প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

তিন সিটি নির্বাচনে বড় কোন দলের নারী মেয়র প্রার্থী নাই

এ কে এম শফিকুল ইসলাম : বাংলদেশে আসন্ন তিন সিটি নির্বাচনে বড় দল আওয়ামী লীগ বা বিএনপি কারোরেই নারী মেয়র প্রার্থী নাই। কী তার কারন। তারা বলবে যে নারী ঐ ভাবে এখন যোগ্য হয়ে ওঠেনি।

আমরা যাদেরকে ইন্টারভিউ নিয়েছি এবং প্রার্থীসহ ওপেন রেখেছি। ঐ খানে কোন মহিলা প্রার্থী হয়ে আসেনি।

আগামী ৩০ শে জুলাই হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের তিনটি সিটি কর্পোরেশনে মেয়র নির্বাচন। একই সাথে হবে স্থানীয় সরকারের কাউন্সিলার পদে নির্বাচন। কিন্তু দেখা যাচ্ছে এই তিন সিটি নির্বাচনে বড় দল আওয়ামী লীগ বা বিএনপি কারোরেই নারী মেয়র প্রার্থী নেই। কাউন্সিলর পদে অবস্থা অনেকটা একই রকম। কেন বড় দলগুলো নারীদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী করছে না। দলের মনোয়ন পাওয়ার ক্ষেত্রে কী ধরনের সমস্যায় পরতে হচ্ছে নারীদের।

রাজশাহী জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মর্জিনা পারভীন। তিনি ত্রিশ বছর ধরে রাজনৈতিক করেন। কোন বারেই তিনি এই সিটি কর্পোরেশনে মেয়র পদে দলের মনোয়ন পাননি। কিন্তু কেন? প্রশ্নের জবাবে,মর্জিনা পারভীন বলেন, তাদের কাছে প্রশ্নটি আবডে করে দেন। তারা বলবে যে নারী ঐ ভাবে এখনো যোগ্য হয়ে ওঠেনি। আর সুযোগ না দিলে একটি কথা বলি সুযোগ না পান তাহলে সেটা আপনার দ্বায়িত্ব কী ভাবে প্রতিযোগীতা করবেন। কী ভাবে আপনি দ্বায়িত্ব পান সেটার যে যোগ্য কী ভাবে বুঝবেন। আপনি যে যোগ্য সেটার সুযোগ তো থাকা লাগবে। যে দেখা যায় তাতে পুরুষে দৃষ্টিতে নারীরা যোগ্য নয়। আসলে পরুষরা ঐ জায়গাটায় নারীদের চায় না। তারা অভস্থ নয়। মর্জিনার ভাষায় সুযোগের অভাবে যোগ্য নারী রাজনৈতিক কর্মী প্রার্থী হতে পারে না।

রাজশাহীর প্রধান দু’দলের মেয়র প্রার্থী পুরুষ। জেলায় ওয়ার্ড রয়েছে ৩০ টি। এর মধ্যে ১০ টা সংরক্ষিত মহিলা আসন। বাকি গুলোর মধ্যে একজন নারী স্বতন্ত্র প্রার্থী যার প্রতিদ্বন্দ্বী পুরুষ প্রার্থী। বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, তাদের দলের কাছে কোন নারী মেয়র প্রার্থী হওয়ার জন্য আবেদন করেনি।

আমরা যাদের ইন্টারভিউ নিয়েছি তাদের প্রার্থীসহ তাদের ওপেন রেখেছি। তারা করতে পারে। কোন মহিলা প্রার্থী হয়ে আসে নাই। এটা দুর্ভাগ্যজনক বলতে পারেন। আসলে আমাদের নিকট কেউ ঐ ভাবে আসে না। এই যে তাদের কে অন্তভুক্তকরাটা রাজনৈতিক ভাবে নির্বাচনে প্রক্রিয়া।

সিলেট মেয়র প্রার্থী রয়েছেন সবই পুরুষ। ২৭ টি ওয়ার্ডের মধ্যে সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলার রয়েছে ৯ টি। ১টি আসনে রয়েছে স্বতন্ত্র প্রার্থী একজন নারী। তিনি একারণে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে দাঁড়িছেন । পরবর্তিতে নারীরাও ভোটের রাজনৈতিকে প্রার্থী হয়ে আসতে পারে।

নিলুফা ইয়াসমিন লিপি বলেন, আমি এগিয়ে এসেছি।আগামীতে অনন্য মহিলারাও নির্বাচনে এগিয়ে আসবেন।

তিনটি সিটি নির্বাচনে মধ্যে বরিশালেও আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পুরুষ মেয়র প্রার্থী । একমাত্র নারী মেয়র প্রার্থী রয়েছে বাংলাদেশ সমাজ তান্ত্রিক দল।

বাংলদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ন-সম্পাদক মাহবুবুল হানিফ নিকট জানতে চাচ্ছিলাম নারীদের মনোয়ন দেওয়ার ক্ষেত্রে কেন অনিহা দেখান।

মাহবুবুল হানিফ বলেন, নারীরা যদি প্রার্থী হয়ে এগিয়ে না আসে, তাহলে আমরা কী ভাবে প্রার্থী করবো। তারা দলের নিকট মনোয়ন চাইবেন। তারা দলের নিকট প্রার্থী হয়ে আসতে হবে।

সংবিধান অনুযায়ী নারীদের জন্য কাউন্সিলার পদে সংরক্ষিত আসন রয়েছে প্রতি জেলায় তিনটি ওয়ার্ডে ১টি করে । এছাড়াও মেয়রসহ বাকী কাউন্সিলার নারীদের প্রতিদ্বন্দ্বী করতে হয়।

তৃণমূল প্রর্যায়ে নারীরা বলছেন সুযোগের অভাবে যোগ্যতা বা মনোনয়ন পাচ্ছেন না। বড় রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত হয় নারীরা ভোটের জন্য নিজেদের তৈরি করছে না। আবার অনেকে প্রার্থী হতে আগ্রহী হচ্ছে না। সূত্র: বিবিসি বাংলা

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ