প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

‘আমরা নিষ্ঠুরতা ও নির্মমতার চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে গেছি’

মাহবুবুল ইসলাম: বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. তাজুল ইসলাম বলেছেন, পায়েল নামের মেধাবী ছাত্রটি আহত হবার পর তাকে হাসপাতালে না নিয়ে পানিতে ফেলে দিল। রাস্তায় বাস চালকদের অরাজকতা, বেপরোয়া গাড়ি চালানো এসব সমাধানের আগে দেখতে হবে এগুলো কারা করছে। একেবারে অশিক্ষিতরাই গাড়ির চালক হয়। এদের মাঝে অনেকেই আবার খুব সাহসী হয়। তারাই মাদক ব্যবসা করে এবং বিভিন্ন রাহাজানিতে যুক্ত থাকে। সেখান থেকেই কিছু অংশ গাড়ি চালকের পেশায় আসে।

পরিবহনে যারা চালক কিংবা হেলপার আছে তাদেও অনেকেই খুবই উগ্র এবং তাদের ব্যবহার খুবই খারাপ। বাসে লেখা থাকে “বাসের স্টাফদের সাথে ভালো ব্যবহার করুন, ভদ্রতাই বংশের পরিচয়” যারা এসব কথা বলে তাদের মুখে চুনকালি দেওয়া উচিত। বরং সেখানে লেখা উচিত “বাসের যাত্রীদের সাথে দয়াকরে স্টাফরা ভালো ব্যবহার করবেন”। কারণ, বাসের যাত্রীরা হচ্ছে স্টাফদের অতিথি। আমরা যারা বলি রিকশা, বাস চালকরা খুবই দরিদ্র হয় অসহায় হয়। এসব কথা মূলত তারাই বলে যারা এসি গাড়িতে চলে। যারা বাসে ও রিকশায় চলে তারাই জানেন সাধারণ মানুষের সাথে চালকেরা কি আচরণ করে। সড়কে চালকদের বেপরোয়া গাড়ি চালানো ও সাম্প্রতিককালে ঘটে কয়েকটি নির্মম ঘটনা নিয়ে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. তাজুল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা এমন স্তরে পৌছেছি, মানবিকতার লেশ মাত্র আমাদের ভিতরে নাই। আমরা নিষ্ঠুরতা ও নির্মমতার চূড়ান্ত পর্যায়ে চলে গেছি। বাসে একটি মেয়ে উঠলে তাতে ধর্ষণ কিংবা গাড়িতে কারো সাথে কথা কাটাকাটি হলে তাকে হত্যার মত ঘটনা তারা ঘটাতে দ্বিধাবোধ করে না। এক্সিডেন্ট করলে ভিক্টিমকে হাসপাতালে না নিয়ে তারা বরং ভিক্টিমের উপর দিয়েই গাড়ি চালে পালিয়ে যায়। এটা হচ্ছে তাদের মূল চরিত্রের বৈশিষ্ট।

অধ্যাপক ডা. মো. তাজুল ইসলাম বলেন, ট্রাফিক পুলিশ গাড়ি আটকিয়ে গাড়ির কাগজ পত্র দেখে এবং চেক করে, কিন্তু চালকের বয়স ও প্রশিক্ষণপত্র আছে কি না তার দিকে নজর দেয় না। তাদের দেখা উচিত ড্রাইভারের বয়স কত এবং তার প্রশিক্ষণপত্র আছে কিনা। তিনি বলেন, আমাদের পুলিশ প্রতিদিনই গাড়ি আটকিয়ে টাকা খায়। কিসের জন্য টাকা খায় ? গাড়ির কাগজ পত্র না থাকার জন্য। অথচ গাড়ির তো কাগজপত্র থাকেই না বরং গাড়িতে যে অপ্রাপ্ত বয়স্ক চালক বসে আছে তারা সেদিকে নজর দেয় না। সে ড্রাইভারের নিকট কাগজপত্র চায় কিন্তু ড্রাইভারটা কে, তা কিন্তু দেখে না। সে বলেওনা তুমি বাচ্চা ছেলে কিভাবে গাড়ি চালাচ্ছ। ঢাকা শহরে যে সকল বাসে আমরা উঠি, প্রতিটি গাড়িতেই অপ্রাপ্ত বয়সের চালক দেখতে পাই। তারা আসলে হেহলপার কিন্তু চালকের আসনে বসেছে। একেবারে প্রশিক্ষণহীন, বোধ বুদ্ধি নাই এমন সব চালক দিয়ে গাড়ি চালানো হয়। নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেছিলেন যারা গরু-ছাগল চিনে, তাদেকেই লাইসেন্স দেওয়া যায! বাংলাদেশে গাড়ি চালকেরা গরু ছাগলই চিনে, এরা মানুষ চিনে না। এরা গাড়িতে করে যাদেরকে বহন করে তাদেরকে গরু ছাগলই মনে করে। এরা মানুষকে মানুষ মনে করে না। তারা মনে করে মানুষের উপর দিয়ে গাড়ি উঠিয়ে দিলে কোন সমস্যাই নেই।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত