প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

বহুযুগের বাধা অতিক্রম করে পাকিস্তানে নারীদের ভোট প্রদান

আনন্দ মোস্তফা: পাকিস্তানের ১১তম সাধারণ নির্বাচনে সাড়ে দশ কোটি ভোটরের প্রায় ৪৫ শতাংশ ভোট দিয়েছেন। উৎসব আমেজের মধ্যে নতুন সরকার নির্বাচনে অনুষ্ঠিত ভোটে ইতোমধ্যেই সাবেক ক্রিকেটার ইমরান খানের তেহরিক-ই-ইনসাফ বিজয়ী হয়েছে।

এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল পাকিস্তানী নারীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি জায়গায় প্রথমবারের মতো ভোট দিয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন এই গোঁড়া মুসলিম দেশটির নারীরা।

উল্লেখ্য, পাকিস্তানের বিভিন্ন এলাকায় নারীদের ভোট দেয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যেখানে ঘরের কাজ ছাড়া তাদের তেমন কিছু করার অনুমতিও নেই সেসব এলাকায়ও নারীরা ভোট দিয়েছেন।

পাকিস্তান স্বাধীনতার পর এই প্রথম পাঞ্জাবের খুহাব এলাকার একটি গ্রামের নারীরা প্রথমবারের মতো নির্বাচনে ভোট দিয়েছেন। ইতিহাস গড়েছেন খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের আপার দিরের নারী ভোটাররাও। তারাও প্রথমবারের মতো ভোট দিয়েছেন।

উত্তর ওয়াজিরিস্তানের সরকারি প্রশাসক মোহাম্মত আয়াজ খান বলেন, ‘উপজাতি অধ্যুষিত এলাকার নারীরা প্রথমবারের মতো ভোট দিয়েছেন।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আজ ইতিহাস সৃষ্টি করেছি। এই প্রথমবারের মতো নারীরা বাড়ির বাইরে বেরিয়ে এসে ভাদের ভোট দিয়েছে।’

দক্ষিণ ওয়াজিরিস্তানের স্থানীয় প্রশাসকও প্রথমবারের মতো নারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের কথা জানিয়েছেন। তিনি জানান, নারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের হারও আশাব্যঞ্জক।

এছাড়া বাদিন ও মিথি এলাকাতেও নারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের হার বেশি দেখা গেছে।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন জানিয়েছে, নির্বাচনি প্রচারণায় রাজনৈতিক দল ও ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলো নারীদের ভোটদানে উৎসাহিত করার ফল পাওয়া গেছে।

তবে খাইবার পাখতুনপোখওয়ার কিছু এলাকার স্থানীয় জিরগা (গ্রাম আদালত) নারীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে রেখেছে।

উল্লেখ্য, বিভিন্ন বিধিনিষেধের কারণে রক্ষণশীল পাকিস্তানের গ্রামাঞ্চলে নারীরা সাধারণত তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন না। যদিও এর আগে নির্বাচনগুলোতে শহরাঞ্চলে নারী ভোটারদের উপস্থিতি বেশ সন্তোষজনক ছিল। সিএনএন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ