প্রচ্ছদ

সর্বশেষ খবর :

৯০ শতাংশ প্রিজাইডিং অফিসার আ. লীগ ঘরানার, নাকচ লিটনের

ডেস্ক রিপোর্ট : এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন ও মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলরাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারদের ৯০ শতাংশই আওয়ামী লীগ ঘরানার। তাদের দিয়ে ভোটের আগের রাতে নৌকায় সিলমারা এবং ভোটকেন্দ্রে ব্যালট লুকিয়ে রাখা হতে পারে, এ অভিযোগ বিএনপির প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের। তবে এ অভিযোগ নাকচ দিয়ে আওয়ামী লীগের প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘এটি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার ষড়যন্ত্র।’ শুক্রবার (২৭ জুলাই) নগরীতে নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিয়ে দুই মেয়র প্রার্থী সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
আর মাত্র দুদিন পর সোমবার (৩০ জুলাই) রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচন, তাই শেষ মুহূর্তে প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণা তুঙ্গে। নিজেদের পক্ষে ভোটারদের সমর্থন পেতে প্রার্থীরা সম্ভাব্য প্রতিন্দ্বদ্বীকে ঘায়েল করতে মরিয়া। এজন্য গণসংযোগে ভোটারদের কাছে পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন প্রার্থীরা। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মী ও প্রার্থীরাই এগিয়ে রয়েছেন।
রাজশাহীতে প্রচারণায় খায়রুজ্জামান লিটনশুক্রবার সকালে নগরীর লক্ষ্মীপুর এলাকায় গণসংযোগের সময় সাংবাদিকদের কাছে বিএনপির প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল অভিযোগ করেন, ‘নির্বাচনে প্রিজাইডিং ও পোলিং অফিসারদের ৯০ শতাংশ আওয়ামী লীগ ঘরানার। তাই তাদের মাধ্যমে ভোটের আগের রাতে নৌকায় সিলমারা ও ভোটকেন্দ্রে ব্যালট লুকিয়ে রাখা হতে পারে। এমনকি ভোটের আগের দিন প্রিজাইডিং অফিসারদের দিয়ে সিল মেরে তা কেটে বিভিন্ন জায়গায় লুকিয়ে রাখা হতে পারে। বিশেষ করে স্কুলের হেডমাস্টারের রুমে বা অ্যাসিসট্যান্ট হেডমাস্টারের রুমে।’
রাজশাহীতে প্রচারণাকালে এক ভোটারকে জড়িয়ে ধরেছেন বিএনপির প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলশুক্রবার দুপুরে নগরীর তালাইমারী এলাকায় গণসংযোগের সময় বুলবুলের এ অভিযোগকে ‘কাল্পনিক ও উর্বর মস্তিষ্কের’ বলে উল্লেখ করেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। তিনি বলেন, ‘এটি নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চক্রান্ত বা ষড়যন্ত্র। প্রথম দিন থেকে তারা এই রকম নানা অভিযোগ করে আসছে। এরইমধ্যে নানা নাটকীয় ঘটনাও তারা ঘটিয়েছে। তার মধ্যে ধরাও পড়েছে সেগুলো। এটি তাদের উর্বর মস্তিষ্ক প্রসূত। নৌকার জোয়ার দেখে এবং নির্বাচনে পরাজয় নিশ্চিত জেনে অপপ্রচার করে বুলবুল ভোটারের সহনুভূতি নেওয়ার চেষ্টা করছেন। কিন্তু এর আগে তিনি মেয়রের চেয়ারে বসে রাজশাহীর উন্নয়ন পিছিয়ে দিয়েছেন। এটা সচেতন রাজশাহীবাসী ভালোভাবে অবগত আছেন। পরাজয়ের ভয়ে তিনি উল্টাপাল্টা বক্তব্য দিয়ে বেড়াচ্ছেন।’
রাজশাহীতে প্রচারণার সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী খায়রুজ্জামান লিটনলিটন বলেন, ‘আমাদের নেতাকর্মীদের বিভিন্নভাবে নির্বাচনি পরিবেশ ও পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যাতে করে সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ভোটাররা যেন আতঙ্কিত না হন। তিনি আরও বলেন, ‘নৌকার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা আশা করছি, জনগণ বিপুলভাবে নৌকার পক্ষে রায় দেবেন, রাজশাহীতে ইতিহাস সৃষ্টি হবে।’
লিটন বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, এখনও বলছি— নির্বাচনে সেনা মোতায়েনের মতো কোনও পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। তাই সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই। তারপরও যদি নির্বাচন কমিশন মনে করে, সেনা মোতায়েন করতে পারে, সেটি তাদের ব্যাপার।’
রাজশাহীতে প্রচারণাকালে বিএনপি প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলবিএনপি ঢালাও মিথ্যাচার করছে অভিযোগ করে খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, ‘আনুষ্ঠানিক প্রচারণার প্রথম দিন থেকেই বিএনপির প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল ও বিএনপি নেতাকর্মীরা মিথ্যাচার করে আসছেন। আমরা জানতাম যে, নির্বাচনের শেষ দিন পর্যন্ত তারা মিথ্যাচার করবেন, তাই হচ্ছে। তারা ভোট ডাকাতির কথা বলছেন। ভোট ডাকাতির ইতিহাস তো তারাই সৃষ্টি করেছেন। মাগুরায় ভোট ডাকাতি হয়েছিল খালেদা জিয়ার আমলে। আমাদের ভোট ডাকাতির প্রয়োজন নেই। কারণ, আওয়ামী লীগ জনগণের দল, জনগণকে নিয়ে আমরা চলি। জনগণের ভোটে আমরা বিজয়ী হবো।’ তিনি আরও বলেন, ‘জামায়াত-শিবির যদি অরাজনৈতিক তৎপরতা না করে, তাহলে নির্বাচন স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু না হওয়ার কোনও কারণ নেই।’
রাজশাহীতে প্রচারণাকালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী খায়রুজ্জামান লিটনশুক্রবার দুপুরে নগরীর জাহাজঘাট জামে মসজিদে পবিত্র জুমার নামাজ আদায় করেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী। নামাজ শেষে জাহাজঘাট, ধরমপুর, খোজাপুর ও তালাইমারি মোড়ে গণসংযোগ করেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে, শুক্রবার সকালে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের মেয়র প্রার্থী মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল নগরীর ৬ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীপুর এলাকার কাঁচা বাজার ঝাউতলা, লক্ষ্মীপুর মোড় ও কাজিহাটাসহ বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় বৃষ্টি উপেক্ষা করে প্রচারণা চালান এবং ধানের শীষে ভোট প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। আওয়ামী লীগ প্রার্থী নির্বাচনে জোর করে বিজয়ী হওয়ার জন্য বাইরে থেকে ৫০ হাজারেরও বেশি লোক ভাড়া করে নিয়ে এসেছেন। রাজশাহীর প্রতিটি আবাসিক হোটেল ও অন্যান্য আবাসস্থল ইতোমধ্যে তারা দখল করে নিয়েছেন। রাজশাহীর সব মেস থেকে শিক্ষার্থীদের বের করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি পুলিশ ভোটের দিনের আগের রাতে ব্যালট পেপারে নৌকার পক্ষে সিল মেরে বাক্সবন্দি করে রাখার ষড়যন্ত্র করছে।’
রাজশাহীতে প্রচারণায় মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলতিনি বলেন, ‘এসব অবৈধ কার্যক্রম যেন কেউ করতে না পারে এবং করলে তা কঠোর হস্তে দমন করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। ’ সেইসঙ্গে প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে সার্চ লাইট সংযোগ দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানান তিনি। এছাড়া, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করার স্বার্থে পুনরায় সেনা মোতায়েনের দাবি জানান বুলবুল।
বুলবুল আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগ প্রার্থী ভোটের দৌড়ে পিছিয়ে থেকে নিজেকে বিজয়ী করার জন্য ভোট জালিয়াতি, কারচুপি ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য ইতোমধ্যে ছাত্রলীগ ও পুলিশকে দিয়ে পাড়া মহল্লায় বিএনপি ও ২০ দলীয় জোট নেতাদের গ্রেফতার, নির্যাতন ও ভয়ভীতি দেখানো এবং বাড়ি ছাড়া করার কাজে লাগিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘রাজশাহী একটি শান্তিপ্রিয় নগরী। এই নগরীকে কোনোভাবেই অশান্ত করতে দেওয়া হবে না। সব প্রকার সন্ত্রাস রুখে দেওয়া হবে। জনগণের নিরাপত্তা, নগরীকে একটি মেগাসিটিতে পরিণত, স্মার্ট সিটি হিসেবে রাজশাহীকে গড়ে তোলা এবং খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য ধানের শীষে ভোট দেওয়ার জন্য ভোটারদের অনুরোধ করছি।’
সূত্র : বাংলাট্রিবিউন

এক্সক্লুসিভ রিলেটেড নিউজ

সর্বাধিক পঠিত