প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

আরিফ-কামরানের প্রচারণায় মাঠে নেমেছেন স্ত্রীরাও

ডেস্ক রির্পোট: আগামী ৩০ জুলাই অনুষ্ঠিত হবে সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। সেই নির্বাচনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরান ও ২০ দলীয় জোটের মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর মধ্যে। আরিফুল হক চৌধুরী চান মেয়র পদ ধরে রাখতে আর বদর উদ্দিন আহমদ কামরান চান পুনরুদ্ধার। তবে নির্বাচনি মাঠে এবার আলোচনার ঝড় তুলেছেন তাদের স্ত্রীরা। দুজনই স্বামীর জন্য ভোট প্রার্থনা করে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বেড়াচ্ছেন।

সময় যত গড়াচ্ছে সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ততই বাড়ছে শঙ্কা ও উত্তাপ। কারণ এবারই প্রথম সিটি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে দলীয় প্রতীকে। দুদলের কাছে ব্যক্তি ইমেজের বাইরেও এখন দলীয় ইমেজ ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের স্ত্রী ও আরিফুল হক চৌধুরীর স্ত্রী জন্মসূত্রে ময়মনসিংহের টাঙ্গাইল জেলার বাসিন্দা। প্রতিবারের মতো এবারও সিলেটে অবস্থানরত ময়মনসিংহের বাসিন্দাদের ভোট টানতে নানা কৌশল অবলম্বন করেছেন তারা। তারা উভয়েই নিজ নিজ স্বামীর পক্ষে নানা যুক্তি দেখিয়ে, স্বামীর পক্ষ থেকে নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট টানার চেষ্টা করছেন।

জানা যায়, ময়মনসিংহের টাঙ্গাইল জেলার বাসাইল উপজেলার ময়তা গ্রামে আসমা কামরানের বাবার বাড়ি। বাবার চাকরিসূত্রে শৈশব থেকেই সিলেটে আছেন তিনি। এখন সিলেটেই তার সব কিছু। আরিফুল হক চৌধুরী স্ত্রী শ্যামা হক। তার বাড়ি ময়মনসিংহ শহরের নওমহালে। বিবাহসূত্রে ১৯৯১ সাল থেকে তিনি সিলেটেই রয়েছেন। ময়মনসিংহ, আসমা কামরান, শ্যামা হক- এই তিনের যোগসূত্র সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) তৃতীয় নির্বাচনে প্রভাব ফেলেছিল। এবার সিসিকের চতুর্থ নির্বাচনেও থাকবে এর প্রভাব।

সিসিক নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের স্ত্রী আসমা কামরান; বিএনপির মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর স্ত্রী শ্যামা হক। অন্যদিকে সিলেট মহানগরীতে ময়মনসিংহ অঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ বসবাস করছেন। নির্বাচনে জয়-পরাজয় নির্ধারণে এই বিপুল সংখ্যক ভোট প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে। আর তাই নিজেদের শ্বশুরবাড়ির অঞ্চলের এসব ভোট টানতে তৎপর আরিফ ও কামরান। সিলেটে বসবাসরত ময়মনসিংহ অঞ্চলের লোকদের সংগঠন হচ্ছে ‘সিলেটস্থ বৃহত্তর ময়মনসিংহ সমিতি’। আসমা কামরান ও শ্যামা হক উভয়েই এই সমিতির উপদেষ্টা পদেও আছেন।

সিসিকের প্রথম দুই নির্বাচনে সিলেটে বসবাসরত ময়মনসিংহ অঞ্চলের মানুষদের ভোট যায় কামরানের বাক্সে। কিন্তু গত নির্বাচনে বিএনপি নেতা আরিফুল হক চৌধুরী প্রথমবারের মতো মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় ওই অঞ্চলের ভোট দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এবারও ময়মনসিংহ অঞ্চলের ভোট আরিফ ও কামরানে বিভক্ত হবে।

তবে আমরা জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী জানিয়ে আসমা কামরান বলেন, সিলেটে বসবাসকারী বৃহত্তর ময়মনসিংহের বাসিন্দাদের ভোট অতীতে কামরানের পক্ষে এসেছে, এবারও আসবে।এবার সিটি নির্বাচনে দলীয় প্রতীক দেওয়ায় অনেকটা চ্যালেঞ্জ নিয়েই কাজ করতে হচ্ছে।

সিলেটের মানুষের মতো ময়মনসিংহের মানুষও আরিফকেঅনেক ভালোবাসে দাবি করে শ্যামা হক বলেন, ‘গত নির্বাচনেও ময়মনসিংহ অঞ্চলের মানুষ আরিফকে ভোট দিয়ে বিশাল ভোটের ব্যবধানে জয়ী করেছে। এজন্য তাদের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। কারণ তাদের মেয়ে হিসেবে তারা আমাকে মূল্যায়ন করেছিলেন। এবারও তারা আরিফের সাথে আছেন এবং বিপুল ভোটের ব্যবধানে তারা এবারও সিলেটবাসীর সঙ্গে এক হয়ে কাজ করেও যাচ্ছেন।’

ময়মনসিংহ সমিতির সাধারণ সম্পাদক তৌফিকুল আলম বাবলু বলেন, সিলেট সিটি নির্বাচনে প্রধান দুই মেয়র প্রার্থী, কামরান ও আরিফ ময়মনসিংহ অঞ্চলের জামাই। তাই সিলেট নগরীতে বসবাসরত ময়মনসিংহ অঞ্চলের মানুষদের ভোট ভাগাভাগি হবে। দুজনই ভোটারদের কাছে খুবই প্রিয়।সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ