Skip to main content

বাংলাদেশে এক নব্য হিটলারের জন্ম হয়েছে : মাহমুদুর রহমান (ভিডিও)

খন্দকার আলমগীর হোসাইন: বাংলাদেশের লড়াকু জনতা, আসসালামু আলাইকুম। আপনারা ইতিমধ্যে জেনেছেন যে, বর্তমান অবৈধ সরকারের ছাত্র নামধারী গুন্ডারা আমার প্রতি কুষ্টিয়াতে কী বর্বর হামলা চালিয়েছে এবং বাংলাদেশের যারা স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন, যারা আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে বিশ্বাস করেন, যারা মানবাধিকারে বিশ্বাস করেন এবং গণতন্ত্রে বিশ্বাস করেন, তারা আমাকে গত দু’দিনে স্যোসাল মিডিয়ার মাধ্যমে যে সমর্থন জানিয়েছেন, তার কৃতজ্ঞতা জানানোর ভাষা আমার নেই। শুধু বলতে পারি, আপনাদের এই কৃতজ্ঞতার মূল্য চুকানোর জন্য আমি আমার শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত এই আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এবং বাংলাদেশের ফ্যাসিবাদী শাসক শ্রেণির বিরুদ্ধে আমার লড়াই অব্যাহত রাখব ইনশায়াল্লাহ। আমি শুনতে পেয়েছি যে, এই লড়াইয়ের মাধ্যমে যারা আদর্শের লড়াইয়ের যারা পরাজিত হয়েছে, সেই ফ্যাসিবাদী গোষ্ঠী স্যোশাল মিডিয়ায় অপপ্রচারে নেমেছে। মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে প্রচারণা চালাচ্ছে। এসম্পর্কে কয়েকটি তথ্য আমার কাছে এসেছে। আমি মনে করছি, অসুস্থ শরীর নিয়ে এসব বিষয় জনগণের কাছে পরিস্কার করা দরকার মনে করছি। কারণ, বাংলাদেশের জনগণও লড়াই করে যাচ্ছে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে। আমরা যেমন ১৯৭১ সালে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলাম, ২০১৮ সালে দিল্লির আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করছি। এবং এ লড়াইয়ে যারা অংশগ্রহণ করছেন, আমি মনে করি, বাংলাদেশের অধিকাংশ মানুষ এ লড়াইয়ে আমার সাথী। তাদের মধ্যে যেন কোন ভুল ধারনা না থাকে সেজন্য কয়েকটি কথা আমি সংক্ষেপে বলার প্রয়োজনবোধ করছি। প্রথম কথা হলো যে, এরা অপপ্রচার চালাচ্ছে যে, আমি নাকি মুক্তিযোদ্ধাদের বিচার করা সংক্রান্ত কোন আপত্তিকর কথা বলেছি বা কিছু লিখেছি। আমি তাদেরকে চ্যালেঞ্জ করছি, তারা আমার সামনে প্রমাণ নিয়ে উপস্থিত করুক। আমার লেখা ১০টি বই বাজারে রয়েছে। সেই বইগুলো পাঠকপ্রিয়তা লাভ করেছে। সেই বইয়ের মধ্য থেকে দেখান, কোথায় আমি মুক্তিযোদ্ধাদের বিচারের কথা বলেছি? অথবা আমার বক্তব্যগুলো স্যোশাল মিডিয়ায় আছে, ইউটিউবে আছে, ফেসবুকে আছে। সেখানে আমার কন্ঠে আমাকে শোনান, কোথায় আমি কি বলেছি। অতএব, এসব অপপ্রচারে কেউ বিভ্রান্ত না হওয়ার জন্য আমি সবাইকে আহবান করছি। দ্বিতীয়তঃ তারা বলছে, যেদিন আমার বিরুদ্ধে নারকীয় আক্রমন হয়েছে, সেদিন নাকি আমি সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে কথা বলেছি। এটা একেবারেই মিথ্যা কথা। আপনারা জানেন, আমি ১২ বছর ধরে অব্যাহতভাবে লিখে যাচ্ছি, আমরা যেহেতু গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি, আমরা মানবাধিকারে বিশ্বাস করি, আমাদের বাক স্বাধীনতা থাকা দরকার, আমাদের একটা জনগণের সরকার চাই। এটা যেন দিল্লির আধিপত্যবাদে বিশ্বাসী সরকার না হয়। রক্তাক্ত অবস্থায়ও আমি বলেছি, বাংলাদেশের স্বাধীনতার যে লড়াই, সে লড়াই অভ্যাহত থাকবে এবং এ লড়াইয়ে আমি জীবন দিয়ে দিব। ধর্মীয় অধিকারের কথা বলেছি। জাতিসংঘ যেটা বলেছে ‘ফ্রিডম অব রিলিজিয়ন’ চাই। দেশের বেশিরভাগ মানুষ ইসলামে বিশ্বাসী। আমি নিজেও ইসলামে বিশ্বাসী। বর্তমান সরকার ইসলামের বিরুদ্ধে আক্রমণ করছে। যে ইসলামে আমি বিশ্বাস করি, সেই ইসলামের জন্য আমি জীবন দিয়ে দিতে প্রস্তুত রয়েছি। বাংলাদেশের কোন সংখ্যালঘু সম্প্রদায় সম্পর্কে আমি কোন কিছুই বলিনি। স্যোসাল মিডিয়াতে, ইউটিউবে অবিকৃত অবস্থায় থাকা আমার বক্তব্যের কোথাও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কোন মন্তব্য করিনি। সুতরাং যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী নয়, অন্যের স্বাধীনতায় বিশ্বাসী নয় তারাই ষড়যন্ত্রমূলকভাবে, তাদের মতামত চাপিয়ে দেয়ার জন্য এই ঘৃণ্য গোষ্ঠী এসব বলছে। তৃতীয়তঃ আমার দেশ অনলাইন সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। অনেকে জানেন। যারা জানেন না, তাদের জন্য বলছি। আমি যখন ফ্যাসিবাদের কারাগারে বন্দী হই, তখন ৩৫টি অনলাইন বন্ধ হয়। পরবর্তীতে সরকার বলেছিল, আবার চালু করতে নতুন ভাবে অনুমতি নিতে হবে। যেহেতু আমি এই অবৈধ সরকারের ক্ষমতাতেই বিশ্বাস করি না, সেহেতু আমরা আবেদন করিনি। আবেদন করতে নিষেধও করেছি সহকর্মীদের। কেউ যদি চালায়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে চালাচ্ছে। পরিস্কার করে জেনে রাখুন, আমার দেশ অনলাইন নামে কিছু নেই। কেউ যদি কিছু থাকে, তা নিজ দায়িত্বে করছে। তার সাথে ব্যক্তিগতভাবে আমার কোন সম্পর্ক নেই বা আমার কোন সহকর্মীর কোন সম্পর্ক নেই। আমি আপনাদেরকে আশ্বস্ত করতে চাই, আমার যে লড়াই আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে, ফ্রিডম অব এক্সপ্রেসনের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য, মিডিয়া ফ্রিডমের জন্য-এটা অব্যাহত থাকবে। আমি মনে করি, বাংলাদেশের সংগ্রামী জনতা আমার কথায় একমত হবেন। ফ্যাসিস্ট সরকারের নিন্দা করবে। তারা নিন্দা করবে আমার উপরে যারা সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে তাদের। এই হামলা করে তারা প্রমাণ করেছে, বর্তমান ক্ষমতাসীন দলই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী দল। আমি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বলছি, এই সন্ত্রাসী দল সম্পর্কে সাবধান হতে। এবং এই সন্ত্রাসী দলের সাথে সকল যোগাযোগ ছিন্ন করতে। আমি জাতিসংঘকে বলব, এই সন্ত্রাসী দলের কার্যক্রম নিয়ে তদন্ত করতে। বিশেষ করে বাংলাদেশের জন্য রেপোটিয়ার নিয়োগ দিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে তদন্ত করা হোক যে, কি পরিমান অত্যাচার-নির্যাতন জনগণের উপর চলছে, কি পরিমান অত্যাচার-নির্যাতন সিভিল সোসাইটির বিরুদ্ধে চলছে, কি পরিমান অত্যাচার-নির্যাতন মিডিয়ার উপর চলছে, ভিন্নমতের উপর চলছে। সন্ত্রাসী দলের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করতে আন্তর্জাতিক তদন্ত হলে সব অপপ্রচারের অবসান ঘটবে। এবং বিশ্ববাসী জানতে পারবে যে, বাংলাদেশে এক নব্য হিটলারের জন্ম হয়েছে। জানতে পারলে সবাই এই নব্য হিটলারকে প্রতিহত করতে সচেষ্ট হবে। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ হাফেজ। https://www.youtube.com/watch?v=ctlE2wZFMjE

অন্যান্য সংবাদ