প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সিলেটে এজেন্টদের বাড়িতে পুলিশি হানার অভিযোগ

ডেস্ক রিপোর্ট : মামলা ও গ্রেপ্তারের অভিযোগ ছিল আগে থেকেই। শেষ মুহূর্তে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তার এজেন্টদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে হয়রানির। বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ভোটের মাঠ থেকে দূরে রাখতে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে তাদের। ইতিমধ্যে ৪টি মামলায় প্রায় ৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। ঘটনার সময় সিলেটে উপস্থিত না থেকেও মামলার আসামি হয়েছেন অনেকে। আসামি করা হয়েছে কারাবন্দি নেতাকেও।
এদিকে নির্বাচনে দায়িত্ব পালনে সাংবাদিকদেরও মোটরসাইকেল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। সিলেট আঞ্চলিক নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় থেকে কোনো স্টিকার দেয়া হচ্ছে না। এ নিয়ে খোদ সাংবাদিকদের মধ্যেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সিটি নির্বাচনের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং অফিসার বলছেন, এ ব্যাপারে সবকিছু করছেন ঢাকা থেকে আসা নির্বাচন কমিশনের একজন সহকারী পরিচালক। এমন অবস্থায় ভোটের মাঠে নানা শঙ্কা ভর করেছে। যদিও নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রয়েছে। নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে কোনো শঙ্কা নেই।

সূত্র মতে, ইতিমধ্যে এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সিলেটে চারটি মামলা হয়েছে। পুলিশ বাদী এসব মামলায় জ্ঞাত-অজ্ঞাত প্রায় ৪০০ বিএনপি নেতাকর্মীকে আসামি করা হয়েছে। প্রথম মামলাটি হয়েছে ২২শে জুলাই রাতে শাহপরান থানায়। দুই কর্মীর সন্ধান জানতে ওইদিন দুপুর দেড়টা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত বিএনপির মেয়রপ্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী তার লোকজন নিয়ে পুলিশ কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। এ ঘটনায় পুলিশের দায়িত্ব পালনে বাধা দানের অভিযোগ এনে ৩৯ নেতাকর্মীর নামোল্লেখ করে শতাধিক ব্যক্তির নামে মামলা করা হয়। তবে মেয়রপ্রার্থী আরিফুল চৌধুরীকে এ মামলায় আসামি করা হয়নি। এ মামলায় আটক করা হয় দুজনকে। একই দিন রাতে নগরীর টুলটিগড় এলাকায় আওয়ামী লীগ প্রার্থী বদর উদ্দিন কামরানের নৌকার নির্বাচনী ক্যাম্পে কে বা কারা অগ্নিসংযোগ করে। ওই ঘটনায় পরদিন ২৩শে জুলাই অজ্ঞাত শতাধিক বিএনপি নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। গত ২৫শে জুলাই রাতে দক্ষিণ সুরমার মোমিনখলা এলাকায় দক্ষিণ সুরমা থানার এসআই রায়হান উদ্দিন মোটরসাইকেল যোগে কর্মস্থলে যাওয়ার সময় তার ওপর ককটেল হামলা হয়। এ ঘটনায়ও বিএনপির ৪৮ নেতাকর্মীর নামোল্লেখ করে আরো ৫০-৬০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করে পুলিশ। এ মামলা একজন আসামি গত ৫ মাস ধরে সিলেটে কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি রয়েছেন। ২৭শে জুলাই রাতে নগরীর চৌখিদেখি এলাকায় বদর উদ্দিন আহমদের নির্বাচনী কার্যালয়ে ককটেল হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ফারুক আহমদ নামে যুবলীগের এক নেতা বিমানবন্দর থানায় বিএনপির ৬০ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরো ২০ জনকে আসামি করে বিস্ফোরক আইনে মামলা করেছেন। এ মামলার দুই আসামি ঘটনার সময় সিলেটে অবস্থান না করলেও তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এসব মামলার কারণে বিএনপি নেতাকর্মীরা রাতের বেলায় গা-ঢাকা দিয়ে বেড়াচ্ছেন।

এদিকে নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ভোট ডাকাতির মহাপরিকল্পনা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সিলেট বিএনপির এক সিনিয়র নেতা। তার দাবি, এই পরিকল্পনার কথা ফাঁস হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে তারাও সতর্ক থাকবেন।
মহানগর বিএনপির সহ-সভাপতি সালেহ আহমেদ খসরু বলেন, তাদের নানাভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। বিশেষ করে মিথ্যা মামলা দিয়ে। বলেন, আমার ভাই সাবেক ছাত্রদল নেতা বর্তমানে ভারতে অবস্থান করলেও তার বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে। এছাড়া আবদুল্লাহ শফি নামে এক নেতার বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়েছে, তিনিও ঘটনার সময় সিলেটের বাইরে ছিলেন। এসব মিথ্যা মামলার কারণে নেতাকর্মীরা শঙ্কিত। তিনি অভিযোগ করেন, ৪নং ওয়ার্ডের আম্বরখানা এলাকার তাদের এক এজেন্টকে রাতে হুমকি দেয়া হয় যেন ভোটের মাঠে না যায়। ওই কর্মী শঙ্কিত। এজেন্ট হলে তার সমস্যা হবে- এমন কথাও জানিয়েছে।

শুক্রবার এমন অভিযোগ করেন মেয়র প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরী নিজেও। রাত ১০টায় জরুরি এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, গত কয়েক দিন থেকে আমার নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সকল পর্যায়ের দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অব্যাহতভাবে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি, গ্রেপ্তার, নেতাকর্মীদের বাসাবাড়িতে তল্লাশির মাত্রা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, নগরীর বিভিন্ন এলাকা ও স্থানে সরকার দলীয় মেয়র প্রার্থী বদর উদ্দিন কামরানের নামধারী সমর্থক সন্ত্রাসী ও প্রশাসনের কিছু সংখ্যক সদস্যদের যোগসাজসে পরিকল্পিতভাবে আমার নির্বাচন পরিচালনায় নিয়োজিত থাকা দলীয় নেতাকর্মীদের ফাঁসাতে গ্রেনেড হামলা, কার্যালয় পোড়ানোসহ নানা অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে। এ অবস্থায় সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ভোটারদের অবাধে ভোটকেন্দ্রে যাওয়া নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছি। অন্যদিকে ভোটের দিন আমার পোলিং এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে যেতে বাধা, গ্রেপ্তার, গুম করে কেন্দ্র দখল করে ফলাফল সরকারদলীয় মেয়র প্রার্থীর পক্ষে নেয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছে বলেও আশঙ্কা করছি। এরই ধারাবাহিকতায় ইতিমধ্যে বিএনপিসহ ২০দলীয় জোটের নেতার্কীদের গ্রেপ্তারে, বাসাবাড়িতে তল্লাশি করে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হচ্ছে। সংবাদ সম্মেলনে আরিফ গত কয়েক দিনের মামলার কথাও উল্লেখ করেন।

বিএনপি সূত্র বলছে, তাদের পোলিং এজেন্টদের কেন্দ্রে শক্তভাবে অবস্থান নেয়ায় বড় চ্যালেঞ্জ। ভয়ভীতি উপেক্ষা করে তারা যেন কেন্দ্রে অবস্থান করেন সে ব্যাপারে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

এদিকে নগরীতে ভোটের দিন মোটরসাইকেল ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে স্থানীয় সাংবাদকর্মীদের মোটরসাইকেলের স্টিকার দেয়া হচ্ছে না। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা। এ ব্যাপারে রিটানিং অফিসার আলীমুজ্জামান বলেন, আমি কিছু বলতে পারছি না। বিষয়টি ঢাকা থেকে আসা নির্বাচন কমিশনের সহকারী পরিচালক আশাদুল হক দেখছেন। আমি শুধু স্বাক্ষর করে দিচ্ছি। আশাদুল হক এ বিষয়ে বলেন, নির্বাচনের দিন মোটরসাইকেলের ওপর কমিশনের নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। তাই আমরা মোটরসাইকেলে ব্যবহারের জন্য স্টিকার দিচ্ছি না। এর আগে অন্যান্য সিটিতেও দেয়া হয়নি।

অভিযোগের ব্যাপারে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার পরিতোষ পাল মানবজমিনকে বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ-বিএনপি সবারই অভিযোগ। আমরা হয়ে গেছি বলির পাঁঠা। বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তারা বিভিন্ন ধরনের অভিযোগই করছে। আসলেই তা কতটুকু সত্য সেটাই ব্যাপার। এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই বলেও তিনি দাবি করেন। ভোট কেন্দ্রে বিশৃঙ্খলার আশঙ্কার প্রসঙ্গে সিএমপি অতিরিক্ত কমিশনার বলেন, আইশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং বিশৃঙ্খলা ঠেকাতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। যারা ভোট ডাকাতির চেষ্টা করবে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। একইসঙ্গে যারা ভোট ডাকাতিতে জড়িত থাকতে পারে বলে মনে হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।

আরিফের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সচিব গ্রেপ্তার

সিলেট সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আরিফুল হক চৌধুরীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার রাত সোয়া নয়টার দিকে নগরীর মীরাবাজারের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে কোতয়ালি থানা পুলিশ। ওসি মোশাররফ হোসেন জানিয়েছেন, তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরিফুল হক চৌধুরী রাতে জরুরি সংবাদ সম্মেলন আহবান করেছেন। আব্দুর রাজ্জাক বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা।
সূত্র : মানবজমিন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত