প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

কারা ঢুকছে ইমরানের জোট সরকারে?

ডেস্ক রিপোর্ট:  সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ (পিএমএল-এন) পরাজয় স্বীকার করার মধ্য দিয়ে সরকার গঠনের পথ একেবারে সুগম হয়ে গেলো ইমরান খানের তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) সামনে। নির্বাচনের ফলাফলে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের আসন লাভ করলেও পিটিআইকে সরকার গঠনের জন্য গড়তে হচ্ছে জোট। সেই জোট গঠনেরই তোড়জোড় শুরু হয়েছে এখন দলটিতে।

এ নিয়ে শুক্রবার (২৭ জুলাই) ইসলামাবাদের বানি গালা এলাকায় দলীয় প্রধান ইমরান খানের বাসভবনে বৈঠকে বসেন পিটিআই নেতারা। সেখানে কেন্দ্রীয় নেতারা ইমরান খানকে সরকার গঠনের জন্য জোটসঙ্গী নিশ্চিত করার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেন।

নির্বাচন কমিশন থেকে প্রাপ্ত সবশেষ ফলাফল অনুযায়ী, ২৭২টি সংসদীয় আসনের মধ্যে পিটিআই ১১৮টি আসন জিতে নিয়েছে। অন্যদিকে নওয়াজের পিএমএল-এন ৬৩ আসনে এবং বেনজির ভুট্টোর পুত্র বিলাওয়াল ভুট্টোর নেতৃত্বাধীন দল পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) জিতেছে ৪৩টি আসনে। সরকার গঠন করতে প্রয়োজন ১৩৭ আসনের। সে হিসেবে ইমরানের দলের প্রয়োজন আরও ১৯টি আসন।

পিটিআই নেতারা দলের চেয়ারম্যান ইমরানকে বলেছেন, সরকার গড়তে তাদের সমর্থন মিলবে পাকিস্তান মুসলিম লিগ-কায়েদি (পিএমএল-কিউ), আওয়ামী মুসলিম লিগ (এএমএল), বেলুচিস্তান ন্যাশনাল পার্টি (বিএনপি) ও বেলুচিস্তান আওয়ামী পার্টির (বিএপি)। এই দলগুলোর মধ্যে পিএমএল-কিউ’র আছে পাঁচটি এবং এএমএল, বিএনপি ও বিএপির আছে দুই বা ততোধিক করে আসন। এছাড়া চার আসন জিতে নেওয়া মুত্তাহিদা কাউমি মুভমেন্টের নেতাদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। এর বাইরে যে স্বতন্ত্র সদস্যরা নির্বাচিত হয়েছেন, তাদের মধ্যে ১২ জনের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রাখছে পিটিআই। এদের সবার সমর্থন মিললে সরকার গঠনের জন্য ১৩৭ আসন তো হবেই, ১৪০-১৪২ আসনও ছাড়িয়ে যেতে পারে।

এই দলগুলোর বেশিরভাগই ধর্মীয় এবং আঞ্চলিক। ১৯৯২ বিশ্বকাপজয়ী ইমরানের প্রায় দু’দশকের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে তাকে ধর্মীয় দলগুলোর সঙ্গে উঠতে-বসতেই দেখা গেছে বেশি।

নির্বাচনের আগে কেউ কেউ ইমরানের দলের সঙ্গে বিলাওয়াল ভু্ট্টোর পিপিপির ঘনিষ্ঠতা দেখলেও ফলাফল পরবর্তী দূরত্বই প্রকাশ হয়েছে। এমনকি নওয়াজের দলের সঙ্গে সুর মিলিয়ে খোদ বিলাওয়ালই ফলাফল ‘প্রভাবিত’ বলে উল্লেখ করেন। পিটিআই জোট গড়তে চাইলে পিপিপি আগ্রহ দেখাতে পারে বলে যে গুঞ্জন ছড়ায়, এই মন্তব্যে সেটাও উড়ে যায়।

সেই গুঞ্জনকে একেবারে বাতাসে মিশিয়ে দিয়ে পিটিআই এর মুখপাত্র ফাওয়াদ চৌধুরী সংবাদমাধ্যমকে বলেন, সরকার গঠনের জন্য আমাদের হাতে প্রয়োজনীয় আসন আছে। পিপিপির সমর্থনের প্রয়োজন হবে না।

দলের তথ্য সচিব নঈমুল হক বলেন, আগামী দু’দিনের মধ্যে আমরা জোটের ঘোষণা দেবো। আমাদের সঙ্গে কারা থাকছে তাদের কথাও জানিয়ে দেবো।

এদিকে, নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ তুললেও শেষ পর্যন্ত শুক্রবার পরাজয় স্বীকার করে নেয় পিএমএল-এন। তারা জানায়, গণতন্ত্র সুদৃঢ়করণের স্বার্থে পরাজয় মেনে নিচ্ছে পিএমএল-এন। অনেক সন্দেহ সত্ত্বেও তারা বিরোধী দলের আসনে বসতে যাচ্ছে।

পিএমএল-এন ও পিপিপিসহ বিরোধীরা নিন্দা জানালেও বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতির উদ্দেশে ভাষণে ‘বিজয়’ ঘোষণা করেন ইমরান খান। সেখানে তিনি বলেন, পিটিআই জনগণের ম্যান্ডেটে দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। আমরা নেতৃত্বে যাচ্ছি। সেই সঙ্গে এটাও বলছি, আমি ক্ষমতায় গেলে সত্যিই ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক ঠিক করবো। ভারত যদি এক পা এগোয়, আমরা দুই পা এগোবো।

১৯৯২ সালের বিশ্বকাপজয়ী এ ক্রিকেটার নির্বাচনে সেনাবাহিনীর সমর্থন পেয়েছেন বলে অভিযোগ ছড়ালেও তিনি বলেন, পাকিস্তানের এ যাবতকালের সবচেয়ে স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচন হয়েছে এবার। তিনি তার ভাষণে ‘নয়া পাকিস্তান’ গড়ারও ঘোষণা দেন।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন অনুষ্ঠানের ২১ দিনের মধ্যে সংসদ সদস্যদের (এমপি) শপথ এবং স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। এমপিরা শপথ নিয়ে নিলে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের প্রধান হিসেবে ইমরান হবেন সংসদ নেতা এবং সরকারপ্রধান তথা প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিনি গঠন করবেন মন্ত্রিসভা।

সূত্র মতে, নবনির্বাচিত সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ৬, ১০ ও ১১ আগস্টের মধ্যে করতে চাইছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। যাতে ১৪ আগস্টের আগেই নতুন মন্ত্রিসভা অফিস করতে পারে এবং নতুন প্রধানমন্ত্রীর অধীনে ১৫ আগস্ট উদযাপন হতে পারে পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবস। বাংলা নিউজ ২৪।

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ