প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

সংলাপ নিয়ে বিএনপি উদ্যোগে কোনো লাভ হবে না : আহমদ আযম

শাহানুজ্জামান টিটু : সরকারের সঙ্গে সংলাপ নিয়ে বিএনপি উদ্যোগ নিলে তাতে কোনো লাভ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন দলটির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম। বলেন, এই মুহূর্তে কার্যকর সংলাপের প্রশ্নে বা কার্যকর উদ্যোগের প্রশ্নে অবশ্যই ওবায়দুল কাদেরকে টেলিফোন করতে হবে অথবা চিঠি দিতে হবে। বিএনপির মহাসচিব চিঠি দিলেও লাভ নেই। কার্যকর কিছুু হবে না। টেলিফোন করলেও কিছু হবে না। যদি বলেন বিএনপিকে ফোন করতে হবে। এটার অর্থ হচ্ছে সংলাপকে পাশকাটিয়ে যাওয়া বা এড়িয়ে যাওয়া। শনিবার এক প্রতিক্রিয়ায় বিএনপির এই নেতা এসব কথা বলেন।

আহমদ আযম বলেন, এখানে মির্জা ফখরুল টেলিফোন করলে কিছু হবে না। যদি ওবায়দুল কাদের ফোন করেন, যে আসেন আমরা বসি তখন হয়ত মহাসচিব বলতে পারেন অব্যশই বসবো, কোথায় বসবো, কখন বসবো, সময় ও স্থানটা বলেন। আমার কত সদস্য থাকবে আপনার কত সদস্য থাকবে। আমরা বসবো। আলোচনা করলেই আস্তে আস্তে সমস্যার সমাধান হয়। একবারে তো হবে না। আলোচনার টেবিল যারা বন্ধ করে দেয় তারা তো গণতান্ত্রিক নয়।
বিএনপির এই নেতা বলেন, যেহেতু ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির সঙ্গে কথা বলতে পারি কিন্তু আনুষ্ঠানিক আলোচনার সুযোগ নাই বা প্রয়োজন নাই। এটা কি জাতির সঙ্গে তামাশা হলো না? নির্বাচন প্রশ্নে বিএনপির সঙ্গে আপনি কথা বলবেন না, তাহলে কার সঙ্গে কথা বলবেন। বিএনপিই তো বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক দল। কাজেই কার্যকর নিবার্চন করতে হলে তো বিএনপির সঙ্গেই আলোচনা করতে হবে।

আহমদ আযম বলেন, এই যে কতৃত্ববাদি ও অগণতান্ত্রিক মানুষিকতা এটাই স্বচ্ছসুষ্ঠু নির্বাচনের প্রধান অন্তরায়। একটা কতৃত্ববাদি সরকারের যেনতেন নির্বাচন করার আভাস দেয় বা পরিকল্পনা। তারা বলে বিএনপির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনা করবো না। একটা সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে বিএনপির সঙেগ সিরিজ বৈঠক হতে পারে। কিভাবে একটা সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন হতে পারে। প্রয়োজনে দেশের প্রতিটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বৈঠক হতে পারে। যারা যারা বৈঠক করতে চায়।

তিনি বলেন, আসলে ব্যাপারটা হচ্ছে, বৈঠক করলেই তো একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ হবে। আর পরিবেশ হলেই তো আওয়ামী লীগের ভোট নাই। এই আতঙ্কে তারা আবারো একটা ৫ জানুয়ারি নির্বাচন চায়। এজন্য এ ধরণের অসংলগ্নতা এবং নানা ছলচাতুরি।

বিএনপির এই নেতা বলেন, একটা গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে একটা গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে সেই দেশের যেকোনো রাজনৈতিক দল বা যেকোনো পেশাজীবী দল, সামাজিক সংগঠন তাদের নির্বাচনসহ যেকোনো উদ্বেগ নিয়ে কথা বলতে চাইলে সেই গণতান্ত্রিক সরকারের দায়িত্ব ও কতর্ব্য এসে যায় তাদেরকে ডেকে বসা। যে তাদের উদ্বেগের কারণ কি, আপনারা কি মনে করছেন, তাদের সঙ্গে আলোচনা করা।

তিনি বলেন, কিন্তু এই সরকারকে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল গত সাড়ে চার বছরে সংলাপ নিয়ে কথা বলার পরেও তা প্রত্যাখান করে। ফলে এই সরকার গণতান্ত্রিক কোনো সরকার নয়, স্বেচ্ছাচারি তত্ত্ববধায়ক।
আহমদ আযম বলেন, ওবায়দুল কাদের বললেন, যেকারোর সঙ্গে যেকোনো সময় কথা বলা যায়। আমি ভাবলাম বোধদয় হচ্ছে। আপনি আলোচনা করলেই সব মেনে নেবেন এটা তো না। তাহলে আলোচনা করতে বাঁধা কোথায়? এটাই গণতন্ত্র। এই টুকু জানা নেই এই সরকারের।

ওনি (ওবায়দুল কাদের) কি বললেন, ওনি (মির্জা ফখরুল) তো ফোন করেন না। এই যে কথাটা বললেন সেটাও এক ধরণের অগণতান্ত্রিক কথা। সরকারি দলের মহাসচিবকে যদি বিরোধী দলের মহাসচিব ফোন করেন সেইখানে কি কার্যকর কিছু হবে প্রশ্ন তোলেন আহমেদ আযম।

তিনি বলেন, সাড়ে চার বছর আলোচনার প্রস্তাব বিএনপির সকল পর্যায় থেকে দেওয়া হচ্ছে। তারা ডাকে না। একটা ফোন করলেই হবে ? ফোনটা করতে হবে। আলোচনার জায়গা ঠিক করতে হবে। সময় ঠিক করতে হবে সরকার এবং সরকারি দলের যিনি সাধারণ সম্পাদক তাকে করতে হবে। কথায় কথায় তাদের কর্তৃত্ববাদি চরিত্র ফুটে উঠছে।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ