প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বাংলাদেশ ক্ষুধায় এখনো বিশ্বের ৮৮ তম দেশ
সামাজিক সুরক্ষায় ব্যয় বৃদ্ধি না করায় এমটি হয়েছে : ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

বিশ্বজিৎ দত্ত : সরকারি আমলাদের বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছে গত ৩ বছরে আড়াইগুণ। সংসদ সদস্যদের বেতন ও সুবিধা বৃদ্ধি পেয়েছে তার চেয়েও বেশি। ইতিমধ্যে সংসদ সদস্যরা দাবিও করেছেন তাদের বেতন আমলাদের চেয়ে ১ টাকা বেশি হলেও দিতে হবে। দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার দাবি পূরণ হলেও গরীব মানুষের খাদ্যের দাবি পূরণ হচ্ছে না। দেশ থেকে ক্ষুধা দূর হচ্ছে না।

২০১৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ফুড পলিসির জরিপে বলা হয়েছে ক্ষুধায় ১১৯টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৮ তম। যদিও বাংলাদেশের অবস্থান দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দুই দেশ ভারত ও পাকিস্তানের চেয়ে ভাল। আবার শ্রীলংকা নেপাল ও মায়ানমারের চেয়ে এই দিক দিয়ে পিছিয়ে রয়েছে। বিশ্ব ক্ষুধা সূচকে ভারত ১০০ তম ও পাকিস্তান ১০৬ তম। অন্যদিকে নেপাল ৭২তম, মায়ানমার ৭৭ ও শ্রীলংকা ৮৪তম।

এ বিষয়ে সিপিডির সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, বাংলাদেশে গত কয়েক বছর যাবৎ মানব উন্নয়ন বিশেষ করে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বরাদ্দ কমানো হয়েছে। সামাজিক খাদ্য নিরাপত্তায় অতিদরিদ্র শ্রেণীর জন্য বরাদ্দ পর্যাপ্ত নয়। এখানকার খাদ্য গ্রহণের হিসাব করা হচ্ছে সামষ্ঠিক মাত্রায়। এই হিসাবে প্রকৃত খাদ্য নিরাপত্তার চিত্র উঠে আসছে না। আসলে সামাজিক ক্ষেত্রের উন্নয়নে নজর দেয়া হচ্ছে না।

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০১৭ সালে দেশে চাল উৎপাদন হয়েছে ৩ কোটি ৮৬ লাখ টন। চাহিদা রয়েছে ৩ কোটি ৫০ লাখ টন। এ হিসাবে দেশে চালে উদ্বৃত্ব দেশ।অন্যদিকে দেশে মাংশের চাহিদা রয়েছে ৭১ লাখ ৫৪ হাজার টন। এটিও পূরণ হয়েছে। দেশে মাছের চাহিদা রয়েছে ৪০ লাখ ৫০ হাজার টন। এক্ষেত্রেও দেশে মাছ বেশি উৎপাদন হয়েছে ৮৪ হাজার টন । সব মিলিয়ে দেশ খাদ্যে স্বংয় সম্পূর্ণ হলেও ক্ষুদা দূর হচ্ছে না।

বৈশ্বিক ক্ষুধার রিপোর্টটি প্রস্তুত করা হয় প্রধানত, অপুষ্ঠি শিশুর উচ্চতা হ্রাস, শিশুমৃত্যুর হার, বয়সের তুলনায় কম বৃদ্ধি ও শিশু পাচার এধরনের কয়েকটি সূচকের ভিত্তিতে। সরকারের সমীক্ষার রিপোর্ট অনুযায়ী দেশে দারিদ্র রয়েছে মোট জনসংখ্যার ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ।

অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, এই জনগোষ্ঠির দারিদ্রতা কমে গেলে ক্ষুধার বিষয়টিও কমে যাবে। কারণ বাংলাদেশ মানব উন্নয়নে বেশ অগ্রগতি সাধন করেছে।

 

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ