসের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তির সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে বন্ডিং মেয়াদে উত্তীর্ণ হওয়ার পরও বন্ডের আওতায় আমদানিকৃত পণ্য খালাস না করায় শুল্ককরাদি বাবদ ১৭ কোটি ১২ লাখ ০৭ হাজার ৯শত ৯৩ টাকা রাজস্ব ক্ষতি হয়েছে বলে অডিট আপত্তিতে জানানো হয়। ৭ কর্মদিবসের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তির সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে শুল্ক করাদি বাবদ ২৩ কোটি ২৩ লাখ ৫১হাজার ৩শত ৬০ টাকা অনাদায় সম্পর্কিত নথিপত্র অডিটে উপস্থাপন না করা। কমিটির পক্ষ থেকে এজিবির সংগে সরাসরি যোগাযোগপূর্বক অনধিক ৭ কর্মদিবসের মধ্যে আপত্তিগুলো নিষ্পত্তি অথবা আপিলের মেয়াদ উত্তীর্ন হলে সংশ্লিষ্ট আইন কর্মকর্তার সংগে যোগাযোগপূর্বক আপিল করে বিষয়টি নিষ্পত্তির সুপারিশ করা হয়। বৈঠকে সিএন্ডএজি মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, অডিট অফিস এবং বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের সংশ্লিষ্ট কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

অন্যান্য সংবাদ