প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘বর্ষা মৌসুমে রোহিঙ্গাদের স্ট্রাগলটা অনেক বেশি বেড়ে গেছে’

আশিক রহমান : বর্ষা মৌসুমে রোহিঙ্গাদের স্ট্রাগলটা অনেক বেড়ে গেছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েল আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক অধ্যাপক ড. দেলোয়ার হোসেন। খুব সম্প্রতি তিনি রোহিঙ্গা ক্যাম্প ঘুরে এসেছেন। এ প্রতিবেদকের সঙ্গে আলাপকালে জানিয়েছেন সেই অভিজ্ঞতার কথাই।

তিনি বলেন, বর্ষা মৌসুম চলছে, তার বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে রোহিঙ্গাদের উপর। ক্যাম্পগুলো ঘুরে ঘুরে তাই দেখেছি আমরা। রোহিঙ্গাদের জন্য আমাদের সেক্রিফাইস অনেক। আমরা আমাদের পাহাড়, বন, মাটি ব্যবহারের জন্য দিয়েছি আশ্রিত রোহিঙ্গাদের জন্য। কিন্তু তাদের বসবাসের জায়গায়গুলোতে এখন একটা নাজুক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে তাদের চলাফেরা, স্ট্রাগল বা সাফারিংটা অনেক বেশি বেড়ে গেছে।

তিনি আরও বলেন, ক্যাম্পগুলো ঘুরে ঘুরে আমরা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের সঙ্গে কথা বলে যা বুঝতে পেরেছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার হয়ে এখানে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গারা খাদ্য ও নিরাপত্তাও পাচ্ছে। এটা তারা অনুভব করছে। কিন্তু একইসঙ্গে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার ভাবনাটাও কাজ করছে তাদের মনে। তবে একটা শঙ্কা ও আতঙ্কও তাদের মধ্যে কাজ করছে। রাখাইনে ফিরে যেতে চায় তারা, কিন্তু কীভাবে যাবে? যাওয়ার পর কী করবে? ফিরে যাওয়ার বিষয়টা যাতে নিরাপদ হয়, ফিরে গিয়ে তারা যেন তাদের সেই পুরোনো আবাস পায় এ বিষয়গুলো তাদের মাথায় কাজ করছে।

এক প্রশ্নের জবাবে ড. দেলোয়ার হোসেন বলেন, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর অনেক সমস্যা আছে। সমস্যা থাকলেও আমরা দেখেছি যে, তারা ভালো আছে। অন্তত মিয়ানমারের তুলনায় তো বহু গুণে ভালো আছে, এমনটিই বলেছেন তারা। ক্যাম্পে আপাতত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা তারা পাচ্ছেন, কিন্তু ভবিষ্যতে তা বজায় থাকবে কি না এ নিয়ে উদ্যোগও লক্ষ্য করা গেছে তাদের মধ্যে।
তিনি বলেন, স্থানীয় জনগোষ্ঠী প্রথমদিকে যেভাবে রোহিঙ্গাদের স্বাগত জানিয়েছিল, স্বাভাবিকভাবেই এখন অনেক সমস্যা তৈরি হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও রোহিঙ্গাদের মধ্যে একধরনের সহাবস্থান চলছে। কিন্তু স্থানীয় জনগোষ্ঠী একধরনের অসন্তুষ্টও। কারণ তাদের রিসোর্স, তাদের চাকরির বাজার, বাজারের দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি সব মিলিয়ে স্থানীয় অর্থনীতির উপর চাপ পড়ছে। এই চাপের ফলে স্থানীয় জনগোষ্ঠী ও রোহিঙ্গাদের মধ্যেকার সম্পর্ক কতটা ভালো থাকবে, কোনো সংকট তৈরি হবে কি না, কোনো টেনশন সৃষ্টি হবে কি না, উত্তেজনা সৃষ্টি হবে কিনা দেখার বিষয়।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ