প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

প্রধানমন্ত্রী ইমরানের সামনে চ্যালেঞ্জ

মাসুম খলিলী : পাকিস্তানের এক কালের সাড়া জাগানো ক্রিকেট অধিনায়ক ইমরান খান বিশ্বের আলোচিত এই দেশটির সরকার চালানোর নতুন ইনিংস শুরু করতে যাচ্ছেন। দেশটির সাধারণ নির্বাচনে অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে ইমরান খানের পিটিআই নিশ্চিতভাবে সরকার গঠনের মতো আসনে জয়ী হয়েছেন। ঘোষিত ফলাফল অনুসারে ইমরান খানের পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ ১১৭টি, পাকিস্তান মুসলিম লীগ-নওয়াজ ৫৯ টি, পাকিস্তান পিপলস পার্টি ৪১ টি, স্বতন্ত্র প্রার্থী ১৯ টি, মুত্তাহিদা মজলিস-এ-আমল ১১ টি, এমকিউএম ৫টি, বিএনপি ৫টি, পিএমএল-কিউ ৪টি, পিপিপি ৩টি এবং জিডিএ ৩টি আসনে আসনে জয়ী হয়েছে। সাময়িক ফল অনুসারে, প্রদেশগুলোর মধ্যে পাঞ্জাবে পিটিআই এবং পিএমএল নওয়াজ সমান সংখ্যক ১১৩টি আসনে জয়ী হয়েছে।

২৮টি আসনে জয়ী হয়েছে স্বতন্ত্র সদস্যরা। ক্ষুদ্র কয়েকটি দল ও স্বতন্ত্র সদস্যদের সমর্থনে এখানে পিটিআই সরকার গঠন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিন্ধুতে বরাবরের মতো ৭৩টি আসনে জয়ী পিপলস পার্টি সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। পিটিআই ২২ আসন নিয়ে সেখানে বিরোধি দলে বসবে। খায়বার পাখতুন খোয়ায় ৬৬টি আসন পেয়ে পিটিআই এককভাবে সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। এমএমএ ৯টি আসন পেয়ে বিরোধি দলে বসবে। বেলুচিস্তানে আঞ্চলিক দল বিএপি সর্বাধিক ১২টি আসনে জয় পেয়েছে। সেখানে এমএমএ পেয়েছে ৮টি, বিএনপি ৬টি, স্বতন্ত্র ৫টি, পিটিআই ৪টি এবং অন্যরা ৯টি আসনে জয় পেয়েছে। এখানে কোয়ালিশন সরকার হতে পারে।

ইমরানের রাজনৈতিক বক্তব্য বা আদর্শের সাথে মুসলিম লীগের বড় রকমের কোন পার্থক্য নেই। পার্থক্য হলো দুর্নীতি, ন্যায়বিচার ও স্বচ্ছতার ব্যাপারে বক্তব্যে। মুসলিম লীগ অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে ভালো করেছে। কিন্তু তাদের নেতাদের ব্যাপারে দুর্নীতির বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ রয়েছে বলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে। খায়বার পাখতুন খোয়ায় পিটিআই সরকারের ব্যাপারে সেই অভিযোগ নেই। ইসলামিস্টরা এবার আলাদা জোট গঠন করে তেমন আবেদন সৃষ্টি করতে পারেননি বলে সাধারণ পাকিস্তানীরা ইমরানের মধ্যে বিকল্প খুঁজে নিয়েছেন। ইমরান খান ছাড়া বাকি সব দলের নেতারা এবারের নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির কথা বলেছেন। শাহবাজ শরীফতো বলেছেন এমন নোঙরা নির্বাচন পাকিস্তানে আর হয়নি। নির্বাচন কমিশনের চেয়ারম্যান অবশ্য এ সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অভিযোগ অনুসারে সেনা বাহিনীর হস্তক্ষেপ সক্রিয় ছিল নির্বাচনে। নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষণ অনুসারে, পাকিস্তানে সাধারণভাবে যে মানের নির্বাচন থাকে এবার তার ব্যতিক্রম কিছু হয়নি। ফলে হেরে যাওয়া রাজনৈতিক দলগুলো যতই আন্দোলনের কথা বলে সমর্থকদের উত্তেজিত বা শান্ত করতে চেষ্টা করুক না কেন এক সময় এই উত্তেজনা আর থাকবে না। এর মধ্যে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এগুবে ইমরান খানের। ইমরানকে ১৩৭ সদস্যের সংখ্যাগরিষ্টতার জন্য স্বতন্ত্র সদস্য এবং কয়েকটি ছোট দলের সমর্থন পেতে হবে। এরপর সংরক্ষিত আসনে নির্বাচন গেলে সংখ্যাগরিষ্টতা নিয়ে তাকে খুব বেশি বেগ পেতে হবে না। ইমরানের আসল চ্যালেঞ্জ অর্থনীতিতে

ইমরান খানকে অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে মূল চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে অর্থনীতি নিয়ে। গত কয়েক মাস ধরেই অর্থনৈতিক পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে। রুপির মান দিন দিন অবনতির দিকে যাচ্ছে। রিজার্ভের পরিমাণ কমে এরই মধ্যে ৯.৬ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। যা দিয়ে কোন রকমে এক মাসের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ করতে না পারায় চীন পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের বেশ কয়েকটি প্রকল্পের কাজ বন্ধ গেছে। ফলে ইমরানকে শুরুটা করতে হবে অবশ্যই দেশের অর্থনৈতিক শক্তি ফিরিয়ে আনার মধ্য দিয়ে। রুপির অবমূল্যায়ন এবং বিদেশী মুদ্রার রিজার্ভ সঙ্কট ঠেকাতে জরুরি পদক্ষেপ নিতে হবে।

অর্থনৈতিক সঙ্কট উত্তরণের জন্য নতুন সরকারকে চীনের সাথে সমঝোতার প্রক্রিয়ায় যেতে হবে। অথবা ধর্ণা দিতে হবে আইএমএফ’র কাছে। নওয়াজ সরকারের সাথে চীনের যে সমঝোতা হয়েছিল সম্ভবত পরে তা নিয়ে কিছুটা দূরত্ব তৈরি হয়। এতে অর্থনৈতিক করিডোরের কাজে স্থবিরতা দেখা দেয়। এর পথ ধরে অর্থনৈতিক সঙ্কটের শুরুটা আসে।

পরিচিতি: সিনিয়র সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক বিশ্লেষক/ফেসবুক থেকে

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ