প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

পোলিং এজেন্ট নিয়ে বিপাকে আরিফ-কামরান

আশরাফ চৌধুরী রাজু, সিলেট: সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র প্রার্থীদের পোলিং এজেন্ট চূড়ান্ত করা নিয়ে বিপাকে পড়েছে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি। তবে দুই দলের সমস্যা ভিন্ন। বিএনপির ভয় গ্রেপ্তার আর হয়রানিতে। আর আওয়ামী লীগের ভয় আস্থার সঙ্কটে। এক্ষেত্রে সুবিধাজনক অবস্থানে আছেন নাগরিক কমিটি মনোনীত প্রার্থী মহানগর জামায়াতের আমীর এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তাঁর আস্থার সঙ্কট নেই, গ্রেপ্তারের ভয়ও নেই।আগামী ৩০ জুলাই সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। মোট ১৩৪ টি কেন্দ্রের ৯২৬ টি বুথে ভোটগ্রহণ করা হবে।

ফলে প্রত্যেক মেয়র প্রার্থী ৯২৬ জন করে করে পোলিং এজেন্ট প্রদান করতে পারবেন। তবে এখন পর্যন্ত সিলেটের কোনো মেয়রপ্রার্থীই নিজেদের এজেন্টদের তালিকা রিটার্নিং কর্মকর্তার জমা দেননি।সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের গণমাধ্যম কর্মকর্তা প্রলয় চন্দ্র সাহা বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো মেয়র প্রার্থী তাদের পোলিং এজেন্টদের তালিকা জমা দেননি।

তালিকা নির্বাচনের দিন সকালেই প্রদান করা যাবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা তাদের কাছে আগেভাগেই তালিকাগুলো চেয়েছিলাম। কারণ পরে অনেকেই তাদের এজেন্টদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে, কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন। আগে তালিকা পেলে এই বিষয়গুলো দেখভাল করতে পারতাম।তবে গ্রেপ্তার আর মামলা আতঙ্কে এখন পর্যন্ত এজেন্টদের তালিকাই চূড়ান্ত করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যরা। তাদের আশঙ্কা তালিকা চূড়ান্ত করলে এই তালিকা ধরে ধরে গ্রেপ্তার ও হয়রানি হতে পারে বলেও আশঙ্কা তাদের। তাই আগে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পোলিং এজেন্টদের তালিকা জমা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।

গত চারদিনে সিলেটে বিএনপি ২৪১ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরমধ্যে দুটিই করেছে পুলিশ বাদী হয়ে। গত এক সপ্তাহে আটক করা হয় বিএনপির অন্তত ৭ নেতাকর্মীকে। এঅবস্থায় গত মঙ্গলবার নির্বাচনের আগে সিলেট বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি না করার নির্দেশ দেয় উচ্চ আদালত। এই রুলের পর আর কোনো নেতাকে গ্রেপ্তার করা না হলেও বৃহস্পতিবার দক্ষিণ সুরমা থানায় বিএনপির ৭৩ নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে পুলিশ। ওই থানার এক উপ-পরিদর্শকের উপর ককটেল হামলার অভিযোগ আনা হয় এসব নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

এমন মামলার কারণে আতঙ্ক বিরাজ করছে বিএনপির মধ্যে। ফলে এজেন্টদের তালিকাও তৈরি করতে পারছে না তারা।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী বদরউদ্দিন আহমদ কামরান পড়েছেন ভিন্ন সমস্যায়। ২০১৩ সালের নির্বাচনের মেয়র প্রার্থী ছিলেন তিনি। তখনও তাঁর দল ক্ষমতায় ছিলো। কিন্তু ভোটের দিন দেখা গেছে, অনেক কেন্দ্রেই কামরানের এজেন্ট নেই।

অভিযোগ আছে, সেবার দলের অনেক নেতাই কামরানের বিরুদ্ধে ছিলেন। ওইসব নেতারা নিজেদের অনুসারীদের বিভিন্ন কেন্দ্রে এজেন্ট করলেও ভোটের দিন তারা হাজির হননি।এবার আওয়ামী লীগ প্রকাশ্যে ঐক্যবদ্ধভাবেই মাঠে নেমেছে কামরানের পক্ষে। তবে এবারও আড়ালে দলটির শীর্ষ অনেক নেতাই কামরানের বিরুদ্ধাচারণ করছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে এখন পর্যন্ত কামরানের পক্ষে মাঠে দেখা যায়নি। ফলে এবার অনেক হিসেব কষেই এজেন্ট চূড়ান্ত করতে হচ্ছে কামরানকে।তবে দলের বিভেদের বিষয় অস্বীকার করে মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বদরউদ্দিন আহমদ কামরানের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব আসাদ উদ্দিন আহমদ বলেন, আমাদের দল ঐক্যবদ্ধ। তবে দলে নেতাকর্মী বেশি হওয়ায় এজেন্ট হওয়ার মতো লোক অনেক।

তাদের মধ্যে থেকে যাচাই বাছাই করে এজেন্ট চূড়ান্ত করতে হচ্ছে।সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আলী আহমদ বলেন, আমাদের নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

নতুন নতুন মামলা করে হয়রানি করা হচ্ছে। তাই কাদের এজেন্ট হিসেবে রাখবো এ নিয়ে আমরা বিপাকে আছি। এজেন্টদের গ্রেপ্তার করা হতে পারে এমন শঙ্কাও প্রকাশ করেন তিনি।তবে এ নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই নাগরিক কমিটির প্রার্থী ও মহানগর জামায়াতের আমীর এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।

তিনি বলেন, আমাদের এজেন্ট তালিকা প্রস্তুত আছে। এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ সুষ্ঠুই আছে। আশা করছি, এজেন্টদের গ্রেপ্তার বা হয়রানি করা হবে না।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত